Skip to main content

Posts

Showing posts from February, 2018

আ্যটেন্ডান্স

ক্যালাস কতরকমের হয় ...... সুকুমার যে আজ আসবে না, মনেই ছিল না চান্দ্রেয়ীর। বোকার মত ভেবে বসে আছে বিয়ের গিফটটা ওকে দিয়েই কেনাবে। আজ কাজ করতে করতে ১২টা নাগাদ মনে পড়ল সেই কথা। সন্ধ্যেতে অফিস থেকে সবাই মজুমদারের বিয়ে তে যাবে, সেই গিফট কিনতে এখন নিজেকেই যেতে হবে....কি আর করা! প্রনবস্যার কে বলে, ঘনশ্যামের গাড়িটা নিয়ে সোজা উল্টোডাঙার টাইটান শো-রুম। তাড়াতাড়ি না ফিরলে প্রচুর কথা শুনতে হবে...... গাড়ী থেকে নামার সময় ফোনটা বাজল-  টুপাই । সাইলেন্ট করে, চান্দ্রেয়ী ভাবল, ঘড়িটা আগে কিনে নিই, ফেরার সময় ফোন করে নেব। দোকানে ঢুকতে ঢুকতে আবার ফোন...... একটা ম্যাসেজ পাঠিয়ে দিল চান্দ্রেয়ী- “আই উইল কল ইউ লেটার”। সাথে সাথে উত্তর-“ডিম্পু প্লীস ফোনটা ধর, খুব দরকার”। এই আবদারটা অস্বীকার করা যায় না, সারা পৃথিবীতে এই নামে ওকে একজনই ডাকে। চান্দ্রেয়ী দোকানের সোফায় বসে কল ব্যাক করল। -    কি হয়েছে কি? কিসের এত ইমারজেন্সি? -    তুই কি খুব ব্যস্ত ছিলি? -    এখন এসব কথা বলে কি লাভ? বল ... কি বলবি? -    আচ্ছা, সিক্সটি সিক্স পারসেন্ট আ্যটেন্ডান্স কি ভ...

জিন্দেগী

প্রতিদিন রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবি; ঘটনাটা ঠিক কি ঘটছে…. কি ঘটতে চলেছে….  অফিস ফেরত বাজার করে নিয়ে এসেই আমার দায়িত্ব শেষ – বাদবাকিটা মা-ই সামলে নেয়। আমার তখন পুরোটাই “মী টাইম”; বই পড়ি, ম্যাগাজিন পড়ি, ইউটিউব খুলে পছন্দমত ভিডিও দেখি, মাঝে মাঝে অনেকদিন না কথা হওয়া বন্ধুগুলোকে ফোন করি…সময়টা বেশ ভালই কাটে। আমি আর মা রাতে একসাথে খাই, সেইসময়টাতেই আমার টিভির সাথে যা সম্পর্ক- তারপর নিশ্চিন্তের ঘুম। এইরকম বেশ ছকে বাঁধা একটা নির্ঝঞ্ঝাট জীবন ছিল আমার। ইদানীং, মানে মাস চারেক, বড্ড বেশী ভাবছি, হ্যাঁ; ভাবনাটা বেশ বেশী রকমই হচ্ছে…আর একটা বেশ রোমাঞ্চকর ভালোলাগা চোরাপথে মনের ভেতরে প্রবেশ করেছে। বছর পাঁচেক হল পৌষালী মিমিকে নিয়ে চলে গেছে। মহামান্য আদালতের সহৃদয়তায় মাসে একবার মিমিকে দেখি-মানে দেখতে যাই বা দেখতে পাই, ঐ আর কি! পৌ-এর জন্য আমার মনে আর একচুলও রাগ-অভিমান-দুঃখ নেই। ওকে মোহিতের সাথে ভালো থাকতে দেখে, ভালই লাগে; মিমির নতুন বাবা, আমার থেকে অনেক ভালো….. বেশ হাল্কা আমি। **************************************** নতুন চাকরীটা খানিক না চাইতেই পাওয়া। আমি নিজেই জানতাম না, আমার দ্বারা জনগণক...

ছোটবেলা (1)

  এক যে ছিল বুড়ো আর এক যে ছিল বুড়ি।একজন হিন্দুস্কুল আরেকজন ব্রাহ্মগার্লস। স্কুলের থেকে বাড়িতেই তাদের আকর্ষণ ছিল বেশী। কারণ, বাড়ী ফিরেই বুড়ো পেত বুড়িকে আর বুড়ি বুড়োকে। রুপকথা আর কমিক্স পড়া মনে উত্তর কলকাতার পলেস্তারা খসে পড়া আদ্দিকালের বাড়িটার খড়খড়ি জানলা, কড়িবরগা, ঝুলবারান্দা সবকিছুই ভারি টানত। ছাদের ঘরের ভেতর কি আছে? সে যে কি প্রচন্ড চিন্তা!! দুপুর বেলায়, বাড়ির বড়রা ঘুমিয়ে পড়লেই পা টিপে টিপে দু জন চলল ছাদে.... ছাদের উপর ছোট্ট একটা ঘর, দুটো সিঁড়ি ভেঙ্গে কাঠের টুকরোর সাহায্যে শিকল খুলে ঢুকে ঘরের মধ্যেকার গভীর কুলুঙ্গী থেকে একদিন তারা পেয়ে যায় অরণ্যদেবের করোটী আংটি!! ভাবা যায়... বাড়ীটার সামনের দিকের সরু ঝুলবারান্দা দেখাত ট্রামলাইন আর বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে বেরোলেই পাড়ার গলি; গুল্লি, বুচানি, মামমাম, ঝাম্পু...সব বন্ধুরা মিলে কত্ত খেলা – কুমিরডাঙ্গা, ছোঁয়াছুঁয়ি, এল ও এন ডি ও এন লন্ডন....... বুড়ো-বুড়ির বিকেলটা ছিল জমজমাট। কাঠের ট্রাম, ঝুড়িভরা মাটির ঠাকুর নিয়ে হত হরেকরকমের গল্প। রবিঠাকুরের মতন বুড়ো-বুড়ির ক্লাস বসত জানলার খড়খড়ির সাথে। বুড়োর ক্লাসের সবচেয়ে ভাল ছাত্র ছিল সপ্তর্ষি আর বুড়ির ...