এক যে ছিল বুড়ো আর এক যে ছিল বুড়ি।একজন হিন্দুস্কুল আরেকজন ব্রাহ্মগার্লস। স্কুলের থেকে বাড়িতেই তাদের আকর্ষণ ছিল বেশী। কারণ, বাড়ী ফিরেই বুড়ো পেত বুড়িকে আর বুড়ি বুড়োকে। রুপকথা আর কমিক্স পড়া মনে উত্তর কলকাতার পলেস্তারা খসে পড়া আদ্দিকালের বাড়িটার খড়খড়ি জানলা, কড়িবরগা, ঝুলবারান্দা সবকিছুই ভারি টানত। ছাদের ঘরের ভেতর কি আছে? সে যে কি প্রচন্ড চিন্তা!! দুপুর বেলায়, বাড়ির বড়রা ঘুমিয়ে পড়লেই পা টিপে টিপে দু জন চলল ছাদে.... ছাদের উপর ছোট্ট একটা ঘর, দুটো সিঁড়ি ভেঙ্গে কাঠের টুকরোর সাহায্যে শিকল খুলে ঢুকে ঘরের মধ্যেকার গভীর কুলুঙ্গী থেকে একদিন তারা পেয়ে যায় অরণ্যদেবের করোটী আংটি!! ভাবা যায়...
বাড়ীটার সামনের দিকের সরু ঝুলবারান্দা দেখাত ট্রামলাইন আর বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে বেরোলেই পাড়ার গলি; গুল্লি, বুচানি, মামমাম, ঝাম্পু...সব বন্ধুরা মিলে কত্ত খেলা – কুমিরডাঙ্গা, ছোঁয়াছুঁয়ি, এল ও এন ডি ও এন লন্ডন....... বুড়ো-বুড়ির বিকেলটা ছিল জমজমাট।
কাঠের ট্রাম, ঝুড়িভরা মাটির ঠাকুর নিয়ে হত হরেকরকমের গল্প। রবিঠাকুরের মতন বুড়ো-বুড়ির ক্লাস বসত জানলার খড়খড়ির সাথে। বুড়োর ক্লাসের সবচেয়ে ভাল ছাত্র ছিল সপ্তর্ষি আর বুড়ির ক্লাসের সবচেয়ে ভাল ছাত্রী -জয়তি।
ঘরের ভেতরে বসে আওয়াজ শুনেই বুড়ো বলে দিতে পারত, কে যাচ্ছে এখন...কমলীরানী , নীল বাহাদূর না কি আ্যশকুমারী (নামগুলো ঠিক কি ছিল ভুলে গেছি – এবাব্বা) ..... আরে, আরে, ঘাবড়িও না; এইগুলো হল বুড়োর দেওয়া ট্রামের নাম।
এই বুড়োর আজ জম্মদিন যে , আর তাই তো এই বুড়ির তরফ থেকে রইল পঁচিশবার গাল টেপা, সাতান্নবার চুমু আর জাপটে ধরে আদর।
খুব ভাল থাকিস ভাই
** আমার জন্মদিনে বলেছিলি “খুব ছোটবেলায় ফিরতে ইচ্ছে করছে রে দিদি| চল একটু ছোটবেলায় ফিরে যাই|” – তাই একবার উঁকি দিলাম সেই দিনগুলোতে 

Comments
Post a Comment