Skip to main content

Posts

Showing posts from February, 2021

অভিসার

  Image Courtesy: Ananya Mukherjee  সেই যে মেঘলা দিন বয়েছিল হিমেল হাওয়া, বহু প্রতীক্ষিত ক্ষণ গিয়েছিল হয়ে পাওয়া। এক ইথার তরঙ্গ জুড়ে দিয়েছিল দুই পথ ডাক পেয়েছিল সাড়া ছিল না কোনোও শপথ। তোমার হাতের তালু আমার কপাল চিবুক ঠোঁট ত্বক ভেদ করা পরশ জমিয়েছে বন্ধ চোখ। জানলা খোলা ভোর উদ্ধত ঝাউবন 'এ মুহুর্ত অমলিন হোক না' বলেছে মন। কাঠে আগুনের ধিকিধিকি ওড়ে অভিসারী এক ধোঁয়া দূরে থেকেও অনুভূত এক গভীর ওমের ছোঁয়া।

৮ই ফেব্রুয়ারি, 2021

  রোজ অফিস থেকে ফেরার পথে মাকে ফোন করতাম, কি কি আনতে হবে জানতাম; কোনও কোনোদিন মা মেসেজ করে দিত; সেদিন – ৩০শে ডিসেম্বর; সোমবার ছিল। মা বলেছিল বিস্কুট নিয়ে আসতে। অটো করে বৈশাখীতে নেমে হাঁটতে হাঁটতে কেষ্টপুর। এসেই মনে পরল, আজ তো সোমবার, বাড়ির পাশের দোকানটা বন্ধ। বাড়ি এলাম বিস্কুট না নিয়েই। এসেই তড়পাই – তাতানকে তো বলা যেত। সবসময় আমি কেন আনব। চিরকালের ম্যানেজ করা স্বভাব মায়ের। সকালে বিস্কুটটা নাতির চাইই চাই। নো প্রবলেম; চারতলার পুলকদা কে ফোন করে বলে দেওয়া হল, আসার সময় তার দোকান থেকে যেন এক প্যাকেট বিস্কুট নিয়ে আসে। আমি তো রাজরানী টাইপ। খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পরেছি। তখন প্রায় রাত সোয়া ১১টা; তাতানের চিৎকার – ‘বুয়া মা – কি হল?’; ধরমর করে উঠে দেখি, মা দরজার সামনে পরে আছে, হাতে বিস্কুটের প্যাকেট, দরজার পর্দা রডসহ খুলে পরে আছে। পুলকদা দাঁড়িয়ে। বেল বেজেছিল, তাতান আলস্যভরে দরজা খোলে নি। মা খুলতে গিয়ে, পায়ের স্টেপ গড়বর করে, পর্দা ধরে সাপোর্ট নিতে গিয়ে –ধপাস। হাত ভেঙ্গে গিয়েছিল বোঝা যাচ্ছিল। পরে এন আর এস-এ গিয়ে জানলাম, পায়ের ফিমার বোনও ফ্রাকচারড।অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এন আর এস থেকে ক্যালকাটা হার্ট ক্লি...

৪ঠা ফেব্রুয়ারি

  কাকা বলেছিল, শ্যামবাজারের মাঝের ঘরের জানলার পাশে বসে “শকুন্তলার পতিগৃহে যাত্রা” সামনে খুলে বসলেও দাদার চোখ থাকত কুলুঙ্গির পাশের দরজায়। মেম্মা জানিয়েছিল, কাকুম নাকি মেম্মাকে বলেছিল – ‘তোর দিদি আর আমার দাদা প্রেম করছে’; তারপর থেকে তো মেম্মা নাকি পত্রবাহিকার কাজ পেয়েছিল। তখনকার উত্তর কলকাতার বাড়িতে প্রতিঘরে ভাড়াটে থাকার সময় যখন ৯৭/১, বিধান সরণীর একঘরে যশোরের অমিয় মুখার্জী তার তিন ছেলে আর মেয়ে নিয়ে বসবাস করছিলেন, সেই সময় রাজশাহীর শ্যামাতোষ বাগচি এলেন তার তিন মেয়ে এবং এক ছেলে নিয়ে থাকতে। অমিয়বাবুর বিচ্ছু বড় ছেলের মনে ধরল শ্যামাতোষবাবুর নিরীহ, শান্ত বড় কন্যাকে। শুনেছি, পৈতের দিন সে ছেলে জেদ ধরেছিল, মাতুকে না দেখলে, সে পৈতেই নেবে না। তারপর তো, শ্যামাতোষবাবু, মৃত্যুশয্যায় নিজে তার অতি প্রিয় মাতুর হাত জহরের হাতে তুলে দিয়ে গিয়েছিলেন। ’৭৬ এর ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, সরস্বতী পুজো ছিল। মন্বন্তরের জন্য উৎসব পালনের বিধিনিষেধও ছিল হরেক রকম। হয়েছিল প্রবল বৃষ্টি আর মাতু-জহরের বিয়ে। একই বাড়িতে থাকার দরুন, মা বিয়ের বহুদিন আগে থেকেই মুখার্জী পরিবারের সকলের আপন হয়ে গিয়েছিল। তাইতো আমার পিসিরা কেউ আমার মা কে ব...