Skip to main content

Posts

Showing posts with the label Mindfulness

বাস ইতনা সা খোওয়াব হ্যায়!

  ১)আচ্ছা, আপনি কি প্রতিটা দিন প্ল্যানমাফিক কাটান? মানে প্রতিটা দিনের জন্য আপনার কি বিশেষ প্ল্যান বা to do list থাকে? ২)আচ্ছা, আপনি কি দিনে কোন কাজটা আগে করবেন ভেবে রাখেন, মানে do you prioritize according to importance? ৩) আচ্ছা, আপনার ‘ভুলে যাওয়া’ স্বভাব কি প্রতিদিনের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়? মানে, কি কি করবেন ঠিক করেছিলেন, সেটা ভুলে যান প্রায়শঃই?   ৪) আচ্ছা, আপনাকে কি নাম, ঘটনা, সংখ্যা, পরিসংখ্যান মনে রাখতে হয়? উপরোক্ত সবক’টা কাজ সম্পন্ন করে আপনার কপাল, মানে, আপনার মস্তিস্কের pri-frontal cortex. কপাল খারাপ বলে একেই চাপড়ান আপনি; দেখুন তো এটা কত কাজের actually!! এই pri-frontal cortex এর একমাত্র খাদ্য হল ‘অক্সিজেন’ ঠিকমতন পরিমানে পেলে, ইনি ঠিকঠাক কাজকম্ম করে থাকেন।   তো, এইবার থেকে যখনই আপনি নিজের যাবতীয় কাজকম্মের কথা মনে করবেন বা প্ল্যান করবেন… মনে রাখবেন আপনার pri-frontal cortex চাকা ঘোরাচ্ছে আর পুড়ছে  oxygen। আপনি যদি দক্ষতার সাথে (না ভুলে), প্ল্যানমাফিক কাজ করতে চান, তাহলে বারংবার আপনার কাজ বা লক্ষ্য (goal) নিয়ে না ভেবে – একটা কাগজ পেন নিয়ে বসুন আর লিখে ফেলুন। কারণ, ক্র...

কেন তোমরা আমায় ডাক ?

  ‘কেন আমার সাথেই এমন হল?’ ‘কেন আমার সাথেই এরকম হয়?’ ‘ও কেন আমায় চিট করল?’ ‘কেন ও আমায় এইসব বলল?’ ‘কেন সে এমন ব্যবহার করল?’ ‘আমার কেন কোনও শিক্ষা হয় না…..?’ কেন? কেন? কেন? মনবাজারের ব্যাগটা খুলে দেখুন তো – ক’কেজি ‘কেন’ কিনে রেখেছেন? যখনই আমরা ‘কেন’ সহযোগে কিছু কথা বলি বা ভাবি; আমাদের ‘মন-বাবু’টি টুপ করে অতীত সাগরে ডুব দিয়ে খুঁজে আনে সেইসব সমস্ত ঘটনা – যা দিয়ে আপনি নিজেকে বা অপরকে দোষারোপ করতে পারেন। এই ‘কেন’ প্রশ্নটি আপনাকে সমস্যার কারণ ‘আপনার মতন’ করে খুঁজে দেয়। অর্থাৎ, যখনই আপনি ‘কেন’ প্রশ্ন করেন, তখনই  যেটা হয়, আপনি ভাবতে শুরু করে দেন  “সমস্যার” point of view থেকে – “সমাধান” এর নয়। দেখা গেছে, সফল ব্যক্তিরা সমস্যা সমাধানের সময় একটা অদ্ভুত ট্রিক ব্যবহার করেন। তারা তাদের মনে আসা প্রশ্নের ‘কেন’ গুলোকে ‘কি’ তে বদলে নেন। মানে, কোনও সমস্যার মুখোমুখি হলে   তারা  নিজেদেরই জিজ্ঞেস করেন –  ‘আমি এখন কি করতে পারি?’ ‘আমার যা আছে, তা দিয়ে কি করা যায়?’ ‘এই ঘটনা থেকে আমি কি শিখলাম?’ আমি কি ভাবে এই ঘটনাকে আর repeat করতে না পারি?’ ইত্যাদি ইত্যাদি। এই ‘কি’ ওয়ালা প্রশ্নগুলো ...

শেষ থেকে শুরু

  আমার কাছে যখনই কেউ পরামর্শ নিতে আসে, আমি সবসময় একটা কথা বলতে থাকি, যেটা চাইছ, সেটাকে কি মেপেছ? মানে, তুমি যদি অর্থ উপার্জন করতে চাও এবং সেটাকেই সফলতা ভাব, তাহলে তার পরিমান কত? অথবা, যদি কাউকে ভালবাস, সেটা কতটা? We have to measure our desires to achieve the same.     Stephen Covey তার লেখা “7 habits of highly effective people” বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে এক অসামান্য আইডিয়া দিয়েছেন। সেভাবে দেখলে, বেসিক আইডিয়াটা খুবই সাধারন। উনি বলেছেন – “Everything is created twice – one in your mind and then in reality”. ভেবে দেখবেন, মাটির কুঁজো দেখে কেউ না কেউ তো ভেবেছিল জল যদি যেখানে সেখানে খেতে হয়, কি ভাবে খাওয়া যাবে, তাই জন্যই জলের বোতল আজ আমাদের হাতে, এরোপ্লেনের কথাই ভাবুন না…. যদি আমরা নিজেদের জন্য একটা অনন্যসাধারণ জীবন create করতে চাই, তাহলে সবথেকে ভালো পদ্ধতি হল, সেই জীবন কেমন হবে, সেটাকে মনের খাতায় এঁকে ফেলা। Covey মনে মনে কল্পনা করতে বলেছেন –  ভাবুন, আপনি শ্মশানে আছে। দেখুন সেখানে আপনার চারপাশে কারা কারা রয়েছে, দেখার চেষ্টা করুন চারদিকে কি ঘটে চলেছে, চেক করুন আপনার সাথের মানুষদে...

নিউমেরো উনো

  আব্রাহাম ম্যাসলো – নামটার সাথে পরিচয় আছে? তিনি তার “থিয়োরী অফ হায়ারারকি অফ হিউম্যান নিডস” তত্বে লিখেছেন যে, প্রতি মুহূর্তে আমাদের কাছে দুটো সুযোগ আসে – (১) আমরা এগোবো কি না towards the growth আর (২) আমরা যেখানে আছি, সেখানেই থাকবো কি না back into safety. এই সুযোগগুলোর প্রতি পদক্ষেপ আমাদের জীবনের গতি নির্ধারণ করে। মনে করুন, আপনার সাবকনশাস মাইন্ডে একটা সুপার কম্পিউটার লুকানো আছে যেখানে মাত্র দুটো বাটন আছে: +1 আর -1; +1 প্রেস করলেই আমরা Growth এর দিকে এগিয়ে যাই আর -1 প্রেস করে আমরা বেছে নিই back into safety mode. জীবন চলতে থাকে প্লাস ওয়ান–মাইনাস ওয়ান, প্লাস ওয়ান–মাইনাস ওয়ান ……. ধরুন, কাল সকালে অ্যালার্ম বাজল, কি করবেন? ঘুম থেকে উঠে যেগুলো করা প্রয়োজন, যা ঠিক করে রেখেছিলেন করবেন… মানে, লাফিয়ে বিছানা থেকে উঠে, রেডী হয়ে হাঁটতে বেরবেন বা এক্সারসাইজ করবেন-মেডিটেশান করবেন? …. না কি, অ্যালার্ম স্নুয করে আবার শুয়ে পরবেন, যা যা ঠিক করেছিলেন করবেন বলে, ভুলে যাবেন? একদিন, একটা গোটা দিন নিজে পরীক্ষা করে দেখুন না ক’টা +1 আর ক’টা -1 পাচ্ছেন- রাতে শুয়ে গুনে ফেলুন দিকি নি কত হল +1000  না কি...

নিশিদিন আলোক শিখা জ্বলুক প্রাণে

  জীবনের সবকিছু আমাদের শেখায়। যাদের সাথে দেখা হয়, যাদের সাথে থাকা হয়, যাদের কথা ভাবা হয়, যা যা ঘটে  … সবার থেকে কিছু না কিছু শিখতে পারা যায়। বা, বলা ভালো- শিখতে পারতে হয়, শিখতে জানতে হয়। কারণ, শিখতে পারলে এইসবই আমাদের কাছে “অভিজ্ঞতা” যা জীবন চলতে সাহায্য করে। নতুবা, এগুলোই আমাদের যাবতীয় অ-সুখের কারণ।    তাই, আমাদের প্রতিটা মুহূর্তের ঘটে যাওয়া, ঘটতে থাকা ঘটনাগুলো, ঘটনার কুশীলব সকলেই আমাদের শিক্ষক।   এইসব শিক্ষকদের অবহেলা করবেন না। যখন আপনি মনের মতন চাকরি পাচ্ছেন না, বা যখন কোনও সম্পর্ক প্রশ্নচিহ্নের সামনে, অথবা যখন আপনার বিরুদ্ধে সব ঘটছে, আপনি সমস্যার সম্মুখীন, সেই মুহূর্তে এই শেখার পাঠ আরও বেশি করে মনে করুন। কবি তো বলেই গেছেন কতভাবে – “আরও বেদনা, আরও বেদনা, প্রভু দাও মোরে আরও চেতনা”… “চির পিপাসিত বাসনা-বেদনা, বাঁচাও তাহারে মারিয়া…” “আমি বহু বাসনাই প্রাণপণে চাই, বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে”….. গানগুলো শোনা হয়, গাওয়া হয়, কিন্তু অর্থটাই বোধগম্য হতে পারে না। সমস্যার সময়ে নিজের জীবনের শিক্ষাগুলোকে মনে করে ফেলতে পারলেই কিন্তু সেই পরীক্ষাটা সহজে পাশ করা হয়ে যাবে। যে সব অবস...

চৌকিদারের খবরদারি

  জানেন কি, আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে একটা প্রহরী লুকিয়ে আছে আর সারাক্ষণ ধরে সে আমাদের প্রতিটা কাজকম্মের উপর নজরদারি করতে থাকে? এই প্রহরী তিলেতিলে বেড়ে উঠেছে আপনারই চারপাশের মানুষজন, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী এবং আপনার ‘সমাজ’এর মাধ্যমে। আপনার প্রতিটা পদক্ষেপের উপর এর প্রবল আধিপত্য। আর যখন আপনি নিজে এই প্রহরীর উপস্থিতি সম্যকভাবে অনুভব করে ফেলেছেন, তখন আপনার প্রতিটা পদক্ষেপ আপনাকে মনে করাবে এই প্রহরীর জন্য সেটি যোগ্য না অযোগ্য। একটু ভেবে দেখবেন, এই যে চিন্তাগুলো আসে, সেগুলো বেশির ভাগই আপনার জন্য সত্য নয়, অন্যদের মতামত মাত্র।   মনের সবকথা মনে খুলে বলতে পারা যায় কি? শেষ কবে নিজের সত্যিটা সহজভাবে প্রকাশ করতে পেরেছেন?   শুধু মনে রাখবেন, একজন প্রহরী শুধু পাহারাই দিতে পারে, রাজা হয়ে উঠতে পারে না। আপনাকে নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা কিন্তু তার নেই (যদি না সে ক্ষমতা আপনি তাকে দিয়ে থাকেন) আর আপনি নিজেকে বদলাতে চাইলে, সে কিছুই করতে পারবে না। আপনার জীবনের এরোপ্লেনে আপনি নিজে প্যাসেঞ্জার না পাইলট – বুঝতে পারেন কি? মানে, আমি বলতে চাইছি, ধরুন, আপনি যদি ওজন কমাতে চান, বা বেশি রোজগার করতে চান বা...

আপনার সময় না সময়ের আপনি?

  আপনার কাছে পূর্ণ স্বাধীনতার অর্থ কি? আপনি কি নিজেকে স্বাধীন মনে করেন? কতগুলি তথ্য দিই। মেডিক্যাল রিসার্চ অনুযায়ী ৩৫% থেকে ৫৫% রোগের আসল কারণ হল অ-সুখ, অর্থাৎ ভালো না থাকা, আনন্দে না থাকা। দুর্ভাগ্যবশতঃ আমরা সবাই ব্যস্ত নিজেদের জীবনে, ছুটে চলেছি- তাড়া করে যাচ্ছি এমন কিছু যার সঠিক হদিশ আমাদের নিজেদের কাছেই নেই। আমি আমার কাজের সুত্রে এমন অনেকজনকে পেয়েছি, যারা বলেছেন তাদের কাছে নিজেদের সময় দেওয়ার সময়ই নেই। আপনি কি এমন একজন? "Not having enough time" and "having little time left" mean two different things and give different feelings. আপনি যখন মনে করেন, আপনার হাতে যথেষ্ট সময় নেই, ছোটাছুটির বহর বেড়ে যায়। আপনি অনেককিছু একসাথে করে ফেলতে চান। কিন্তু যখন আপনি ভাবেন, আপনার সময় খুব কম, তখন? তখন কিন্তু সবথেকে জরুরি কাজগুলো করার কথা ভাবেন, তাই নয় কি? এবং তখন এই আপনিই এক সময়ে একটা কাজই ভালভাবে করতে চান। Your Time - Your Life! কাল কিসনে দেখা!! আমি মুহূর্তে বাঁচি, আমি বুঝি প্রতিটা মুহূর্তে আনন্দে থাকলে, আমি ভালো থাকি আর এই ভালো থাকতে পারাটাই তো স্বাধীনতা – তাই নয় কি? Time ...

এ ব্যথা কি যে ব্যথা

  আপনি কি জানেন আপনার স্ট্রেসের প্রধান কারণটা যা আপনার স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে অলরেডি? চলুন একটা পরীক্ষা করা যাক।  সামনে থাকা একটা খালি গ্লাস হাতে নিন। কি মনে হচ্ছে ? কত ওজন হবে গ্লাসটার?  আচ্ছা, এইবার গ্লাসটা রেখে দিন। ওজন কত, আমি কিন্তু গ্লাস না দেখেই বলে দিতে পারি। ম্যাজিক মনে হচ্ছে কি? আসলে, গ্লাসের ওজনটা ম্যাটার করে না; যেটা করে, সেটা হল আপনি কতক্ষন গ্লাসটা ধরে আছেন।  আপনি যদি গ্লাসটা এক বা দুই মিনিটের জন্য ধরে রাখেন, তবে এটাকে মোটামুটি হাল্কাই মনে হবে, কিন্তু যদি এক ঘণ্টা ধরে থাকেন… আস্তে আস্তে হাত ব্যাথা শুরু হবে। আর যদি বলা হয়, পুরো একদিন এই ফাঁকা গ্লাস ধরে থাকতে, তাহলে? ভাবতে পারছেন কি হবে? হাত প্রায় পক্ষাঘাতগ্রস্তর মতন অসাড় হয়ে যাবে, গ্লাস আপনেআপ হাত থেকে পরে যাবে।   ভাবছেন তো, স্ট্রেসের কথা বলতে গিয়ে কি সব হাবিজাবি বলে যাচ্ছি? দেখুন, যে পরীক্ষার কথা বলছিলাম, সেখানে প্রতিটা ক্ষেত্রে কিন্তু গ্লাসের ওজন একই ছিল, কিন্তু যত বেশি সময় ধরে রাখা হচ্ছিল, তত ভারি অনুভব করা যাচ্ছিল। তাই কি না? ঠিক একই রকম ভাবে আমাদের জীবনের স্ট্রেস মানে চাপ...

যাদু দাওয়াই

  বাজারে একটা নতুন যাদু ট্যাবলেট এসেছে- যেটা আপনার হ্যাপিনেস বাড়িয়ে দেবে – জানেন কি? আমি একটা নতুন ট্যাবলেটের খবর পেয়েছি যেটা আমাদের উদ্বেগ শুধু কমাবে তাই নয়, আমাদের মানসিক সুখ ও শান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এছাড়া ওষুধটার যে যে সাইড এফেক্টগুলো রয়েছে, তা হল – এটা আপনার মধ্যে আত্মসম্মানবোধ, সহানুভূতি, আত্মবিশ্বাস ও স্মৃতিশক্তিও বাড়িয়ে দেবে।  কিন্তু একটাই মুশকিল।  ট্যাবলেটের দামটা বেশ বেশি প্রায় ৬০০ আর দিনে একবার অন্ততপক্ষে নেওয়া খুব জরুরি।  হ্যাঁ, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এই ওষুধটার জন্য দোকানদার আপনার থেকে মাত্র ৬০০ সেকেন্ড দাবী করেন। আপনি আপনার কাছে দোকানগুলোতেও এই ওষুধটির খবর নিতে পারেন।  এটি একটি ব্লকবাসটার ড্রাগ। আর নাম হল – “মেডিটেশান”। হা হা হা 600 seconds = 10 mins a day, that’s all . তাহলে, আপনি কি এটা কিনছেন ? জলদি সিদ্ধান্ত নিন। স্টক কিন্তু লিমিটেড। আমি বলে দিচ্ছি, আমি কিভাবে এটা নিই। আমি একটা শান্ত জায়গায় বসি, চোখ বন্ধ করে, নিজের দুটি ভ্রুর মাঝে মনঃসংযোগ ঘটানোর চেষ্টা করি। মনের ভাবনাগুলোকে আটকাই না। তারা নিজেদের মতন যাওয়াআসা করে। আমি শুধু জয়তিকে বলতে থাকি, আমা...

হাল্লা চলেছে যুদ্ধে!!

  শুন্ডির রাজা আজও অচেতন, হাল্লা চলেছে যুদ্ধে, আর আমরা ঘুমাই প্রতিক্রিয়ায়; স্বপক্ষে - বিরুদ্ধে। সকাল থেকে উঠে সারাদিন, তারপর সারারাত... কে কি ভাবছে, বলছে -করছে ভেবে যাই সাতপাঁচ। পুঁজি জমছে ব্যাঙ্কে আর সুগার-প্রেসার ঘরে; লাগামহীন অ্যাড্রিনালীন সর্বত্র ছিটকে পরে। মনখুলে আজ হাসতে গেলে ভরসা লাফিং ক্লাব, নিজেকে হারিয়ে ফেলার খেলায় মেতেছি আমরা সব। গুপী গাইন – বাঘা বাইন সিনেমা দেখে নি, এমন কেউ আছে কি? সিনেমার একটা গানের লাইন ‘হেডিং’ দিলাম লেখায় আর, শুরু করার সময় অনুরোধ রাখছি, আরেকটা গান মনে করার... “এক যে ছিল রাজা, তার ভারি দুখ”। এই গানটায় তিনটে প্রশ্ন করা হয়েছে– দুঃখ কীসে হয়, দুঃখ যাবে কি আর দুঃখ কীসে যায়। এবং উত্তরও দেওয়া হয়েছে (গানটা মনে করুন, নতুবা শুনে ফেলুন আরেকবার)। তো, আমি কেনই বা আজ এই কাজ করাচ্ছি আপনাদের দিয়ে, জানতে চাইবেন নিশ্চয়ই।   আরেকটা সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে মুল কথায় আসার চেষ্টা করছি। কয়েকবছর আগে আমির খানের একটা ছবি এসেছিল, অ্যাডাল্ট ফিল্ম – ‘তারে জমীন পর’, হয়তো দেখে থাকবেন। অ্যাডাল্ট বললাম, কারণ, আমি সর্বতঃ ভাবে বিশ্বাস করি, সিনেমাটির মাধ্যমে যে ম্য...

মেজাজটাই যে আসল রাজা

ডিপ্রেশনের বাংলা নাকি নিম্নচাপ ? বৃষ্টি এল। সঙ্গে কফি এক-দু’কাপ নামছে বিকেল, অল্প ভিজে রাস্তাঘাট ছাতার নীচে মিইয়ে গেল পাপড়ি চাট বন্ধুরা সব ফিরছে বাড়ি দূর থেকে . . . কেন যে আজ হিংসে হল তাই দেখে, দেখতে গিয়ে সন্ধে হল জানলাতেই আগের মতো মেঘ করেছে . .  কান্না নেই কেবল মুঠোয় বন্দী কফির একলা কাপ ডিপ্রেশনের বাংলা জানি- মনখারাপ। শ্রীজাতর বিখ্যাত কবিতা – ডিপ্রেশান নিয়ে। তবে,সত্যি বলতে কি ডিপ্রেশান মানে কিন্তু মন খারাপ নয় – এটা একটা অসুখ, মানসিক অসুখ। আমাদের ছোটবেলা থেকে শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক রকমের যত্ন নেওয়া হয়, শেখানোও হয়; কিন্তু মনের স্বাস্থ্যটা উহ্যই থেকে যায়। দাম পায় না। মন খারাপ হলে, সেভাবে শেয়ার করার জায়গাই পাওয়া যায় না। জাজমেন্ট শোনার ভয়ে নিজের মনের কথা নিজের মনেই থেকে যায়। সবার সাথে একসাথে থেকেও নিজেকে একা মনে হয়। চিকিৎসা শাস্ত্রে, ডিপ্রেশানকে মুড ডিসঅর্ডারের(মেজর ডিপ্রেশান থেকে ডিস্থাইমিয়া) লিস্টে স্থান দেওয়া হয়েছে। তো, এই মুড বা মেজাজটাই যে আসল রাজা সেটা আমরা সবাই জানলেও ক’জন মানি? মেজাজ খারাপ হলে, কি ভাবে ঠিক করা হয়? ঠিক করার ইচ্ছে কি হয়? ঠিক করা...

আপোষে পাপোশ ??

শুনছেন? আপনি কি – ১) একদম ‘না’ বলতে পারেন না?মানে, যেসব ক্ষেত্রে ‘না’ বলাটা জরুরি, সে সব ক্ষেত্রে – বলতে পারেন না? ঠোঁটে এসেও আটকে যায় – হ্যাঁ বলতে হয়? ২) আপনার সরল প্রকৃতি কি সবাই নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে? মানে, আপনি নিজে বুঝতে পারেন যে আপনাকে ইউস করা হচ্ছে? ৩) যাই কাজ করুন না কেন, কখনো প্রশংসিত হন না? ৪) সকলের কাজে আসলেও, আপনার প্রয়োজনে কাউকে কাছে পান না? ৫) সংসারে সকলের জন্য একরকম নিয়ম কানুন আর আপনার জন্য আরেকরকম? ৬) আপনার নিজের মনের কথা বলার মতন, শোনার মতন কেউ নেই অথচ সকলের বিভিন্ন সমস্যায় আপনাকেই এগিয়ে যেতে হয়।    যদি এরকম কিছু হয়ে থাকে আপনার সাথে, তাহলে ভেরি সরি, আমাকে বলতে হচ্ছে; জীবনে আপোষ করতে গিয়ে আপনি নিজেকে পাপোশ তৈরি করে ফেলেছেন। হ্যাঁ, এটা সত্যি; ছোটবেলা থেকে আমাদের শেখানো হয়, সংসারে মানিয়ে চলতে। কিন্তু কখনও শেখানো হয় না যে – এই মানিয়ে চলা যখন কোণঠাসা করে দেয়, তার থেকে বেরোনো যায় কি ভাবে। যদি মনে করেন, এই বদ্ধ দশা থেকে বেরবেন, এখনও সময় আছে, উপায় আছে। শুধু দরকার দৃঢ় মানসিকতা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির। এই দুটোই আসবে যখন আপনি শুরু করবেন নিজেকে ভালবা...

অতীত!! দূর হটো !!!

আমাদের অতীতে এমন অনেক কিছু আছে, যেগুলো আমাদের এক্কেবারে না পসন্দ; কিন্তু দেখা যায়, সবসময় সেইগুলোই আমাদের মস্তিষ্কে প্রজাপতি সেজে ডানা মেলে উড়ে বেড়ায় আর আমরা হয়ে পরি বিব্রত, আতঙ্কিত, শঙ্কিত, উত্তেজিত...আরও কত কি! তাই না? আচ্ছা দেখুন, যা হবার তা তো হয়েই গেছে; তাই তো সেগুলো আমার অতীত। আমার বর্তমান তো নয়!তাই, এই সব ‘দুষ্টু অতীত’কে বাদ দিয়ে দিতে পারলে, আমরা অনেক হাল্কা হতে পারব, শান্ত হতে পারব, ভালো থাকতে পারব। ঠিক তো? এইবার, কিছু বিশেষ ধরণের অভ্যাস, যেগুলো বলতে চলেছি, সেইগুলো নিয়মিত করলে কিন্তু আমরা আস্তে আস্তে উপলব্ধি করতে পারব যে, অতীত আমাদের শুধুমাত্র শেখায়, শিক্ষা দেয়, যার নাম ‘অভিজ্ঞতা’; আর এই ‘শিখে নেওয়া’ যখন যাবতীয় জমে থাকা ‘অনুশোচনা’ কে প্রতিস্থাপন করে, ঠিক তখনই আমরা নিজেদের সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে, স্বপ্ন পূরণের দিকে এগিয়ে যাই।         ১. নিজের ভালো থাকার রিমোটটা নিজের কাছেই রাখতে হবে। কে, কবে কি বলেছিল, কি করেছিল – সবটাই ‘হয়ে গেছে’। সেই কথা আর ভেবে কাজ কি? মোদ্দা কথা, অন্য কাউকেই আমার জীবনের গল্পে মুখ্য ভুমিকা নিতে দেওয়া যাবে না। যা গেছে তা যাক। আবার হোক ন...