Skip to main content

বাস ইতনা সা খোওয়াব হ্যায়!

 


১)আচ্ছা, আপনি কি প্রতিটা দিন প্ল্যানমাফিক কাটান? মানে প্রতিটা দিনের জন্য আপনার কি বিশেষ প্ল্যান বা to do list থাকে?

২)আচ্ছা, আপনি কি দিনে কোন কাজটা আগে করবেন ভেবে রাখেন, মানে do you prioritize according to importance?

৩) আচ্ছা, আপনার ‘ভুলে যাওয়া’ স্বভাব কি প্রতিদিনের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়? মানে, কি কি করবেন ঠিক করেছিলেন, সেটা ভুলে যান প্রায়শঃই?  

৪) আচ্ছা, আপনাকে কি নাম, ঘটনা, সংখ্যা, পরিসংখ্যান মনে রাখতে হয়?

উপরোক্ত সবক’টা কাজ সম্পন্ন করে আপনার কপাল, মানে, আপনার মস্তিস্কের pri-frontal cortex. কপাল খারাপ বলে একেই চাপড়ান আপনি; দেখুন তো এটা কত কাজের actually!!

এই pri-frontal cortex এর একমাত্র খাদ্য হল ‘অক্সিজেন’ ঠিকমতন পরিমানে পেলে, ইনি ঠিকঠাক কাজকম্ম করে থাকেন।  

তো, এইবার থেকে যখনই আপনি নিজের যাবতীয় কাজকম্মের কথা মনে করবেন বা প্ল্যান করবেন… মনে রাখবেন আপনার pri-frontal cortex চাকা ঘোরাচ্ছে আর পুড়ছে  oxygen।

আপনি যদি দক্ষতার সাথে (না ভুলে), প্ল্যানমাফিক কাজ করতে চান, তাহলে বারংবার আপনার কাজ বা লক্ষ্য (goal) নিয়ে না ভেবে – একটা কাগজ পেন নিয়ে বসুন আর লিখে ফেলুন। কারণ, ক্রমাগতঃ কাজ নিয়ে ভাবলে, আপনার মস্তিষ্কে অক্সিজেন ও গ্লুকোস এর প্রয়োজন হয়। আপনি যদি দিনের আগাম পরিকল্পনা কাগজে-কলমে করে রাখেন, তাহলে আপনার শরীরে অক্সিজেনের সাশ্রয় হবে, যেটা অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগতে পারে।  

বেশী ভাববেন না। রোজ সকালে আপনার যাবতীয় plan/tasks/priorities লিস্ট করে ফেলুন লিখে। সেই list টাই ফলো করুন। নিজের memory উপর চাপ দেবেন না।

কেন বলছি এ কথা!! আসলে, কাগজে-কলমে গোটা দিনের পরিকল্পনা লিখে রাখার এই ছোট্ট অভ্যাস আপনার মস্তিষ্কে অযথা অক্সিজেনের অপচয় বন্ধ করবে। আপনি এরফলে কর্মদক্ষতা আগের থেকে অনেক বাড়িয়ে তুলতে পারবেন। শুধু তাই নয়, একটা চাপ-মুক্ত দিনও নিজেকে উপহার দিতে পারবেন।

অভ্যেসটা কিন্তু একাধারে Eco-friendly এবং Ego-friendly ও বটে।   

না, একদম বিশ্বাস করবেন না আমাকে। পরখ করে দেখুন – তারপর জানাবেন অভ্যেসটা রাখতে চান কি না।

কারণ, চাইলেই হবে; তাই চাইতে হবে। 

Comments

Popular posts from this blog

‘হো’ওপনোপনো’

কথায় আছে লেটস ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট। আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো? ক্ষমা কি করা যায়, যদিও বা যায়... সেটা কি ভোলা সম্ভব? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সময় একটা বড় ভুমিকা নেয়, দিন যেতে যেতে ঘটনার অনুভুতির তীক্ষতা কমতে থাকে, আমরা মনে করি ‘ভুলে গেছি’; কিন্তু দেখা যায়, সামান্য অনুরূপ কিছু হলে বা মনে পড়লেই দগদগে ভাব নির্লজ্জের মতন বেরিয়ে পরে।  হ্যাঁ, আমিও বলছি, ভালো থাকতে গেলে এই –“ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট” যাদুর মতন কাজ করে। একটা সত্যি ঘটনা বলি আজকে, আমার জীবনের। আমার বাড়ির পাশেই একটা কোচিং সেন্টারে আমার ছেলে পড়ত। ঘটনাক্রমে, সেন্টারহেডের ছেলেও আমার ছেলেরই ক্লাসের বন্ধু। প্রচলিত আছে, সেই সেন্টারহেড (নাম ধরে নিই ‘ক’বাবু) ভালো ছাত্রছাত্রী ছাড়া সেই সেন্টারে পড়ান না। তাই, আমার ছেলে যখন ক্লাস সেভেন (ছেলে আমার বরাবরই ৬০% পাওয়া – ছোটবেলায় লারনিং ডিসঅর্ডার ছিল) তখন তিনি তাকে যোগ্য মনে করেন নি সেই সেন্টারের। ক্লাস নাইনের সময়, আমি দেখলাম, ওর ক্লাসের অনেকজন ওই সেন্টারেই পড়ে আর বাড়ির পাশে বলে, আমারও সুবিধে হবে, অনেকগুলো পথ খরচ বেঁচে যাবে... এইসব ভেবে আবার গেলাম ‘ক’ বাবুর কাছে, অনুরোধ করলাম আমার ছেলেকে ভর্তির জন্য; বদলে ...

শিক্ষা

  একবার হয়েছে কি, ভীষণ উত্তেজনাবশতঃ বেশ কড়া দামে টিকিট কেটে দেখতে গিয়েছিলাম একটা সিনেমার ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো। তারপর…. একঘণ্টা যেতে না যেতেই প্রান হাঁসফাঁস, হাত কামড়ানো। মনে যুদ্ধ চলছে – ‘এত খাজা ছবি কি করে হতে পারে’র সাথে ‘ঈশ, কত খরচ হয়ে গেল’র। ভাবতে ভাবতে, পকেট আরও খসিয়ে পপকর্ণ আর কোল্ড্রিঙ্কও খাওয়া হয়ে গেল। হল থেকে বেড়িয়ে কান মুলেছিলাম, এমন বোকামি আর হবে না, শপথ টপথও নিয়েছিলাম খানিক। বলুন তো, আসল বোকামিটা কোনটা ছিল? দামী টিকিট কেটে বাজে সিনেমা দেখা না কি সিনেমাটা বাজে বুঝেও, বেশি খরচ হয়ে গেছে এই ভেবে, হলে বসে নিজের সময় বরবাদ করে পুরো সিনেমাটা হজম করা? নিজেদের জীবনের দিকে একবার ভালো করে তাকাই তো; আমাদের সম্পর্কগুলোও অনেকটা এইরকম নয় কি? কাজ করছে না জেনেও, লেগে থাকি, সম্পর্কের ভার বয়ে চলি অনেক ইনভেস্টমেন্ট হয়ে গেছে, লোকে কি বলবে… এইসব ভেবে। কিন্তু আস্তে আস্তে যে সবচেয়ে দামী ইনভেস্টমেন্টটা পাঁকে চলে যাচ্ছে…মানে “সময়”…যেটা আর ফিরে আসবে না, তার কথা ভাবা হয়ে ওঠে না।   কিছুই কিন্তু অপূরণীয় নয়। আপনি না থাকলে, বা আমি না থাকলে সব কি থমকে যাবে? কিছুদিন আগে ইন্সটাগ্রামে একটা পোস্ট দেখে...

নিশিদিন আলোক শিখা জ্বলুক প্রাণে

  জীবনের সবকিছু আমাদের শেখায়। যাদের সাথে দেখা হয়, যাদের সাথে থাকা হয়, যাদের কথা ভাবা হয়, যা যা ঘটে  … সবার থেকে কিছু না কিছু শিখতে পারা যায়। বা, বলা ভালো- শিখতে পারতে হয়, শিখতে জানতে হয়। কারণ, শিখতে পারলে এইসবই আমাদের কাছে “অভিজ্ঞতা” যা জীবন চলতে সাহায্য করে। নতুবা, এগুলোই আমাদের যাবতীয় অ-সুখের কারণ।    তাই, আমাদের প্রতিটা মুহূর্তের ঘটে যাওয়া, ঘটতে থাকা ঘটনাগুলো, ঘটনার কুশীলব সকলেই আমাদের শিক্ষক।   এইসব শিক্ষকদের অবহেলা করবেন না। যখন আপনি মনের মতন চাকরি পাচ্ছেন না, বা যখন কোনও সম্পর্ক প্রশ্নচিহ্নের সামনে, অথবা যখন আপনার বিরুদ্ধে সব ঘটছে, আপনি সমস্যার সম্মুখীন, সেই মুহূর্তে এই শেখার পাঠ আরও বেশি করে মনে করুন। কবি তো বলেই গেছেন কতভাবে – “আরও বেদনা, আরও বেদনা, প্রভু দাও মোরে আরও চেতনা”… “চির পিপাসিত বাসনা-বেদনা, বাঁচাও তাহারে মারিয়া…” “আমি বহু বাসনাই প্রাণপণে চাই, বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে”….. গানগুলো শোনা হয়, গাওয়া হয়, কিন্তু অর্থটাই বোধগম্য হতে পারে না। সমস্যার সময়ে নিজের জীবনের শিক্ষাগুলোকে মনে করে ফেলতে পারলেই কিন্তু সেই পরীক্ষাটা সহজে পাশ করা হয়ে যাবে। যে সব অবস...