Skip to main content

Posts

Showing posts from August, 2021

শিক্ষা

  একবার হয়েছে কি, ভীষণ উত্তেজনাবশতঃ বেশ কড়া দামে টিকিট কেটে দেখতে গিয়েছিলাম একটা সিনেমার ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো। তারপর…. একঘণ্টা যেতে না যেতেই প্রান হাঁসফাঁস, হাত কামড়ানো। মনে যুদ্ধ চলছে – ‘এত খাজা ছবি কি করে হতে পারে’র সাথে ‘ঈশ, কত খরচ হয়ে গেল’র। ভাবতে ভাবতে, পকেট আরও খসিয়ে পপকর্ণ আর কোল্ড্রিঙ্কও খাওয়া হয়ে গেল। হল থেকে বেড়িয়ে কান মুলেছিলাম, এমন বোকামি আর হবে না, শপথ টপথও নিয়েছিলাম খানিক। বলুন তো, আসল বোকামিটা কোনটা ছিল? দামী টিকিট কেটে বাজে সিনেমা দেখা না কি সিনেমাটা বাজে বুঝেও, বেশি খরচ হয়ে গেছে এই ভেবে, হলে বসে নিজের সময় বরবাদ করে পুরো সিনেমাটা হজম করা? নিজেদের জীবনের দিকে একবার ভালো করে তাকাই তো; আমাদের সম্পর্কগুলোও অনেকটা এইরকম নয় কি? কাজ করছে না জেনেও, লেগে থাকি, সম্পর্কের ভার বয়ে চলি অনেক ইনভেস্টমেন্ট হয়ে গেছে, লোকে কি বলবে… এইসব ভেবে। কিন্তু আস্তে আস্তে যে সবচেয়ে দামী ইনভেস্টমেন্টটা পাঁকে চলে যাচ্ছে…মানে “সময়”…যেটা আর ফিরে আসবে না, তার কথা ভাবা হয়ে ওঠে না।   কিছুই কিন্তু অপূরণীয় নয়। আপনি না থাকলে, বা আমি না থাকলে সব কি থমকে যাবে? কিছুদিন আগে ইন্সটাগ্রামে একটা পোস্ট দেখে...

বাস ইতনা সা খোওয়াব হ্যায়!

  ১)আচ্ছা, আপনি কি প্রতিটা দিন প্ল্যানমাফিক কাটান? মানে প্রতিটা দিনের জন্য আপনার কি বিশেষ প্ল্যান বা to do list থাকে? ২)আচ্ছা, আপনি কি দিনে কোন কাজটা আগে করবেন ভেবে রাখেন, মানে do you prioritize according to importance? ৩) আচ্ছা, আপনার ‘ভুলে যাওয়া’ স্বভাব কি প্রতিদিনের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়? মানে, কি কি করবেন ঠিক করেছিলেন, সেটা ভুলে যান প্রায়শঃই?   ৪) আচ্ছা, আপনাকে কি নাম, ঘটনা, সংখ্যা, পরিসংখ্যান মনে রাখতে হয়? উপরোক্ত সবক’টা কাজ সম্পন্ন করে আপনার কপাল, মানে, আপনার মস্তিস্কের pri-frontal cortex. কপাল খারাপ বলে একেই চাপড়ান আপনি; দেখুন তো এটা কত কাজের actually!! এই pri-frontal cortex এর একমাত্র খাদ্য হল ‘অক্সিজেন’ ঠিকমতন পরিমানে পেলে, ইনি ঠিকঠাক কাজকম্ম করে থাকেন।   তো, এইবার থেকে যখনই আপনি নিজের যাবতীয় কাজকম্মের কথা মনে করবেন বা প্ল্যান করবেন… মনে রাখবেন আপনার pri-frontal cortex চাকা ঘোরাচ্ছে আর পুড়ছে  oxygen। আপনি যদি দক্ষতার সাথে (না ভুলে), প্ল্যানমাফিক কাজ করতে চান, তাহলে বারংবার আপনার কাজ বা লক্ষ্য (goal) নিয়ে না ভেবে – একটা কাগজ পেন নিয়ে বসুন আর লিখে ফেলুন। কারণ, ক্র...

কেন তোমরা আমায় ডাক ?

  ‘কেন আমার সাথেই এমন হল?’ ‘কেন আমার সাথেই এরকম হয়?’ ‘ও কেন আমায় চিট করল?’ ‘কেন ও আমায় এইসব বলল?’ ‘কেন সে এমন ব্যবহার করল?’ ‘আমার কেন কোনও শিক্ষা হয় না…..?’ কেন? কেন? কেন? মনবাজারের ব্যাগটা খুলে দেখুন তো – ক’কেজি ‘কেন’ কিনে রেখেছেন? যখনই আমরা ‘কেন’ সহযোগে কিছু কথা বলি বা ভাবি; আমাদের ‘মন-বাবু’টি টুপ করে অতীত সাগরে ডুব দিয়ে খুঁজে আনে সেইসব সমস্ত ঘটনা – যা দিয়ে আপনি নিজেকে বা অপরকে দোষারোপ করতে পারেন। এই ‘কেন’ প্রশ্নটি আপনাকে সমস্যার কারণ ‘আপনার মতন’ করে খুঁজে দেয়। অর্থাৎ, যখনই আপনি ‘কেন’ প্রশ্ন করেন, তখনই  যেটা হয়, আপনি ভাবতে শুরু করে দেন  “সমস্যার” point of view থেকে – “সমাধান” এর নয়। দেখা গেছে, সফল ব্যক্তিরা সমস্যা সমাধানের সময় একটা অদ্ভুত ট্রিক ব্যবহার করেন। তারা তাদের মনে আসা প্রশ্নের ‘কেন’ গুলোকে ‘কি’ তে বদলে নেন। মানে, কোনও সমস্যার মুখোমুখি হলে   তারা  নিজেদেরই জিজ্ঞেস করেন –  ‘আমি এখন কি করতে পারি?’ ‘আমার যা আছে, তা দিয়ে কি করা যায়?’ ‘এই ঘটনা থেকে আমি কি শিখলাম?’ আমি কি ভাবে এই ঘটনাকে আর repeat করতে না পারি?’ ইত্যাদি ইত্যাদি। এই ‘কি’ ওয়ালা প্রশ্নগুলো ...

শর্ত প্রযোজ্য

  আমরা মানে আপনি, আমি সবাই, প্রায় ৯৯% মানুষই হাজারো শর্ত নিয়ে, শর্ত আরোপ করে বেঁচে থাকি। ভুল বলছি কি? আচ্ছা দেখুন তো, আপনি কখনও এরকম ভেবেছেন বা বলেছেন কি না – এ বছর আমার প্রোমোশনটা হলেই আমি খুব খুশি, বা যতক্ষন না নিজের বাড়ি হচ্ছে, আমার ভালো থাকা হবে না বা এত টাকা জমলেই বেড়াতে যাব বা ছেলে ভালো রেজাল্ট করলেই আমি খুশি …… আরও…. আরও …. আরও কত কি। আমরা প্রায় প্রত্যেকেই সুখী থাকার / হওয়ার জন্য নিজেদের কাছেই অনেক শর্ত রেখে বসি। কিন্তু লং টার্ম বেসিসে ভালো থাকতে গেলে, আনন্দে থাকতে গেলে এই শর্তগুলো ভয়ঙ্কর… বোঝেন কি? Accept the life unconditionally.  The Law of Acceptance actually help us to release more and become more. অর্থাৎ,  এই acceptance বা গ্রহণযোগ্যতার পরিমান যত বাড়াতে পারবেন, নিজের ‘ভালো থাকা’টা ততটাই বেড়ে যাবে। আরও ভালো – আরও একটু বেশি- আরও কিছু সময় … এইসবের চক্করে জীবনে বাঁচার আনন্দটাই দুমরে মুচরে একাকার হয়ে যায়। তাই, একটু ধৈর্য রাখুন। বাঁচুন। গ্রহণযোগ্যতা বাড়ান। আর, একটু ভরসা রাখুন নিজের প্রতি। জীবনকে শর্তবিহীন উপভোগ করার চেষ্টা করুন। দেখবেন, হতাশার জলাঞ্জলি ঘটেছে আর প...

২ মিনিটেই খতম

  -     “বড্ড চাপে আছি রে….” -     “আর বলিস না, অফিসে যা চাপ চলছে……” -       “একদম সময় পাই না… এত কাজের চাপ….” উত্তরগুলো অতি প্রচলিত। “চাপ-মুক্তি”র উপায় একটু গভীর অন্য একদিন নিশ্চয়ই জানাব; কিন্তু, আজ আপনাদের আমি এই চাপ কমানোর এক ভীষণ সহজ উপায় বলতে চলছি। উপকরনঃ ১) আপনার ইচ্ছা ও চেষ্টা ২) আপনার জীবনের মাত্র ২টো মিনিট পদ্ধতিঃ ক) বুক ভরে শ্বাস নিস। শ্বাস নেওয়ার সময় খেয়াল করুন আপনার শরীর বেলুনের মতন ফুলছে কি না।মনে মনে ১ থেকে ৪ গুনুন। খ) শ্বাস নেওয়ার সময় চেষ্টা করুন আপনার মনঃসংযোগ যেন আপনার দুই ভ্রূর মাঝে থাকে। (এইটাই চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু আমি জানি আপনি পেরে যাবেনই)। শ্বাস ধরে থাকুন, ১ থেকে ৫ গুনুন। গ) শ্বাস ছাড়ুন, ছাড়ার সময় মনঃসংযোগ নাভিতে নিয়ে আসুন (এটাও পেরে যাবেন ক্রমশঃ)। শরীর বেলুন চুপসে যাওয়ার মতন সঙ্কুচিত হবে। ১ থেকে ৬ গুনতে গুনতে শ্বাস ছাড়ুন আস্তে আস্তে।   এইভাবে মাত্র ২ মিনিট শ্বাস নিন- শ্বাস ছাড়ুন। যে কোনও জায়গায়, যে কোনও সময় যখনই আপনার নিজেকে ‘চাপে-চ্যাপ্টা’ মনে হবে; এই প্র্যাকটিস করতে পারেন।   আসলে, যে ব্যাপারটা হয়, এই রকম শ্বাস নেও...

শেষ থেকে শুরু

  আমার কাছে যখনই কেউ পরামর্শ নিতে আসে, আমি সবসময় একটা কথা বলতে থাকি, যেটা চাইছ, সেটাকে কি মেপেছ? মানে, তুমি যদি অর্থ উপার্জন করতে চাও এবং সেটাকেই সফলতা ভাব, তাহলে তার পরিমান কত? অথবা, যদি কাউকে ভালবাস, সেটা কতটা? We have to measure our desires to achieve the same.     Stephen Covey তার লেখা “7 habits of highly effective people” বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে এক অসামান্য আইডিয়া দিয়েছেন। সেভাবে দেখলে, বেসিক আইডিয়াটা খুবই সাধারন। উনি বলেছেন – “Everything is created twice – one in your mind and then in reality”. ভেবে দেখবেন, মাটির কুঁজো দেখে কেউ না কেউ তো ভেবেছিল জল যদি যেখানে সেখানে খেতে হয়, কি ভাবে খাওয়া যাবে, তাই জন্যই জলের বোতল আজ আমাদের হাতে, এরোপ্লেনের কথাই ভাবুন না…. যদি আমরা নিজেদের জন্য একটা অনন্যসাধারণ জীবন create করতে চাই, তাহলে সবথেকে ভালো পদ্ধতি হল, সেই জীবন কেমন হবে, সেটাকে মনের খাতায় এঁকে ফেলা। Covey মনে মনে কল্পনা করতে বলেছেন –  ভাবুন, আপনি শ্মশানে আছে। দেখুন সেখানে আপনার চারপাশে কারা কারা রয়েছে, দেখার চেষ্টা করুন চারদিকে কি ঘটে চলেছে, চেক করুন আপনার সাথের মানুষদে...

নিউমেরো উনো

  আব্রাহাম ম্যাসলো – নামটার সাথে পরিচয় আছে? তিনি তার “থিয়োরী অফ হায়ারারকি অফ হিউম্যান নিডস” তত্বে লিখেছেন যে, প্রতি মুহূর্তে আমাদের কাছে দুটো সুযোগ আসে – (১) আমরা এগোবো কি না towards the growth আর (২) আমরা যেখানে আছি, সেখানেই থাকবো কি না back into safety. এই সুযোগগুলোর প্রতি পদক্ষেপ আমাদের জীবনের গতি নির্ধারণ করে। মনে করুন, আপনার সাবকনশাস মাইন্ডে একটা সুপার কম্পিউটার লুকানো আছে যেখানে মাত্র দুটো বাটন আছে: +1 আর -1; +1 প্রেস করলেই আমরা Growth এর দিকে এগিয়ে যাই আর -1 প্রেস করে আমরা বেছে নিই back into safety mode. জীবন চলতে থাকে প্লাস ওয়ান–মাইনাস ওয়ান, প্লাস ওয়ান–মাইনাস ওয়ান ……. ধরুন, কাল সকালে অ্যালার্ম বাজল, কি করবেন? ঘুম থেকে উঠে যেগুলো করা প্রয়োজন, যা ঠিক করে রেখেছিলেন করবেন… মানে, লাফিয়ে বিছানা থেকে উঠে, রেডী হয়ে হাঁটতে বেরবেন বা এক্সারসাইজ করবেন-মেডিটেশান করবেন? …. না কি, অ্যালার্ম স্নুয করে আবার শুয়ে পরবেন, যা যা ঠিক করেছিলেন করবেন বলে, ভুলে যাবেন? একদিন, একটা গোটা দিন নিজে পরীক্ষা করে দেখুন না ক’টা +1 আর ক’টা -1 পাচ্ছেন- রাতে শুয়ে গুনে ফেলুন দিকি নি কত হল +1000  না কি...

নিশিদিন আলোক শিখা জ্বলুক প্রাণে

  জীবনের সবকিছু আমাদের শেখায়। যাদের সাথে দেখা হয়, যাদের সাথে থাকা হয়, যাদের কথা ভাবা হয়, যা যা ঘটে  … সবার থেকে কিছু না কিছু শিখতে পারা যায়। বা, বলা ভালো- শিখতে পারতে হয়, শিখতে জানতে হয়। কারণ, শিখতে পারলে এইসবই আমাদের কাছে “অভিজ্ঞতা” যা জীবন চলতে সাহায্য করে। নতুবা, এগুলোই আমাদের যাবতীয় অ-সুখের কারণ।    তাই, আমাদের প্রতিটা মুহূর্তের ঘটে যাওয়া, ঘটতে থাকা ঘটনাগুলো, ঘটনার কুশীলব সকলেই আমাদের শিক্ষক।   এইসব শিক্ষকদের অবহেলা করবেন না। যখন আপনি মনের মতন চাকরি পাচ্ছেন না, বা যখন কোনও সম্পর্ক প্রশ্নচিহ্নের সামনে, অথবা যখন আপনার বিরুদ্ধে সব ঘটছে, আপনি সমস্যার সম্মুখীন, সেই মুহূর্তে এই শেখার পাঠ আরও বেশি করে মনে করুন। কবি তো বলেই গেছেন কতভাবে – “আরও বেদনা, আরও বেদনা, প্রভু দাও মোরে আরও চেতনা”… “চির পিপাসিত বাসনা-বেদনা, বাঁচাও তাহারে মারিয়া…” “আমি বহু বাসনাই প্রাণপণে চাই, বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে”….. গানগুলো শোনা হয়, গাওয়া হয়, কিন্তু অর্থটাই বোধগম্য হতে পারে না। সমস্যার সময়ে নিজের জীবনের শিক্ষাগুলোকে মনে করে ফেলতে পারলেই কিন্তু সেই পরীক্ষাটা সহজে পাশ করা হয়ে যাবে। যে সব অবস...

চৌকিদারের খবরদারি

  জানেন কি, আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে একটা প্রহরী লুকিয়ে আছে আর সারাক্ষণ ধরে সে আমাদের প্রতিটা কাজকম্মের উপর নজরদারি করতে থাকে? এই প্রহরী তিলেতিলে বেড়ে উঠেছে আপনারই চারপাশের মানুষজন, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী এবং আপনার ‘সমাজ’এর মাধ্যমে। আপনার প্রতিটা পদক্ষেপের উপর এর প্রবল আধিপত্য। আর যখন আপনি নিজে এই প্রহরীর উপস্থিতি সম্যকভাবে অনুভব করে ফেলেছেন, তখন আপনার প্রতিটা পদক্ষেপ আপনাকে মনে করাবে এই প্রহরীর জন্য সেটি যোগ্য না অযোগ্য। একটু ভেবে দেখবেন, এই যে চিন্তাগুলো আসে, সেগুলো বেশির ভাগই আপনার জন্য সত্য নয়, অন্যদের মতামত মাত্র।   মনের সবকথা মনে খুলে বলতে পারা যায় কি? শেষ কবে নিজের সত্যিটা সহজভাবে প্রকাশ করতে পেরেছেন?   শুধু মনে রাখবেন, একজন প্রহরী শুধু পাহারাই দিতে পারে, রাজা হয়ে উঠতে পারে না। আপনাকে নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা কিন্তু তার নেই (যদি না সে ক্ষমতা আপনি তাকে দিয়ে থাকেন) আর আপনি নিজেকে বদলাতে চাইলে, সে কিছুই করতে পারবে না। আপনার জীবনের এরোপ্লেনে আপনি নিজে প্যাসেঞ্জার না পাইলট – বুঝতে পারেন কি? মানে, আমি বলতে চাইছি, ধরুন, আপনি যদি ওজন কমাতে চান, বা বেশি রোজগার করতে চান বা...