Skip to main content

চৌকিদারের খবরদারি

 


জানেন কি, আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে একটা প্রহরী লুকিয়ে আছে আর সারাক্ষণ ধরে সে আমাদের প্রতিটা কাজকম্মের উপর নজরদারি করতে থাকে?

এই প্রহরী তিলেতিলে বেড়ে উঠেছে আপনারই চারপাশের মানুষজন, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী এবং আপনার ‘সমাজ’এর মাধ্যমে। আপনার প্রতিটা পদক্ষেপের উপর এর প্রবল আধিপত্য।

আর যখন আপনি নিজে এই প্রহরীর উপস্থিতি সম্যকভাবে অনুভব করে ফেলেছেন, তখন আপনার প্রতিটা পদক্ষেপ আপনাকে মনে করাবে এই প্রহরীর জন্য সেটি যোগ্য না অযোগ্য। একটু ভেবে দেখবেন, এই যে চিন্তাগুলো আসে, সেগুলো বেশির ভাগই আপনার জন্য সত্য নয়, অন্যদের মতামত মাত্র।  

মনের সবকথা মনে খুলে বলতে পারা যায় কি? শেষ কবে নিজের সত্যিটা সহজভাবে প্রকাশ করতে পেরেছেন?  

শুধু মনে রাখবেন, একজন প্রহরী শুধু পাহারাই দিতে পারে, রাজা হয়ে উঠতে পারে না। আপনাকে নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা কিন্তু তার নেই (যদি না সে ক্ষমতা আপনি তাকে দিয়ে থাকেন) আর আপনি নিজেকে বদলাতে চাইলে, সে কিছুই করতে পারবে না।

আপনার জীবনের এরোপ্লেনে আপনি নিজে প্যাসেঞ্জার না পাইলট – বুঝতে পারেন কি?

মানে, আমি বলতে চাইছি, ধরুন, আপনি যদি ওজন কমাতে চান, বা বেশি রোজগার করতে চান বা কোনোকিছু বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে চান বা শিখতে চান, সেটাই করুন না। নিজের উদ্দেশ্যে অটল থাকুন, নিজের সাথে কথা বলুন বারবার, নিজে সিদ্ধান্ত নিন এবং নিজের সিদ্ধান্তকে সম্মান করুন।   

সত্যি কথা- যা আপনার জন্য সঠিক – বলে ফেলুন। দেখবেন ক্রমশঃ সেই প্রহরী শক্তিহীন হয়ে পরছে।

Don’t censor yourself. Speak the truth – your truth – always.

অনুরোধ করব, আমায় বিশ্বাস করবেন না, একবার, যদি চান, পরখ করে দেখুন।

কারণ। আমি জানি, চাইলেই হবে, তাই চাইতে হবে। 

Comments

Popular posts from this blog

‘হো’ওপনোপনো’

কথায় আছে লেটস ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট। আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো? ক্ষমা কি করা যায়, যদিও বা যায়... সেটা কি ভোলা সম্ভব? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সময় একটা বড় ভুমিকা নেয়, দিন যেতে যেতে ঘটনার অনুভুতির তীক্ষতা কমতে থাকে, আমরা মনে করি ‘ভুলে গেছি’; কিন্তু দেখা যায়, সামান্য অনুরূপ কিছু হলে বা মনে পড়লেই দগদগে ভাব নির্লজ্জের মতন বেরিয়ে পরে।  হ্যাঁ, আমিও বলছি, ভালো থাকতে গেলে এই –“ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট” যাদুর মতন কাজ করে। একটা সত্যি ঘটনা বলি আজকে, আমার জীবনের। আমার বাড়ির পাশেই একটা কোচিং সেন্টারে আমার ছেলে পড়ত। ঘটনাক্রমে, সেন্টারহেডের ছেলেও আমার ছেলেরই ক্লাসের বন্ধু। প্রচলিত আছে, সেই সেন্টারহেড (নাম ধরে নিই ‘ক’বাবু) ভালো ছাত্রছাত্রী ছাড়া সেই সেন্টারে পড়ান না। তাই, আমার ছেলে যখন ক্লাস সেভেন (ছেলে আমার বরাবরই ৬০% পাওয়া – ছোটবেলায় লারনিং ডিসঅর্ডার ছিল) তখন তিনি তাকে যোগ্য মনে করেন নি সেই সেন্টারের। ক্লাস নাইনের সময়, আমি দেখলাম, ওর ক্লাসের অনেকজন ওই সেন্টারেই পড়ে আর বাড়ির পাশে বলে, আমারও সুবিধে হবে, অনেকগুলো পথ খরচ বেঁচে যাবে... এইসব ভেবে আবার গেলাম ‘ক’ বাবুর কাছে, অনুরোধ করলাম আমার ছেলেকে ভর্তির জন্য; বদলে ...

শিক্ষা

  একবার হয়েছে কি, ভীষণ উত্তেজনাবশতঃ বেশ কড়া দামে টিকিট কেটে দেখতে গিয়েছিলাম একটা সিনেমার ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো। তারপর…. একঘণ্টা যেতে না যেতেই প্রান হাঁসফাঁস, হাত কামড়ানো। মনে যুদ্ধ চলছে – ‘এত খাজা ছবি কি করে হতে পারে’র সাথে ‘ঈশ, কত খরচ হয়ে গেল’র। ভাবতে ভাবতে, পকেট আরও খসিয়ে পপকর্ণ আর কোল্ড্রিঙ্কও খাওয়া হয়ে গেল। হল থেকে বেড়িয়ে কান মুলেছিলাম, এমন বোকামি আর হবে না, শপথ টপথও নিয়েছিলাম খানিক। বলুন তো, আসল বোকামিটা কোনটা ছিল? দামী টিকিট কেটে বাজে সিনেমা দেখা না কি সিনেমাটা বাজে বুঝেও, বেশি খরচ হয়ে গেছে এই ভেবে, হলে বসে নিজের সময় বরবাদ করে পুরো সিনেমাটা হজম করা? নিজেদের জীবনের দিকে একবার ভালো করে তাকাই তো; আমাদের সম্পর্কগুলোও অনেকটা এইরকম নয় কি? কাজ করছে না জেনেও, লেগে থাকি, সম্পর্কের ভার বয়ে চলি অনেক ইনভেস্টমেন্ট হয়ে গেছে, লোকে কি বলবে… এইসব ভেবে। কিন্তু আস্তে আস্তে যে সবচেয়ে দামী ইনভেস্টমেন্টটা পাঁকে চলে যাচ্ছে…মানে “সময়”…যেটা আর ফিরে আসবে না, তার কথা ভাবা হয়ে ওঠে না।   কিছুই কিন্তু অপূরণীয় নয়। আপনি না থাকলে, বা আমি না থাকলে সব কি থমকে যাবে? কিছুদিন আগে ইন্সটাগ্রামে একটা পোস্ট দেখে...

নিশিদিন আলোক শিখা জ্বলুক প্রাণে

  জীবনের সবকিছু আমাদের শেখায়। যাদের সাথে দেখা হয়, যাদের সাথে থাকা হয়, যাদের কথা ভাবা হয়, যা যা ঘটে  … সবার থেকে কিছু না কিছু শিখতে পারা যায়। বা, বলা ভালো- শিখতে পারতে হয়, শিখতে জানতে হয়। কারণ, শিখতে পারলে এইসবই আমাদের কাছে “অভিজ্ঞতা” যা জীবন চলতে সাহায্য করে। নতুবা, এগুলোই আমাদের যাবতীয় অ-সুখের কারণ।    তাই, আমাদের প্রতিটা মুহূর্তের ঘটে যাওয়া, ঘটতে থাকা ঘটনাগুলো, ঘটনার কুশীলব সকলেই আমাদের শিক্ষক।   এইসব শিক্ষকদের অবহেলা করবেন না। যখন আপনি মনের মতন চাকরি পাচ্ছেন না, বা যখন কোনও সম্পর্ক প্রশ্নচিহ্নের সামনে, অথবা যখন আপনার বিরুদ্ধে সব ঘটছে, আপনি সমস্যার সম্মুখীন, সেই মুহূর্তে এই শেখার পাঠ আরও বেশি করে মনে করুন। কবি তো বলেই গেছেন কতভাবে – “আরও বেদনা, আরও বেদনা, প্রভু দাও মোরে আরও চেতনা”… “চির পিপাসিত বাসনা-বেদনা, বাঁচাও তাহারে মারিয়া…” “আমি বহু বাসনাই প্রাণপণে চাই, বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে”….. গানগুলো শোনা হয়, গাওয়া হয়, কিন্তু অর্থটাই বোধগম্য হতে পারে না। সমস্যার সময়ে নিজের জীবনের শিক্ষাগুলোকে মনে করে ফেলতে পারলেই কিন্তু সেই পরীক্ষাটা সহজে পাশ করা হয়ে যাবে। যে সব অবস...