Skip to main content

Posts

Showing posts from May, 2020

‘হো’ওপনোপনো’

কথায় আছে লেটস ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট। আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো? ক্ষমা কি করা যায়, যদিও বা যায়... সেটা কি ভোলা সম্ভব? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সময় একটা বড় ভুমিকা নেয়, দিন যেতে যেতে ঘটনার অনুভুতির তীক্ষতা কমতে থাকে, আমরা মনে করি ‘ভুলে গেছি’; কিন্তু দেখা যায়, সামান্য অনুরূপ কিছু হলে বা মনে পড়লেই দগদগে ভাব নির্লজ্জের মতন বেরিয়ে পরে।  হ্যাঁ, আমিও বলছি, ভালো থাকতে গেলে এই –“ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট” যাদুর মতন কাজ করে। একটা সত্যি ঘটনা বলি আজকে, আমার জীবনের। আমার বাড়ির পাশেই একটা কোচিং সেন্টারে আমার ছেলে পড়ত। ঘটনাক্রমে, সেন্টারহেডের ছেলেও আমার ছেলেরই ক্লাসের বন্ধু। প্রচলিত আছে, সেই সেন্টারহেড (নাম ধরে নিই ‘ক’বাবু) ভালো ছাত্রছাত্রী ছাড়া সেই সেন্টারে পড়ান না। তাই, আমার ছেলে যখন ক্লাস সেভেন (ছেলে আমার বরাবরই ৬০% পাওয়া – ছোটবেলায় লারনিং ডিসঅর্ডার ছিল) তখন তিনি তাকে যোগ্য মনে করেন নি সেই সেন্টারের। ক্লাস নাইনের সময়, আমি দেখলাম, ওর ক্লাসের অনেকজন ওই সেন্টারেই পড়ে আর বাড়ির পাশে বলে, আমারও সুবিধে হবে, অনেকগুলো পথ খরচ বেঁচে যাবে... এইসব ভেবে আবার গেলাম ‘ক’ বাবুর কাছে, অনুরোধ করলাম আমার ছেলেকে ভর্তির জন্য; বদলে ...

পরিবার

টুপাই একদম ফ্যামিলি গেট-টুগেদার পছন্দই করে না, বড় পরিবার – একসাথে সবার সাথে থাকা তার ভীষণ অপছন্দের। নিজের বাড়ির ছোট পরিসর, বাবা-মা-বোনের সাথে ও অনেক কমফোর্টেবল। বন্ধুদের সাথে হইচইতে কোনও আপত্তি নেই। বাবা-মা র অফিস পিকনিকও ভালো লাগে। কিন্তু ওই – আত্মীয়স্বজনের সাথে থাকাতেই তার ভীষণ বিরোধ। মনিকা – অনিরুদ্ধ নিজেদেরই দোষ দেয় ছেলের এই আচরণের জন্য। বয়ঃসন্ধির সময়, গলার আওয়াজ বেড়েছে, মেজাজ বেড়েছে – ছেলেকে সামলে চলতে হয়। সামনের সপ্তাহে জ্যাঠতুতো দিদির বিয়ে; মা-বাবা অনেক করে বলেছে যেতে। একদম ইচ্ছে নেই টুপাইএর। দিন যত এগিয়ে আসছে, তত ফন্দি কষছে, কি ভাবে না যাওয়া যায়। ইন্টার-স্কুল ম্যাচটাই এখন বড় ভরসা।   সবাই যখন প্যাকিং করছে বিয়েবাড়ি যাবার জন্য, মায়ের কাছে গিয়ে সে বলে, এই রবিবারে বড় ফুটবল ম্যাচ আছে, ওর পক্ষে যাওয়া অসম্ভব। অলরেডি মিডফিল্ডার হিসেবে বেশ নাম করে গেছে টুপাই; মনিকা আর অনিরুদ্ধ আলোচনায় বসে; ছেলে মুখ গোমড়া হয়ে থাকলে, সারা বিয়েবাড়ি তাদের অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে আবার টুপাইকে একা রেখেও তারা কখনো কোথাও যায় নি।এছাড়া, ফুটবল ম্যাচেও টুপাইকে থাকতেই হবে। সব ভেবে, তারা ঠ...

বেলুন

একবার, একদিন এক স্কুলের দিদিমণি ক্লাসের সব ছানাদের জন্য বেলুন নিয়ে এলেন। বলা হল , সবাই নিজেদের বেলুনে নিজের নাম লেখ। সবাই লিখল। তারপর বলা হল – বেলুনগুলোকে স্কুলের করিডোরে রাখতে। গাদা গাদা রঙ্গিন বেলুনে করিডোর ভরে গেল। দিদিমনি এইবার বললেন, ৫ মিনিটের মধ্যে এই বেলুনের মধ্যে থেকে নিজের নাম লেখা বেলুন খুঁজে আনতে। সবার মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গেল, অনেক বেলুন ফেটে গেল; দেখা গেল, বেশির ভাগই নিজের নাম লেখা বেলুন খুঁজে পায় নি। আবার আগেরবারের মতন দিদিমণি সবাইকে বেলুন দিলেন, তাতে নিজেদের নাম লিখতে বললেন, তারপর করিডোরে রাখতে বললেন। এরপর তিনি যা বললেন, সেটা আগের বার বলেন নি। এইবার তিনি বললেন, যে সামনে যার নাম লেখা বেলুন পাবে, সে যেন তাকে দিয়ে দেয়। অদ্ভুত একটা কাণ্ড হল, দেখা গেল, সকলেই নিজেদের নাম লেখা বেলুন পেয়ে গেছে – এবং খুব তাড়াতাড়ি। এবার সেই দিদিমণি সব ছানাদের বললেন, আমাদের ভালো থাকাটা হল অনেকটা এই বেলুনগুলোর মতন। আমরা যদি নিজেদের ভালোটাই শুধু দেখি, তাহলে কিন্তু কেউই ভালো থাকতে পারব না; কিন্তু, আমরা যদি একে অপরকে ভালো রাখার চেষ্টা করি, তাহলেই আমরা সব্বাই ভালো থাকব।     এই...