Skip to main content

শেষ থেকে শুরু

 


আমার কাছে যখনই কেউ পরামর্শ নিতে আসে, আমি সবসময় একটা কথা বলতে থাকি, যেটা চাইছ, সেটাকে কি মেপেছ? মানে, তুমি যদি অর্থ উপার্জন করতে চাও এবং সেটাকেই সফলতা ভাব, তাহলে তার পরিমান কত? অথবা, যদি কাউকে ভালবাস, সেটা কতটা? We have to measure our desires to achieve the same.   

Stephen Covey তার লেখা “7 habits of highly effective people” বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে এক অসামান্য আইডিয়া দিয়েছেন।

সেভাবে দেখলে, বেসিক আইডিয়াটা খুবই সাধারন। উনি বলেছেন – “Everything is created twice – one in your mind and then in reality”.

ভেবে দেখবেন, মাটির কুঁজো দেখে কেউ না কেউ তো ভেবেছিল জল যদি যেখানে সেখানে খেতে হয়, কি ভাবে খাওয়া যাবে, তাই জন্যই জলের বোতল আজ আমাদের হাতে, এরোপ্লেনের কথাই ভাবুন না….

যদি আমরা নিজেদের জন্য একটা অনন্যসাধারণ জীবন create করতে চাই, তাহলে সবথেকে ভালো পদ্ধতি হল, সেই জীবন কেমন হবে, সেটাকে মনের খাতায় এঁকে ফেলা।

Covey মনে মনে কল্পনা করতে বলেছেন –  ভাবুন, আপনি শ্মশানে আছে। দেখুন সেখানে আপনার চারপাশে কারা কারা রয়েছে, দেখার চেষ্টা করুন চারদিকে কি ঘটে চলেছে, চেক করুন আপনার সাথের মানুষদের আবেগ ও এনার্জি  around the scene. হঠাত আপনি বুঝতে পারলেন, এইটা আপনারই শবদেহ, আপনাকেই দাহ করতে নিয়ে আসা হয়েছে …..  

বুম!!

তাহলে, কি হল ব্যাপারটা?

আপনার প্রিয়জনেরা, আপনার বন্ধুরা, সহকর্মীরা – বা পাড়ার মুদির দোকানের লোকটা বা পাশের বাড়ির সবাই - কি বলছিল আপনার জন্য? মনে পরছে?

আচ্ছা, এরা সবাই কি বললে আপনার ভালো লাগবে?

মানে ধরুন - you were very kind, gentle, patient, loyal, generous, helpful, friendly and inspiring … এইসব আর কি।

দুরন্ত ব্যাপার, তাই না?

দেখছেন, কেউ কিন্তু বলবে না (বা আপনিও শুনতে চাইবেন না) যে, আপনি কত বড় বাড়ির মালিক ছিলেন, কত দামী গাড়ি ছিল আপনার, আপনার অনেক ব্যাঙ্কব্যালেন্স ইত্যাদি ইত্যাদি..

সুতরাং, জীবনই আমাদের শিখিয়ে দেয় জীবনের আসল মুল্য, জীবন যাপনে কোথায় ফোকাস করলে সেই অনন্যসাধারণ জীবন বাঁচতে পারা যায়।

তাহলে, আজই শুরু করা হোক – শেষ থেকে।  

কি মশাই, চান না কি এমন জীবন? নিশচই চান। 

তো, সিম্পল। চাইলেই হবে, তাই চাইতে হবে। 

Comments

  1. Excellent... 👍👍👏👏 Right thoughts... Beautifully explained...thanks...

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

‘হো’ওপনোপনো’

কথায় আছে লেটস ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট। আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো? ক্ষমা কি করা যায়, যদিও বা যায়... সেটা কি ভোলা সম্ভব? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সময় একটা বড় ভুমিকা নেয়, দিন যেতে যেতে ঘটনার অনুভুতির তীক্ষতা কমতে থাকে, আমরা মনে করি ‘ভুলে গেছি’; কিন্তু দেখা যায়, সামান্য অনুরূপ কিছু হলে বা মনে পড়লেই দগদগে ভাব নির্লজ্জের মতন বেরিয়ে পরে।  হ্যাঁ, আমিও বলছি, ভালো থাকতে গেলে এই –“ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট” যাদুর মতন কাজ করে। একটা সত্যি ঘটনা বলি আজকে, আমার জীবনের। আমার বাড়ির পাশেই একটা কোচিং সেন্টারে আমার ছেলে পড়ত। ঘটনাক্রমে, সেন্টারহেডের ছেলেও আমার ছেলেরই ক্লাসের বন্ধু। প্রচলিত আছে, সেই সেন্টারহেড (নাম ধরে নিই ‘ক’বাবু) ভালো ছাত্রছাত্রী ছাড়া সেই সেন্টারে পড়ান না। তাই, আমার ছেলে যখন ক্লাস সেভেন (ছেলে আমার বরাবরই ৬০% পাওয়া – ছোটবেলায় লারনিং ডিসঅর্ডার ছিল) তখন তিনি তাকে যোগ্য মনে করেন নি সেই সেন্টারের। ক্লাস নাইনের সময়, আমি দেখলাম, ওর ক্লাসের অনেকজন ওই সেন্টারেই পড়ে আর বাড়ির পাশে বলে, আমারও সুবিধে হবে, অনেকগুলো পথ খরচ বেঁচে যাবে... এইসব ভেবে আবার গেলাম ‘ক’ বাবুর কাছে, অনুরোধ করলাম আমার ছেলেকে ভর্তির জন্য; বদলে ...

শিক্ষা

  একবার হয়েছে কি, ভীষণ উত্তেজনাবশতঃ বেশ কড়া দামে টিকিট কেটে দেখতে গিয়েছিলাম একটা সিনেমার ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো। তারপর…. একঘণ্টা যেতে না যেতেই প্রান হাঁসফাঁস, হাত কামড়ানো। মনে যুদ্ধ চলছে – ‘এত খাজা ছবি কি করে হতে পারে’র সাথে ‘ঈশ, কত খরচ হয়ে গেল’র। ভাবতে ভাবতে, পকেট আরও খসিয়ে পপকর্ণ আর কোল্ড্রিঙ্কও খাওয়া হয়ে গেল। হল থেকে বেড়িয়ে কান মুলেছিলাম, এমন বোকামি আর হবে না, শপথ টপথও নিয়েছিলাম খানিক। বলুন তো, আসল বোকামিটা কোনটা ছিল? দামী টিকিট কেটে বাজে সিনেমা দেখা না কি সিনেমাটা বাজে বুঝেও, বেশি খরচ হয়ে গেছে এই ভেবে, হলে বসে নিজের সময় বরবাদ করে পুরো সিনেমাটা হজম করা? নিজেদের জীবনের দিকে একবার ভালো করে তাকাই তো; আমাদের সম্পর্কগুলোও অনেকটা এইরকম নয় কি? কাজ করছে না জেনেও, লেগে থাকি, সম্পর্কের ভার বয়ে চলি অনেক ইনভেস্টমেন্ট হয়ে গেছে, লোকে কি বলবে… এইসব ভেবে। কিন্তু আস্তে আস্তে যে সবচেয়ে দামী ইনভেস্টমেন্টটা পাঁকে চলে যাচ্ছে…মানে “সময়”…যেটা আর ফিরে আসবে না, তার কথা ভাবা হয়ে ওঠে না।   কিছুই কিন্তু অপূরণীয় নয়। আপনি না থাকলে, বা আমি না থাকলে সব কি থমকে যাবে? কিছুদিন আগে ইন্সটাগ্রামে একটা পোস্ট দেখে...

নিশিদিন আলোক শিখা জ্বলুক প্রাণে

  জীবনের সবকিছু আমাদের শেখায়। যাদের সাথে দেখা হয়, যাদের সাথে থাকা হয়, যাদের কথা ভাবা হয়, যা যা ঘটে  … সবার থেকে কিছু না কিছু শিখতে পারা যায়। বা, বলা ভালো- শিখতে পারতে হয়, শিখতে জানতে হয়। কারণ, শিখতে পারলে এইসবই আমাদের কাছে “অভিজ্ঞতা” যা জীবন চলতে সাহায্য করে। নতুবা, এগুলোই আমাদের যাবতীয় অ-সুখের কারণ।    তাই, আমাদের প্রতিটা মুহূর্তের ঘটে যাওয়া, ঘটতে থাকা ঘটনাগুলো, ঘটনার কুশীলব সকলেই আমাদের শিক্ষক।   এইসব শিক্ষকদের অবহেলা করবেন না। যখন আপনি মনের মতন চাকরি পাচ্ছেন না, বা যখন কোনও সম্পর্ক প্রশ্নচিহ্নের সামনে, অথবা যখন আপনার বিরুদ্ধে সব ঘটছে, আপনি সমস্যার সম্মুখীন, সেই মুহূর্তে এই শেখার পাঠ আরও বেশি করে মনে করুন। কবি তো বলেই গেছেন কতভাবে – “আরও বেদনা, আরও বেদনা, প্রভু দাও মোরে আরও চেতনা”… “চির পিপাসিত বাসনা-বেদনা, বাঁচাও তাহারে মারিয়া…” “আমি বহু বাসনাই প্রাণপণে চাই, বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে”….. গানগুলো শোনা হয়, গাওয়া হয়, কিন্তু অর্থটাই বোধগম্য হতে পারে না। সমস্যার সময়ে নিজের জীবনের শিক্ষাগুলোকে মনে করে ফেলতে পারলেই কিন্তু সেই পরীক্ষাটা সহজে পাশ করা হয়ে যাবে। যে সব অবস...