শুন্ডির রাজা আজও অচেতন, হাল্লা চলেছে যুদ্ধে,
আর আমরা ঘুমাই প্রতিক্রিয়ায়; স্বপক্ষে
- বিরুদ্ধে।
সকাল থেকে উঠে সারাদিন, তারপর সারারাত...
কে কি ভাবছে, বলছে -করছে ভেবে যাই সাতপাঁচ।
পুঁজি জমছে ব্যাঙ্কে আর সুগার-প্রেসার ঘরে;
লাগামহীন অ্যাড্রিনালীন সর্বত্র ছিটকে পরে।
মনখুলে আজ হাসতে গেলে ভরসা লাফিং ক্লাব,
নিজেকে হারিয়ে ফেলার খেলায় মেতেছি আমরা সব।
গুপী গাইন – বাঘা বাইন সিনেমা দেখে নি, এমন কেউ আছে কি? সিনেমার একটা গানের লাইন ‘হেডিং’ দিলাম লেখায় আর, শুরু করার সময় অনুরোধ রাখছি, আরেকটা গান মনে করার... “এক যে ছিল রাজা, তার ভারি দুখ”। এই গানটায় তিনটে প্রশ্ন করা হয়েছে– দুঃখ কীসে হয়, দুঃখ যাবে কি আর দুঃখ কীসে যায়। এবং উত্তরও দেওয়া হয়েছে (গানটা মনে করুন, নতুবা শুনে ফেলুন আরেকবার)। তো, আমি কেনই বা আজ এই কাজ করাচ্ছি আপনাদের দিয়ে, জানতে চাইবেন নিশ্চয়ই।
আরেকটা সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে মুল কথায় আসার চেষ্টা করছি। কয়েকবছর আগে আমির খানের একটা ছবি এসেছিল, অ্যাডাল্ট ফিল্ম – ‘তারে জমীন পর’, হয়তো দেখে থাকবেন। অ্যাডাল্ট বললাম, কারণ, আমি সর্বতঃ ভাবে বিশ্বাস করি, সিনেমাটির মাধ্যমে যে ম্যাসেজ পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে, সেটি বড়দের জন্য, ছোটদের জন্য নয়। পেরেন্টীং নিয়ে কাজ করি, তাই সিনেমাটি সম্পূর্ণভাবে অভিভাবক এবং শিক্ষক-শিক্ষিকার জন্য ছিল বলে মনে হয়। (হয়তঃ সহমত হবেন না, তবে একটু ভেবে দেখবেন)। সিনেমাটির একটি দৃশ্যে, যেখানে নিকুম্ভ স্যার ঈশানের বাড়ি এসেছেন এবং ঈশানের বাবা-মায়ের সাথে কথা বলছেন, সেখানে সলোমন আইল্যান্ডের কথা বলা হয়েছিল; মনে পরছে?? বলা হয়েছিল যে সলোমন আইল্যান্ড এমন একটি যায়গা যেখানে কোনও গাছ যদি কাটতে হয়; কোনও হাতিয়ার ব্যাবহার করা হয় না; গাছের সামনে গিয়ে সারা গ্রামের মানুষ কয়েকদিন ধরে বাজে বাজে কথা বলে, গালাগালি দেয়- দেখা যায়, গাছটা কিছুদিনের মধ্যেই শুকিয়ে মরে গেছে। কিছুদিন আগে আমেরিকার এক স্কুলে এইরকম একটা পরীক্ষা করা হয়েছিল। স্কুলের করিডোরের দুদিকে দুটো এক রকমের গাছ, টবশুদ্ধু রেখে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটা ছাত্রছাত্রীকে বলা হয়েছিল, নির্দিষ্ট একটি গাছের কাছে গিয়ে “আই লাভ ইউ” বলতে (ভালবেসে) আর অপর গাছটির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল “আই হেট ইউ” (রাগতঃ ভাবে)। দুটি গাছকেই নিয়ম মাফিক জল এবং সার দেওয়া সত্বেও দেখা যায়, একটি গাছ আস্তে আস্তে শুকিয়ে যাচ্ছে। আশাকরি কোন গাছটা – আর বলে দিতে হবে না।
গাছের প্রান আছে আমাদের মতন। তাহলে, যদি একটা গাছ, এইভাবে বাজে কথা শুনে অভিমানে শুকিয়ে মরে যেতে পারে, তাহলে আমরা ....... ?? আরে, বাজে কথা, খারাপ কথা আমরা বলি না কি? আমরা তো উচিৎ কথা বলি, তাই না? আচ্ছা, হয়তো বলি না, তা বলে কি ভাবিও না?? কি বলেন? কিন্তু, কষ্ট তো পাই, দুঃখ হয়, কান্না পায়, রাগ হয় – সেগুলো কি ভালো? মনস্তত্ব বলে, আমরা যখন অতীতের কথা বেশি ভাবি, উদ্বেগে ভুগি আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার চিন্তা আমাদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে ফেলে। তাই সেই বিখ্যাত উক্তি অনুযায়ী – “Yesterday is History, Tomorrow is Mystery, Today is a gift and it is called Present”. আর এটাই হল, মাইন্ডফুলনেসের মোদ্দা কথা।
তো যে কথা বলছিলাম; এই গাছ এবং আমাদের মধ্যে প্রান ছাড়াও আরেকটা মহার্ঘ্য বস্তু হল ‘জল’; ছোটবেলায় কত রচনা লিখেছি ‘জলই জীবন’; মনে পরছে? বিজ্ঞান বলে, আমাদের শরীরের ৭২% জল, আবার অদ্ভুতভাবে, পৃথিবীর মধ্যেও জলের ভাগ এই ৭২%। ম্যাজিক না?
আচ্ছা, আপনি কি মানেন, আমাদের শরীরের রোগভোগের উৎস আমাদের ভেতরকার চিন্তা-ভাবনা? আসলে, কথাগুলো এইবার ভীষণ খাপছাড়া হয়ে পরছে। নাহঃ দেখছি গল্পের আশ্রয় না নিলে আর চলছে না। এইবার একটা গল্প বলি;
১৯৯০ সালে, বিগত ২০ বছর ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর জাপানী বিজ্ঞানী
ডাঃ মাসারু ইমোতো সারা বিশ্ববাসীকে জানান, আমাদের অনুভূতি কি ভাবে জলের উপর প্রভাব
বিস্তার করতে পারে। উনি একটি ঝর্নার জলকে বিভিন্ন বোতলে ভরে উনি প্রতিটা বোতলের
গায়ে এক একটা লেবেল লাগিয়েছিলেন কিছু অনুভূতির নাম লিখে। অনুভূতির রেঞ্জ ইতিবাচক
(আই লাভ ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ ইত্যাদি) থেকে নেতিবাচক (আই হেট ইউ, আই ওয়ান্ট টু কিল ইউ
ইত্যাদি) অব্দি ছিল। প্রতিটা বোতলের মুখে উনি নির্দিষ্ট অনুভূতিগুলো বার বার
প্রবেশ করাচ্ছিলেন বলে বলে। এরপর প্রতিটা বোতলের জলকে ঠাণ্ডা করে ক্রিস্টাল তৈরি
করা হল। এবং মাইক্রোস্কোপের নীচে সেই জলের ক্রিস্টাল আরেকরকম ম্যাজিক দেখাল। দেখা গেল যে, ইতিবাচক
অনুভুতিবাহক বোতলের জলের ক্রিস্টালগুলো অত্যন্ত সুন্দর আকার নিয়েছে এবং নেতিবাচক
অনুভুতিবাহক বোতলের জলের ক্রিস্টালগুলো ছিল ঠিক তার বিপরীত।
ডাঃ ইমোতোর পর্যবেক্ষণ চিকিৎসা শাস্ত্রে আলোড়ন ফেলে দেয়। মানুষ সচেতন হওয়া শুরু করে “ওয়াটার কনশাসনেস” নিয়ে।
রেগে গেলে কান গরম হয়ে যাওয়া অনুভব করেছেন তো? দেখেছেন নিশ্চয়ই, পরিবারের সব থেকে ভালো বৌদি, কাকিমা বা জেঠিমা, যে সবার মনের মতন ছিল, খুব কষ্ট পেয়ে বা রোগে ভুগে মারা গেছেন / যাচ্ছেন; আর সেই সময় বলাবলি হচ্ছে, এত ভালো মানুষের সাথে ভগবান এইরকম কেন করলেন....... হয়েছে কি এমন অভিজ্ঞতা? এইবার ডট জয়েন করুন, ডাঃ ইমোতোর পরীক্ষা এবং আপনার নিজের ফিলিংগুলোর সাথে। ছোটবেলায় গল্পে পড়া মন্ত্রপুতঃ জলের কামাল তাহলে মনগড়া নয়, কি মনে হচ্ছে এখন?
মানে, তাহলে কি একটু এভাবে ভাবা যাচ্ছে যে, ভাবনাগুলোকে ভাবার সময় সচেতন হলে আমাদের ভালো থাকা অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে?
জানেন তো, আমাদের চারপাশটা অনেকটা রাবার শীটের মতন। যা ফেলবেন, ফিরে আসবে। দেখবেন লক্ষ্য করে, মন যখন ভালো থাকে, তখন সবকিছুই ভালো লাগে; আর মন খারাপ হলে সাথে সাথে ঘরের বাল্ব কেটে যায়, জুতো চুরি হয়ে যায়, অফিসে কেস খাওয়া.... পরপর হতেই থাকে। আমরা দোষ দিই সময়কে, কপালকে আর একে-ওকে- যাকে পারি তাকে। ছেলেমানুষি কি বয়স বাড়লেই চলে যায় না কি? হা হা হা।
বিষয়টা হচ্ছে, আপনি কি ভাবে দেখছেন। আমরা কেউ কিন্তু ভুল করি না; আমরা যেমন ভাবি, ঠিক তেমনটাই করে ফেলি। আবার একটা উদাহরণ দিই। ধরুন, রাস্তায় একজন লোক শুয়ে রয়েছে, যদি আপনি ডাক্তার হন, আপনি কি ভাববেন? নিশ্চই লোকটি অসুস্থ, মাথা ঘুরে পরে গেছে। আপনি যদি শ্রমিক হন, ভাববেন, না খেতে পেয়ে মারা গেছে হয়তো; আর যদি কোনও মদ্যপ মানুষ দেখে..... তাহলে দেখুন, একটা অবস্থা, ব্যক্তি বিশেষে এক এক রকম রুপ নেয় – এক পাচমেশালি ‘পরিস্থিতি’ তৈরি করে, যার মধ্যে আমরা নিজেদের ‘স্থিতি’-কেই হারিয়ে ফেলি বারবার। জাজ করতে থাকি, একবারও ভাবি না, কয়েনের কিন্তু উলটো পিঠও আছে, মানে অন্যরকম ভাবেও ভাবা যায়...
আচ্ছা, একবারও খেয়াল করেছেন, যে ডাক্তারের সাথে কথা বলে ভালো লেগেছে, সেই ডাক্তারের ওষুধ বেশি কাজ করেছে? এটাও কিন্তু সেই ডট জয়েন করে প্রমান করা যায়। এমন মানুষ আছে না, যার সাথে কথা বললেই মনে হয় কোনও সমস্যা সমস্যাই নয়; আবার অনেক মানুষ আছেন যারা তিল কে তাল করে ফেলেন জাস্ট। এখানেও সেই ডট জয়েনের গপ্পো স্যারজী।
এখন, এই “হাল্লা রাজা”র মতন চিন্তাগুলোকে কি ভাবে বশে আনা যায়, এটাই প্রশ্ন
তো? আবার একটা গল্পের আশ্রয় নিই। একটা বড় অ্যাকোয়রিয়ামে একবার একটা সার্কের বাচ্চা
রাখা হল আর সাথে কিছু রঙ্গিন মাছ। সার্কছানা তো মাছগুলোকে গপগপিয়ে খেয়ে ফেলল। আবার
কিছু মাছ ছাড়া হল, তারাও সার্কছানার পাকস্থলীতে চলে গেল নিমেষে। এইভাবে চলতে থাকল
কিছুদিন। এরপর অ্যাকোয়রিয়ামের মধ্যে একটা স্বচ্ছ্ব কাচের পার্টিশান দিয়ে একদিকে
সার্কছানাকে রাখা হল, আর অন্যদিকে দেওয়া হল রঙ্গিন মাছ। মাছ দেখে তো ক্ষুধার্ত
সার্কছানা বার বার খেতে যাচ্ছে, কিন্তু ধাক্কাও খাচ্ছে বারবার। এইভাবে কয়েকদিন
থাকার পর দেখা গেল, সার্কছানাকে যা খেতে দেওয়া হচ্ছে, তাই খাচ্ছে, মাছগুলোর দিকে
হামলে পরছে না। এরপর একদি, সেই কাচের পার্টিশান তুলে দেওয়া হল; কিন্তু দেখা গেল যে
সার্কছানা আর রঙ্গিন মাছ খেতে যাচ্ছে না। কেসটা কি হয়েছিল বলুন দেখি ? কাচের
পার্টিশানে ধাক্কা খেতে খেতে সার্কছানা মনে করতে শুরু করেছিল যে, ওই পার্টিশান
আছে; তাই সেইটা তুলে দেবার পরেও সে আর মাছ খাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে নি। জানেন,
চিড়িয়াখানায় হাতির বাচ্চাকে এই ভাবেই ‘সবক’ শেখানো হয়? হাতির দুষ্টু বাচ্চার পায়ে
শিকল বেঁধে রাখা হয়, তাই সে দূরে কোথাও যেতে চাইলেই শিকলে টান পরে, পায়ে লাগে।
এরপর বড় হয়ে গেলে, পায়ের শিকল খুলে নিলেও সে আর কোথাও যায় না, সে মনে করে, তার
পায়ের শিকলটা এখনও বাঁধাই আছে।
আমাদের মনের মধ্যে এইরকম ক’টা পার্টিশান / শিকল আমরা পুষে রেখেছি, বলুন তো? এটা ঠিক নয়, এটা পারি না, এটা খারাপ, এটা হয় না, এটা করা যায় না, এইটা সম্ভব না ...... কোনোদিন বসে বসে গুনবেন তো! সার্কছানা বা হাতির বাচ্চার সাথে যেটা হয়েছে, বিজ্ঞানের ভাষায় তা হল –‘প্লাসিবো এফেক্ট’। আমরা আমাদের মগজে যা ফিড করি, সেটাই আমাদের কাছে সত্যি বলে মনে হয়। একবার এই প্লাসিবো এফেক্ট নিয়ে একটা পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছিল যে ক্যান্সারের পেশেন্টকে প্রতিদিন এনকারেজিং কথা বলতে বলতে তার রিকভারি রেট বেড়ে যায়, অস্বাভাবিক কম সময়ে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। এইজন্য বিদেশে, অসুস্থ মানুষদের পরিবারকে গ্রুম করা হয়, পেশেন্টের সঙ্গে কি ভাবে ব্যবহার করতে হবে, তা নিয়ে। তবে, সেলফ মোটিভেশনের জবাব নেই!!
“হামকো মন কি শক্তি দে না, মন বিজয় করে –
দুসরো কো জয় সে পেহলে খুদকো জয় করে...”
কবি বলে গেছেন – ‘বিপদে মোরে রক্ষা কর, এ নহে মোর প্রার্থনা, বিপদে আমি না যেন করি ভয়’। পারফেক্ট প্লাসিবো অ্যাফারমেশান।
ভালো কথা ভাবলে, ভালো কথা মানলে আমরা সবকিছুতে ভালো দেখি কিন্তু।আর, ভালো ভাবা প্র্যাকটিস করলে, মাসারু সাহেবের দেখানো আমাদের শরীরের জলের ক্রিস্টালগুলোও তরতাজা হয়ে যাবে, প্লাসিবো এফেক্ট সাহায্য করবে আমাদের শারীরিক এবং মানসিক সুস্থ থাকায়।
থ্রি ইডিয়েটস ছবিতে ফুংসুক ওয়াংডু র শেখানো ‘আল ইস ওয়েল’ কিন্তু আসলে সেই প্লাসিবো এফেক্ট এরই নিদর্শন। নিজে ভালো থাকলেই কিন্তু আমরা অন্যকে ভালো রাখতে পারব। এরজন্য প্রথম পদক্ষেপ – ভালো ভাবা, ভালো অনুভব করা। যা হচ্ছে, তা ভালোর জন্যই হচ্ছে, যা হয় তা ভালোর জন্যই হয় – একবার প্র্যাকটিস করে দেখা যাক না – যদি শিকলটা যে নেই, বুঝতে পারি।
কয়েকটা সহজ টিপস রইল –
- জলকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবলে, জল খাওয়ার সময়, বসে জল খাবার চেষ্টা করবেন।
- খেতে খেতে (যা কিছু) কথা না বলার চেষ্টা করবেন (ছোটবেলায় শেখানো হত, আমরাও
আমাদের ছোটদের শেখাই, কিন্তু নিজেরাই ফলো করি না। ভুলে যাই যে, ছোটরা কথা শোনে না,
দেখে শেখে)। আমরা যখন খাই, আমরা কিন্তু এনার্জি ইনটেক করি। খেতে খেতে নেতিবাচক কথা
ভাবলে বা বললে, শরীরের ভেতর জলের ক্রিস্টাল কিন্তু ভুলভাল শেপ নিতে থাকে। খেয়াল
রাখবেন।
- গ্রেটফুলনেস প্র্যাকটিস করুন। যা আছে, সেইটা নিয়ে ভাবুন, যা নেই – সেগুলো নিয়ে
অনেক দিন ভাবা হয়ে গেল তো। দেখবেন, প্লাসিবো এফেক্ট কি ভাবে কাজ করে।
- যেটা চান না, সেটা নিয়ে কথা বলবেন না, ভাববেনও না। আচরন – উচ্চারণ- মননের
সংযোগে তৈরি হয়েছে “ওম”। এই তিন উপায় দিয়ে নিজের ভাবনাকে সুরক্ষিত করুন।
- আমাদের কারোর ক্ষমতা নেই অন্যকে পরিবর্তন করার; আমরা শুধু আমাদের নিজেকে
পরিবর্তনের অসীম ক্ষমতা ধারণ করি। আর যেই মুহূর্তে আমরা আমাদের বদলাতে পারব – সেই
মুহূর্তেই “আঁধারের দৃষ্টি হতে ঘুচবে কালো, যেখানে পরবে সেথা দেখবে আলো”।
শেষে, জিনিয়াস রায় সাহেবের “মগজ ধোলাই” এর ডোস রইল মগজাস্ত্রে শান দেবার জন্য।
“ এক যে ছিল রাজা-তার ভারি দুখ্।
দ্যাখো রাজা, কাঁদে রাজা, আহা রাজা, বেচারা রাজার
ভারি দুখ্!
দুঃখ কিসে হয়?
অভাগার অভাবে জেনো শুধু নয়।
যার ভাণ্ডারে রাশি রাশি সোনা দানা ঠাসা ঠাসি , তারও হয় ।
জেনো সেও সুখী নয়
দুঃখ যাবে কী?
বিরস বদনে রাজা ভাবে কী?
বলি যারে তারে দিয়ে শাস্তি রাজা কখনো সোয়াস্তি পাবে কী?
দুঃখ যাবে কী?
দুঃখ কিসে যায়?
প্রসাদেতে বন্দী রওয়া বড় দায়।
একবার ত্যাজিয়া সোনার গদি রাজা মাঠে নেমে যদি হাওয়া খায়!
তবে রাজা শান্তি পায়”।
ভালো থাকবেন। ভালো ভাববেন।
ভালো রাখবেন।
জয়তি মুখোপাধ্যায়
ছবি ও তথ্য ঋণঃ গুগল


Comments
Post a Comment