Skip to main content

যাদু দাওয়াই

 


বাজারে একটা নতুন যাদু ট্যাবলেট এসেছে- যেটা আপনার হ্যাপিনেস বাড়িয়ে দেবে – জানেন কি?

আমি একটা নতুন ট্যাবলেটের খবর পেয়েছি যেটা আমাদের উদ্বেগ শুধু কমাবে তাই নয়, আমাদের মানসিক সুখ ও শান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এছাড়া ওষুধটার যে যে সাইড এফেক্টগুলো রয়েছে, তা হল – এটা আপনার মধ্যে আত্মসম্মানবোধ, সহানুভূতি, আত্মবিশ্বাস ও স্মৃতিশক্তিও বাড়িয়ে দেবে। 

কিন্তু একটাই মুশকিল। 

ট্যাবলেটের দামটা বেশ বেশি প্রায় ৬০০ আর দিনে একবার অন্ততপক্ষে নেওয়া খুব জরুরি। 

হ্যাঁ, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এই ওষুধটার জন্য দোকানদার আপনার থেকে মাত্র ৬০০ সেকেন্ড দাবী করেন। আপনি আপনার কাছে দোকানগুলোতেও এই ওষুধটির খবর নিতে পারেন। 

এটি একটি ব্লকবাসটার ড্রাগ। আর নাম হল – “মেডিটেশান”। হা হা হা

600 seconds = 10 mins a day, that’s all.

তাহলে, আপনি কি এটা কিনছেন ? জলদি সিদ্ধান্ত নিন। স্টক কিন্তু লিমিটেড।

আমি বলে দিচ্ছি, আমি কিভাবে এটা নিই।

আমি একটা শান্ত জায়গায় বসি, চোখ বন্ধ করে, নিজের দুটি ভ্রুর মাঝে মনঃসংযোগ ঘটানোর চেষ্টা করি। মনের ভাবনাগুলোকে আটকাই না। তারা নিজেদের মতন যাওয়াআসা করে। আমি শুধু জয়তিকে বলতে থাকি, আমার মনঃসংযোগে যেন ব্যাঘাত না হয়। রোজ করতে করতে দেখেছি, হয়ে যাচ্ছে।

জাস্ট ১০টা মিনিট চুপ করে বসে থাকতে হবে, আর কিছুই নয়। দোকানদার (মানে আপনি নিজেই আর কি), দেখবেন উপকারগুলো খুব শিগগির ডেলিভারি করতে পারছেন।  

শুধু লাগবে একটু ডিসিপ্লিন, একটু নিজেকে ভালবাসা আর মাত্র ১০ মিনিট।

(আমি এরপরে আরও অনেকরকম মজার মজার উপায় জানাব মেডিটেশান করার।  এইটা বেসিক। )

তাহলে, চান কি এই ম্যাজিক ট্যাবলেট এর উপকার পেতে?

ফ্যান্টাস্টিক।

চাইলেই হবে, তাই চাইতে হবে।

Comments

Popular posts from this blog

‘হো’ওপনোপনো’

কথায় আছে লেটস ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট। আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো? ক্ষমা কি করা যায়, যদিও বা যায়... সেটা কি ভোলা সম্ভব? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সময় একটা বড় ভুমিকা নেয়, দিন যেতে যেতে ঘটনার অনুভুতির তীক্ষতা কমতে থাকে, আমরা মনে করি ‘ভুলে গেছি’; কিন্তু দেখা যায়, সামান্য অনুরূপ কিছু হলে বা মনে পড়লেই দগদগে ভাব নির্লজ্জের মতন বেরিয়ে পরে।  হ্যাঁ, আমিও বলছি, ভালো থাকতে গেলে এই –“ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট” যাদুর মতন কাজ করে। একটা সত্যি ঘটনা বলি আজকে, আমার জীবনের। আমার বাড়ির পাশেই একটা কোচিং সেন্টারে আমার ছেলে পড়ত। ঘটনাক্রমে, সেন্টারহেডের ছেলেও আমার ছেলেরই ক্লাসের বন্ধু। প্রচলিত আছে, সেই সেন্টারহেড (নাম ধরে নিই ‘ক’বাবু) ভালো ছাত্রছাত্রী ছাড়া সেই সেন্টারে পড়ান না। তাই, আমার ছেলে যখন ক্লাস সেভেন (ছেলে আমার বরাবরই ৬০% পাওয়া – ছোটবেলায় লারনিং ডিসঅর্ডার ছিল) তখন তিনি তাকে যোগ্য মনে করেন নি সেই সেন্টারের। ক্লাস নাইনের সময়, আমি দেখলাম, ওর ক্লাসের অনেকজন ওই সেন্টারেই পড়ে আর বাড়ির পাশে বলে, আমারও সুবিধে হবে, অনেকগুলো পথ খরচ বেঁচে যাবে... এইসব ভেবে আবার গেলাম ‘ক’ বাবুর কাছে, অনুরোধ করলাম আমার ছেলেকে ভর্তির জন্য; বদলে ...

শিক্ষা

  একবার হয়েছে কি, ভীষণ উত্তেজনাবশতঃ বেশ কড়া দামে টিকিট কেটে দেখতে গিয়েছিলাম একটা সিনেমার ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো। তারপর…. একঘণ্টা যেতে না যেতেই প্রান হাঁসফাঁস, হাত কামড়ানো। মনে যুদ্ধ চলছে – ‘এত খাজা ছবি কি করে হতে পারে’র সাথে ‘ঈশ, কত খরচ হয়ে গেল’র। ভাবতে ভাবতে, পকেট আরও খসিয়ে পপকর্ণ আর কোল্ড্রিঙ্কও খাওয়া হয়ে গেল। হল থেকে বেড়িয়ে কান মুলেছিলাম, এমন বোকামি আর হবে না, শপথ টপথও নিয়েছিলাম খানিক। বলুন তো, আসল বোকামিটা কোনটা ছিল? দামী টিকিট কেটে বাজে সিনেমা দেখা না কি সিনেমাটা বাজে বুঝেও, বেশি খরচ হয়ে গেছে এই ভেবে, হলে বসে নিজের সময় বরবাদ করে পুরো সিনেমাটা হজম করা? নিজেদের জীবনের দিকে একবার ভালো করে তাকাই তো; আমাদের সম্পর্কগুলোও অনেকটা এইরকম নয় কি? কাজ করছে না জেনেও, লেগে থাকি, সম্পর্কের ভার বয়ে চলি অনেক ইনভেস্টমেন্ট হয়ে গেছে, লোকে কি বলবে… এইসব ভেবে। কিন্তু আস্তে আস্তে যে সবচেয়ে দামী ইনভেস্টমেন্টটা পাঁকে চলে যাচ্ছে…মানে “সময়”…যেটা আর ফিরে আসবে না, তার কথা ভাবা হয়ে ওঠে না।   কিছুই কিন্তু অপূরণীয় নয়। আপনি না থাকলে, বা আমি না থাকলে সব কি থমকে যাবে? কিছুদিন আগে ইন্সটাগ্রামে একটা পোস্ট দেখে...

নিশিদিন আলোক শিখা জ্বলুক প্রাণে

  জীবনের সবকিছু আমাদের শেখায়। যাদের সাথে দেখা হয়, যাদের সাথে থাকা হয়, যাদের কথা ভাবা হয়, যা যা ঘটে  … সবার থেকে কিছু না কিছু শিখতে পারা যায়। বা, বলা ভালো- শিখতে পারতে হয়, শিখতে জানতে হয়। কারণ, শিখতে পারলে এইসবই আমাদের কাছে “অভিজ্ঞতা” যা জীবন চলতে সাহায্য করে। নতুবা, এগুলোই আমাদের যাবতীয় অ-সুখের কারণ।    তাই, আমাদের প্রতিটা মুহূর্তের ঘটে যাওয়া, ঘটতে থাকা ঘটনাগুলো, ঘটনার কুশীলব সকলেই আমাদের শিক্ষক।   এইসব শিক্ষকদের অবহেলা করবেন না। যখন আপনি মনের মতন চাকরি পাচ্ছেন না, বা যখন কোনও সম্পর্ক প্রশ্নচিহ্নের সামনে, অথবা যখন আপনার বিরুদ্ধে সব ঘটছে, আপনি সমস্যার সম্মুখীন, সেই মুহূর্তে এই শেখার পাঠ আরও বেশি করে মনে করুন। কবি তো বলেই গেছেন কতভাবে – “আরও বেদনা, আরও বেদনা, প্রভু দাও মোরে আরও চেতনা”… “চির পিপাসিত বাসনা-বেদনা, বাঁচাও তাহারে মারিয়া…” “আমি বহু বাসনাই প্রাণপণে চাই, বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে”….. গানগুলো শোনা হয়, গাওয়া হয়, কিন্তু অর্থটাই বোধগম্য হতে পারে না। সমস্যার সময়ে নিজের জীবনের শিক্ষাগুলোকে মনে করে ফেলতে পারলেই কিন্তু সেই পরীক্ষাটা সহজে পাশ করা হয়ে যাবে। যে সব অবস...