Skip to main content

আপোষে পাপোশ ??



শুনছেন?

আপনি কি –

১) একদম ‘না’ বলতে পারেন না?মানে, যেসব ক্ষেত্রে ‘না’ বলাটা জরুরি, সে সব ক্ষেত্রে – বলতে পারেন না? ঠোঁটে এসেও আটকে যায় – হ্যাঁ বলতে হয়?

২) আপনার সরল প্রকৃতি কি সবাই নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে? মানে, আপনি নিজে বুঝতে পারেন যে আপনাকে ইউস করা হচ্ছে?

৩) যাই কাজ করুন না কেন, কখনো প্রশংসিত হন না?

৪) সকলের কাজে আসলেও, আপনার প্রয়োজনে কাউকে কাছে পান না?

৫) সংসারে সকলের জন্য একরকম নিয়ম কানুন আর আপনার জন্য আরেকরকম?

৬) আপনার নিজের মনের কথা বলার মতন, শোনার মতন কেউ নেই অথচ সকলের বিভিন্ন সমস্যায় আপনাকেই এগিয়ে যেতে হয়।   

যদি এরকম কিছু হয়ে থাকে আপনার সাথে, তাহলে ভেরি সরি, আমাকে বলতে হচ্ছে; জীবনে আপোষ করতে গিয়ে আপনি নিজেকে পাপোশ তৈরি করে ফেলেছেন।

হ্যাঁ, এটা সত্যি; ছোটবেলা থেকে আমাদের শেখানো হয়, সংসারে মানিয়ে চলতে। কিন্তু কখনও শেখানো হয় না যে – এই মানিয়ে চলা যখন কোণঠাসা করে দেয়, তার থেকে বেরোনো যায় কি ভাবে।

যদি মনে করেন, এই বদ্ধ দশা থেকে বেরবেন, এখনও সময় আছে, উপায় আছে। শুধু দরকার দৃঢ় মানসিকতা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির। এই দুটোই আসবে যখন আপনি শুরু করবেন নিজেকে ভালবাসতে।

ভাবুন, ভাবতে শুরু করুন – খুব সহজ; শুধু নিজেকে দেওয়া শুরু একটু সময় করতে হবে, এই যা। আমি জানি, পারবেন আপনি।

পরিস্থিতি  - পরের দ্বারা তৈরি স্থিতিতে আর নিজের স্থিতি হারালে চলবে না। 

তাহলে, শুরু করা যাক –

ক) প্রথমেই, কথা বলা শুরু করুন। কথা বলুন তাদের সঙ্গে, যাদের জন্য নিজেকে আপনি পাপোশ করে ফেলেছেন।সময় নিন, মনে জোর আনুন, সাহস আনুন।নিজের অনুভুতি জানান বলিষ্ঠ ভাবে, করুনা বা আর্তি নয়। আপনি অনেক কিছু করতে পারেন, আপনাকে প্রয়োজনে লাগে। তাহলে, নিজেকে ছোট বা হীন ভাবা বন্ধ করা শুরু করুন। জানান – আপনার খারাপ লাগা, কষ্ট পাওয়া, আপনার আশার কথা।  

খ) কথা বলে কোনও কাজ না হলে, দুরত্ব রাখা শুরু করুন – দেওয়াল তৈরি শুরু হোক। একটা মজার কথা বলে রাখি ; শুধু হাসি মুখ দিয়েই কিন্তু দেওয়াল তৈরি করা যায়। প্রত্যুত্তর বা প্রতিক্রিয়া হার মেনে নেয়। পরখ করতে পারেন।  

গ) দুরত্বেও কাজ না হলে, বেশ কিছুদিনের জন্য তাদের থেকে নিজেকে যে কোনও রকমের যোগাযোগ থেকে বিরত রাখুন। তাদের ভাবতে দিন- আপনি খারাপ। এতদিন তো সবার কাছে ভালো হতে চেয়ে দেখেছেন, কি পেয়েছেন। তখন সবকিছু করেও খারাপ হতেন, এখন না হয় না করে খারাপ হোন। সেটা তো ভালো।

ঘ) সবকিছু উপায় যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে বলব – বেড়িয়ে আসুন সেই সম্পর্ক থেকে। টাটকা কিছু আনার আগে তো ঘরের পচা জিনিস ফেলে দিতে হয়, ঠিক তেমনি, নেতিবাচক সম্পর্ক থেকে না বেরোলে ইতিবাচক জীবন আশা করা বৃথা।

ঙ) শুরু করুন নিজেকে ভালবাসতে। নিজের যথার্থ দেখভাল শুরু করুন – শরীর ও মন উভয়েরই। নিজের সাথে বন্ধুত্ব করুন, নিজের সাথে কথা বলুন। নিজের সেলফ-কেয়ার রুটিন তৈরি করুন, সেটাকে মেনে চলুন। যা খুশি ওরা বলে বলুক; ওদের কথায় কি আসে যায়.....

যেটা বলার – সবকিছুই কিন্তু সময় সাপেক্ষ। সময় দিন, নিজেকেও – অন্যদেরও। আমাদের নিজের ছায়া যদি বেঁকে থাকে, যতক্ষন নিজে সোজা না হচ্ছি, ছায়াও সোজা হবে না। আমরা যে সময়টা নিজের মনে অন্যদের কথা ভেবে, তাদের আচরণে দুঃখ পেয়ে কাটাই, সেই সময়টা নিজেকে মানসিক ভাবে শক্তিশালী করার জন্য ব্যয় করলে কিন্তু দেখব সেই ছায়া আপনে আপ সোজা হয়ে গেছে। নিজেকে দুঃখী ভাবা বন্ধ করুন, জীবনের প্রাপ্তিগুলোকে মনে করুন। জীবন থেকে অন্যদের জন্য সমস্ত অভিযোগ মুছে দিন, নিজেকে প্রশংসা করা শুরু করুন – দেখবেন, যা চাইছেন, তাই হচ্ছে।

শেষে সেই এক কথা – চাইলেই হবে, তাই চাইতে হবে!!

অভিনন্দন।

ভালো থাকবেন।

জয়তি


Comments

Popular posts from this blog

‘হো’ওপনোপনো’

কথায় আছে লেটস ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট। আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো? ক্ষমা কি করা যায়, যদিও বা যায়... সেটা কি ভোলা সম্ভব? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সময় একটা বড় ভুমিকা নেয়, দিন যেতে যেতে ঘটনার অনুভুতির তীক্ষতা কমতে থাকে, আমরা মনে করি ‘ভুলে গেছি’; কিন্তু দেখা যায়, সামান্য অনুরূপ কিছু হলে বা মনে পড়লেই দগদগে ভাব নির্লজ্জের মতন বেরিয়ে পরে।  হ্যাঁ, আমিও বলছি, ভালো থাকতে গেলে এই –“ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট” যাদুর মতন কাজ করে। একটা সত্যি ঘটনা বলি আজকে, আমার জীবনের। আমার বাড়ির পাশেই একটা কোচিং সেন্টারে আমার ছেলে পড়ত। ঘটনাক্রমে, সেন্টারহেডের ছেলেও আমার ছেলেরই ক্লাসের বন্ধু। প্রচলিত আছে, সেই সেন্টারহেড (নাম ধরে নিই ‘ক’বাবু) ভালো ছাত্রছাত্রী ছাড়া সেই সেন্টারে পড়ান না। তাই, আমার ছেলে যখন ক্লাস সেভেন (ছেলে আমার বরাবরই ৬০% পাওয়া – ছোটবেলায় লারনিং ডিসঅর্ডার ছিল) তখন তিনি তাকে যোগ্য মনে করেন নি সেই সেন্টারের। ক্লাস নাইনের সময়, আমি দেখলাম, ওর ক্লাসের অনেকজন ওই সেন্টারেই পড়ে আর বাড়ির পাশে বলে, আমারও সুবিধে হবে, অনেকগুলো পথ খরচ বেঁচে যাবে... এইসব ভেবে আবার গেলাম ‘ক’ বাবুর কাছে, অনুরোধ করলাম আমার ছেলেকে ভর্তির জন্য; বদলে ...

শিক্ষা

  একবার হয়েছে কি, ভীষণ উত্তেজনাবশতঃ বেশ কড়া দামে টিকিট কেটে দেখতে গিয়েছিলাম একটা সিনেমার ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো। তারপর…. একঘণ্টা যেতে না যেতেই প্রান হাঁসফাঁস, হাত কামড়ানো। মনে যুদ্ধ চলছে – ‘এত খাজা ছবি কি করে হতে পারে’র সাথে ‘ঈশ, কত খরচ হয়ে গেল’র। ভাবতে ভাবতে, পকেট আরও খসিয়ে পপকর্ণ আর কোল্ড্রিঙ্কও খাওয়া হয়ে গেল। হল থেকে বেড়িয়ে কান মুলেছিলাম, এমন বোকামি আর হবে না, শপথ টপথও নিয়েছিলাম খানিক। বলুন তো, আসল বোকামিটা কোনটা ছিল? দামী টিকিট কেটে বাজে সিনেমা দেখা না কি সিনেমাটা বাজে বুঝেও, বেশি খরচ হয়ে গেছে এই ভেবে, হলে বসে নিজের সময় বরবাদ করে পুরো সিনেমাটা হজম করা? নিজেদের জীবনের দিকে একবার ভালো করে তাকাই তো; আমাদের সম্পর্কগুলোও অনেকটা এইরকম নয় কি? কাজ করছে না জেনেও, লেগে থাকি, সম্পর্কের ভার বয়ে চলি অনেক ইনভেস্টমেন্ট হয়ে গেছে, লোকে কি বলবে… এইসব ভেবে। কিন্তু আস্তে আস্তে যে সবচেয়ে দামী ইনভেস্টমেন্টটা পাঁকে চলে যাচ্ছে…মানে “সময়”…যেটা আর ফিরে আসবে না, তার কথা ভাবা হয়ে ওঠে না।   কিছুই কিন্তু অপূরণীয় নয়। আপনি না থাকলে, বা আমি না থাকলে সব কি থমকে যাবে? কিছুদিন আগে ইন্সটাগ্রামে একটা পোস্ট দেখে...

নিশিদিন আলোক শিখা জ্বলুক প্রাণে

  জীবনের সবকিছু আমাদের শেখায়। যাদের সাথে দেখা হয়, যাদের সাথে থাকা হয়, যাদের কথা ভাবা হয়, যা যা ঘটে  … সবার থেকে কিছু না কিছু শিখতে পারা যায়। বা, বলা ভালো- শিখতে পারতে হয়, শিখতে জানতে হয়। কারণ, শিখতে পারলে এইসবই আমাদের কাছে “অভিজ্ঞতা” যা জীবন চলতে সাহায্য করে। নতুবা, এগুলোই আমাদের যাবতীয় অ-সুখের কারণ।    তাই, আমাদের প্রতিটা মুহূর্তের ঘটে যাওয়া, ঘটতে থাকা ঘটনাগুলো, ঘটনার কুশীলব সকলেই আমাদের শিক্ষক।   এইসব শিক্ষকদের অবহেলা করবেন না। যখন আপনি মনের মতন চাকরি পাচ্ছেন না, বা যখন কোনও সম্পর্ক প্রশ্নচিহ্নের সামনে, অথবা যখন আপনার বিরুদ্ধে সব ঘটছে, আপনি সমস্যার সম্মুখীন, সেই মুহূর্তে এই শেখার পাঠ আরও বেশি করে মনে করুন। কবি তো বলেই গেছেন কতভাবে – “আরও বেদনা, আরও বেদনা, প্রভু দাও মোরে আরও চেতনা”… “চির পিপাসিত বাসনা-বেদনা, বাঁচাও তাহারে মারিয়া…” “আমি বহু বাসনাই প্রাণপণে চাই, বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে”….. গানগুলো শোনা হয়, গাওয়া হয়, কিন্তু অর্থটাই বোধগম্য হতে পারে না। সমস্যার সময়ে নিজের জীবনের শিক্ষাগুলোকে মনে করে ফেলতে পারলেই কিন্তু সেই পরীক্ষাটা সহজে পাশ করা হয়ে যাবে। যে সব অবস...