আপনি কি জানেন আপনার স্ট্রেসের প্রধান কারণটা যা আপনার স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে অলরেডি?
চলুন একটা পরীক্ষা করা যাক।
সামনে থাকা একটা খালি গ্লাস হাতে নিন। কি মনে হচ্ছে ? কত ওজন হবে গ্লাসটার?
আচ্ছা, এইবার গ্লাসটা রেখে দিন। ওজন কত, আমি কিন্তু গ্লাস না দেখেই বলে দিতে পারি। ম্যাজিক মনে হচ্ছে কি?
আসলে, গ্লাসের ওজনটা ম্যাটার করে না; যেটা করে, সেটা হল আপনি কতক্ষন গ্লাসটা ধরে আছেন।
আপনি যদি গ্লাসটা এক বা দুই মিনিটের জন্য ধরে রাখেন, তবে এটাকে মোটামুটি হাল্কাই মনে হবে, কিন্তু যদি এক ঘণ্টা ধরে থাকেন… আস্তে আস্তে হাত ব্যাথা শুরু হবে। আর যদি বলা হয়, পুরো একদিন এই ফাঁকা গ্লাস ধরে থাকতে, তাহলে? ভাবতে পারছেন কি হবে? হাত প্রায় পক্ষাঘাতগ্রস্তর মতন অসাড় হয়ে যাবে, গ্লাস আপনেআপ হাত থেকে পরে যাবে।
ভাবছেন তো, স্ট্রেসের কথা বলতে গিয়ে কি সব হাবিজাবি বলে যাচ্ছি?
দেখুন, যে পরীক্ষার কথা বলছিলাম, সেখানে প্রতিটা ক্ষেত্রে কিন্তু গ্লাসের ওজন একই ছিল, কিন্তু যত বেশি সময় ধরে রাখা হচ্ছিল, তত ভারি অনুভব করা যাচ্ছিল। তাই কি না?
ঠিক একই রকম ভাবে আমাদের জীবনের স্ট্রেস মানে চাপ বা উদ্বেগগুলো। কোথায় কোথায় “খুব চাপে আছি রে” বলা তো অভ্যেসে পরিনত হয়েছে কবেই… তাই তো?
নিজের উদ্বেগগুলো নিয়ে যখন অল্প সময় ভাবেন, হয়তো সেরকম কিছুই মনে হয় না…কিন্তু আমরা তো চাপে থাকতেই ভালোবাসি। সারাক্ষণ, প্রায় সারাদিন আমাদের চিন্তাগুলো থাকে দুটো পর্যায়ে – যা হয়ে গেছে, সেগুলো নিয়ে – কেন হয়েছে, এইসব ভেবে আর যা হয়নি- যদি এই হয়-ওই হয় তাই ভেবে। ভুল বলছি কি?
এই স্ট্রেস বা উদ্বেগ বর্জন যারপরনাই জরুরি এবং সম্ভব। দেখার বিষয় আপনি চাইছেন কি না।
একটা অভ্যেস করতে পারেন, রোজ সন্ধ্যেতে একটু ১০ মিনিট নিজেকে দিন, সেইদিনটা নিজের মনেই স্ক্যান করুন। দেখুন তো, কতবার আপনি উদ্বেগ অনুভব করেছেন। নিজেকে নম্বর দিন ১০ এর মধ্যে। স্ট্রেস কম = বেশি নম্বর। নিজেকে বলুন – “I am always safe, protected and guided, I am the living, loving and joyous expression of life. All is well in my world”. প্রতিদিন অভ্যেসটা করুন, দেখবেন, দশে আপনার নম্বর আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করেছে।এছাড়া ডীপ ব্রিদিং প্র্যাকটিস খুব উপকার দেয়।
গতকালের হয়ে যাওয়া ঘটনা থেকে শুধু শিক্ষাটা নিয়ে নিলেই সেটা স্ট্রেসের বদলে লারনিং হয়ে যায়। আর আমরা হাল্কা বোধ করি। গ্লাসটা আর ভারি বোধ হয় না।
আর, আপনার গ্লাস কিন্তু আপনাকেই নামিয়ে রাখতে হবে, আর কেউ পারবে না।
তাহলে, চান কি স্ট্রেসমুক্ত হতে, সুস্থ থাকতে?
গ্রেট!!
চাইলেই হবে, তাই চাইতে হবে।

Comments
Post a Comment