Skip to main content

MIRROR MAGIC – আয়নার যাদু


আয়না, আয়না, তুমি বল –
মনে আছে, ছোটবেলায় পড়া বিম্ববতীর গল্প … যেখানে দুষ্টু রানী আয়নার সাথে কথা বলতো ?
গল্পটা পড়ে একবার আমি আয়নার সাথে কথা বলতে চেষ্টা করেছিলাম, সবচেয়ে সুন্দর কে জিজ্ঞেস করাতে আয়না আমাকেই দেখিয়েছিল …. এবং কচি মনে বেশ আনন্দ হয়েছিল সেটা জানতে পেরে। আজ আবার সেই বোকা বোকা ছোটবেলা টা কে একটু মনে করতে বলছি সবাইকে।
Smile in the mirror. Do that every morning and you’ll start to see a big difference in your life. – Yoko Ono (Peace Activist)
আমাদের জীবন এখন বেশ জটিল। চতুর্দিকে অসম্ভব diversion, জীবনের পথ চলার focus হারায় বারংবার, বিশ্বাস, ভালবাসা, বন্ধুত্ব – শব্দগুলো মাঝে মাঝেই অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে …. তাই না? ভাবা যায়, এখন প্রান খুলে হো হো করে হাসার শব্দ কেবল সকালবেলা Laughing Club এই পাওয়া যায়। বাকিটা সময় তো সব কিছু মেপেজুকে করার বন্দোবস্ত।এখন যেভাবে depression , frustration, stress, pressure  শব্দগুলো বিখ্যাত, আমাদের ছোটবেলার রূপকথা পড়ার সময় কিন্তু এগুলো dictionaryতেই আটকে ছিল।
একটু ভাবলে দেখা যাবে, আমরা আদতে নিজেরদের মত করে ভাবতেই ভুলে গেছি …. পারিপার্শ্ব যেমন ভাবাতে চাইছে, আমরা Mirror-magic-rediscover-yourselfঠিক তেমনটাই ভাবছি। আমায় যখন বলা হচ্ছে, আমি কিছু পারি না, কষ্ট পেয়ে ভেবে ফেলছি, সত্যি তো, আমি তো কিছুই পারি না, আমায় যখন মোটা বলা হচ্ছে, নিজের চেহারা নিয়ে সংকোচ বোধ চলে আসছে, আমায় যখন বলা হচ্ছে, তুমি এমন করলে, ও রেগে যাবে, আমি সেই ভয়ে এমন করা বন্ধ করে ভাবতে থাকি কি করলে ও রাগবে না …… হয় না এগুলো আমাদের সাথে? প্রতিনিয়তঃ আমাদের আত্মবিশ্বাস চুর চুর হয়ে ভেঙ্গে পড়ে আয়নার কাঁচ ভেঙ্গে পড়ার মতন।

আসলে, ব্যাপারটা হল যে, আমরা নিজেরদের ভালবাসতে ভুলে গেছি, মনে করি, বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের সব ভালো করিয়ে দেবে … আরে বাবা, নিজের ভেতরের দুর্গা টা যে কষ্ট পাচ্ছে, সে বেলা ……

একজন সাধারন মানুষ এবং একজন সফল মানুষের মধ্যে যে পার্থক্য খুব সহযেই ধরা পড়ে – সেটা  হল Self confidence. মজার কথা, প্রতিটা সফল মানুষই কিন্তু একদা সাধারন মানুষের মতন fear and worries নিয়ে ছিল, সফল হওয়ার জন্য তাকে আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে হয়েছে। এখন তাদের দেখো, তারা যে কারোর চোখের দিকে চেয়ে কথা বলতে পারে, তারা যা চায়, তাই পেয়ে যায়। তাদের উপস্থিতি তাদের আত্মবিশ্বাস, সাফল্য, ক্ষমতা এবং দৃঢ়তার পরিছয় বহন করে।বহু চরাই – উতরাই পেরিয়ে কিন্তু একজন মানুষ এই সব গুনের অধিকারী হতে পারে।

তাই, আজ যদি তুমি ভাব, অনেক চরাই – উতরাই তুমিও পেরিয়েছ, তাহলে বন্ধু, সাফল্যের খুব কাছেই তুমি, শুধু একটু সময় দিতে হবে এবার নিজেকে ….
Being self-confident is a sign that you believe in yourself.
আগে নিজের জীবনের Goal ঠিক কর, এবং রোজ কিছু না কিছু করতে থাক, সেটাকে achieve করার জন্য।

চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে দ্বিধা কর না, নিজের সিদ্ধান্তকে সম্মান করো – It also helps you speak and walk more confidently, look better and feel comfortable with yourself.

আজ আমি একটা simple exercise এর কথা বলব, যাতে খুব সহজে self confidence regain  করা যাবে।

আমি নিশ্চিত, আমাদের সব্বার জীবনে একটা না একটা role model  তো নিশ্চয়ই আছে, I’m talking about professors, businessmen, actors, athletes, politicians, motivational speakers and many others. আমি খুব বিশ্বাসের সাথে বলতে পারি, তারা এই exercise প্রতি সকালে / বিকেলে, কোনো competition /meeting / performance/ etc., এর আগে করে থাকেন, বা every time they need a little confidence boost.

কি করতে হবে?mirror-magic-talk-to-yourself

  • আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াও (যত বড় আয়না, তত ভালো ফল)।
  • ভাব, আয়নার প্রতিবিম্বর সাথে তোমার ওজন share হয়েছে আধাআধি।
  • শিরদাঁড়া সোজা করে বুক ভর্তি শ্বাস নাও।
  • নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে একটা হাল্কা হাসি উপহার দাও নিজেকে।
  • নিজেকে প্রথমে বল – “I am willing to change”। নোটিশ কর, কেমন feel করছ তুমি।
  • এক হাতের চেটো দিয়ে নিজের গলা ধর, গলা থেকেই মনের কথা গুলো বেরচ্ছে , নিজেকে বল – “I am willing to release all resistance”.

নিজের সাথে কথা বলা শুরু করো, তুমি নিজের জন্য অন্যদের থেকে যা শুনতে চাও, নিজের প্রতিবিম্বকে সেগুলো শোনাও; যেমন – “I love myself”, “I believe in myself!”, “I can!”, “Everyday I get 1% better.”, “I know what I want and aren’t afraid to get it.”
তুমি নিজের ইচ্ছেমত নিজেকে যা খুশি বলতে পার – বল, “আমি সুন্দর, আমার চোখ খুব সুন্দর, আমার হাসিটা মন ভোলানো, আমার দারুন ফিগার, “I am the best”, “I can take right decision, I can let go which is not serving me anymore”.
এটা কিন্তু কোন আত্মগর্বীতা বৃদ্ধির অভ্যেস নয়, বরং  about starting to believe in yourself, your potential and possibilities.
  • ভাবতে থাকো, তুমি কি কি চাও, আর বলতে থাকো, তুমি সেগুলো সব পাবে, দুনিয়ার কোনও শক্তি তোমাকে তোমার ইচ্ছেপুরন থেকে বিরত করতে পারবে না।
  • অন্ততঃ ১০ মিনিট থেকো নিজেকে নিয়ে,নিজের ইচ্ছে কে নিয়ে আয়নার সামনে, নিজের চোখের দিকে চেয়ে নেওয়া positive declaration  হল আমার মতে the quickest way to get results with affirmations.

কখন করবে?

সবচেয়ে ভালো সময় হল সকাল বেলা, খুব ভালো হয়, যদি তুমি সকালের অভ্যেসগুলোর সাথে এইটা যুক্ত করো। এইভাবেই তোমার দিন শুরু হতে পারে full of energy র সাথে এবং বাইরের জগতের জন্য অপেক্ষা করে থাকবে একজন “Confident you”.
অনেকে, বিকেলবেলা, বা যেই সময়ে তাদের self-esteem এর প্রয়োজন হয়, সেই সময় করে থাকেন। শুধু যেটা প্রয়োজন, একটা আয়না, এবং তোমার নিজের জন্য ৫ থেকে ১০ মিনিট সময়।

কি ফল আশা করবে?

কিছুদিন করার পর তুমি নিশ্চিত নিজের ভেতরকার কিছু বদল লক্ষ্য করবে, কিন্তু সেটা দীর্ঘস্থায়ী না ও হতে পারে। কারন, শান্ত পরিবেশে তৈরি করা আত্মবিশ্বাস বাইরের বাস্তব জগতের তীক্ষ্ণ ছোবলে সহজেই চুরমার হয়ে যাবে। তা বলে বন্ধু, exercise টা ছেড়ে দিও না। চেষ্টা করো, দিনে দুবার করতে, এটাকে নিজের অভ্যেসে পরিনত করো , সপ্তাহ দুয়েক পরেই তুমি তোমার সামনে এক অনেক বেশি Confident Person এর   প্রতিবিম্ব দেখতে পারবে।
ম্যাজিক একটা ঘটতে চলেছে তোমার সাথে, একটু সময় তো দাও…..

এক-দু মাস পরেই, কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে, তুমি বদলে গেছ …. at least, তুমি আগের মতন আর নেই, তুমি কারোর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে আর ভয় পাও না, তুমি অনেক বেশি active হয়ে গেছ, কারন তুমি এখন জানো, তোমার goal achieve করতে গেলে কি কি করতে হবে। তুমি এটাও জানো যে কেউ তোমায় আটকাতে পারবে না, তুমি অপ্রতিরোধ্য, কারন, তুমি আর react করো না।

নিজের inferiority complex গুলো ধুয়ে মুছে একেকার হয়ে গেছে তোমার, কেউ আর তোমাকে খারাপ লাগাতে পারবে না … দেখবে, তোমার বলা কথাগুলো অন্যদের কতবেশি প্রভাবিত করছে। You will stand as an inspiration to others with full of positivity.

আমাদের Subconscious mind টা বড্ড বেশি কথা শোনে, মানে, এই যে তুমি নিজের কথাগুলো জোরে জোরে বলতে শুরু করেছ না, সবগুলো কিন্তু সে জমা করে রাখছে, আর প্রতি পদক্ষেপে তোমায় মনে করিয়ে দেবার অঙ্গীকারও করে ফেলেছে …. এতদিন বেচারা তো কতরকম ভুলভাল কথা শুনে আসছিল বলত ……. ভাবতে পারা যাচ্ছে কি ??

আমার মনে হয়, এই exercise টা করলেই এর  benefit টা ঠিকঠাক বুঝতে পারা যাবে।
একটা কথা মনে করিয়ে দিই, প্রতিটা খেলোয়াড় কিন্তু ম্যাচ এর আগে এই প্রাকটিস করে, ব্যাবসায়ীরাও করে থাকেন কোন বিশেষ মিটিং এর আগে, আচ্ছা, first date  এ যাবার আগে কি তুমিও করো নি ?? আমরা তো interview দেবার আগেও তো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলি …… বলি কি না?
বন্ধু, নিজেকে এক individual with strong character and self-esteem বানানোর জন্য strategyটা use করো।

নিজেকে নিজের সবচেয়ে ভালো বন্ধু বানিয়ে ফেলো, এই বন্ধু তোমায় ছেড়ে কক্ষনো কোথাও যাবে না।

কি বন্ধু, তবে কি একবার চেষ্টা করে দেখবে ??

Comments

Popular posts from this blog

‘হো’ওপনোপনো’

কথায় আছে লেটস ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট। আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো? ক্ষমা কি করা যায়, যদিও বা যায়... সেটা কি ভোলা সম্ভব? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সময় একটা বড় ভুমিকা নেয়, দিন যেতে যেতে ঘটনার অনুভুতির তীক্ষতা কমতে থাকে, আমরা মনে করি ‘ভুলে গেছি’; কিন্তু দেখা যায়, সামান্য অনুরূপ কিছু হলে বা মনে পড়লেই দগদগে ভাব নির্লজ্জের মতন বেরিয়ে পরে।  হ্যাঁ, আমিও বলছি, ভালো থাকতে গেলে এই –“ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট” যাদুর মতন কাজ করে। একটা সত্যি ঘটনা বলি আজকে, আমার জীবনের। আমার বাড়ির পাশেই একটা কোচিং সেন্টারে আমার ছেলে পড়ত। ঘটনাক্রমে, সেন্টারহেডের ছেলেও আমার ছেলেরই ক্লাসের বন্ধু। প্রচলিত আছে, সেই সেন্টারহেড (নাম ধরে নিই ‘ক’বাবু) ভালো ছাত্রছাত্রী ছাড়া সেই সেন্টারে পড়ান না। তাই, আমার ছেলে যখন ক্লাস সেভেন (ছেলে আমার বরাবরই ৬০% পাওয়া – ছোটবেলায় লারনিং ডিসঅর্ডার ছিল) তখন তিনি তাকে যোগ্য মনে করেন নি সেই সেন্টারের। ক্লাস নাইনের সময়, আমি দেখলাম, ওর ক্লাসের অনেকজন ওই সেন্টারেই পড়ে আর বাড়ির পাশে বলে, আমারও সুবিধে হবে, অনেকগুলো পথ খরচ বেঁচে যাবে... এইসব ভেবে আবার গেলাম ‘ক’ বাবুর কাছে, অনুরোধ করলাম আমার ছেলেকে ভর্তির জন্য; বদলে ...

শিক্ষা

  একবার হয়েছে কি, ভীষণ উত্তেজনাবশতঃ বেশ কড়া দামে টিকিট কেটে দেখতে গিয়েছিলাম একটা সিনেমার ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো। তারপর…. একঘণ্টা যেতে না যেতেই প্রান হাঁসফাঁস, হাত কামড়ানো। মনে যুদ্ধ চলছে – ‘এত খাজা ছবি কি করে হতে পারে’র সাথে ‘ঈশ, কত খরচ হয়ে গেল’র। ভাবতে ভাবতে, পকেট আরও খসিয়ে পপকর্ণ আর কোল্ড্রিঙ্কও খাওয়া হয়ে গেল। হল থেকে বেড়িয়ে কান মুলেছিলাম, এমন বোকামি আর হবে না, শপথ টপথও নিয়েছিলাম খানিক। বলুন তো, আসল বোকামিটা কোনটা ছিল? দামী টিকিট কেটে বাজে সিনেমা দেখা না কি সিনেমাটা বাজে বুঝেও, বেশি খরচ হয়ে গেছে এই ভেবে, হলে বসে নিজের সময় বরবাদ করে পুরো সিনেমাটা হজম করা? নিজেদের জীবনের দিকে একবার ভালো করে তাকাই তো; আমাদের সম্পর্কগুলোও অনেকটা এইরকম নয় কি? কাজ করছে না জেনেও, লেগে থাকি, সম্পর্কের ভার বয়ে চলি অনেক ইনভেস্টমেন্ট হয়ে গেছে, লোকে কি বলবে… এইসব ভেবে। কিন্তু আস্তে আস্তে যে সবচেয়ে দামী ইনভেস্টমেন্টটা পাঁকে চলে যাচ্ছে…মানে “সময়”…যেটা আর ফিরে আসবে না, তার কথা ভাবা হয়ে ওঠে না।   কিছুই কিন্তু অপূরণীয় নয়। আপনি না থাকলে, বা আমি না থাকলে সব কি থমকে যাবে? কিছুদিন আগে ইন্সটাগ্রামে একটা পোস্ট দেখে...

হাল্লা চলেছে যুদ্ধে!!

  শুন্ডির রাজা আজও অচেতন, হাল্লা চলেছে যুদ্ধে, আর আমরা ঘুমাই প্রতিক্রিয়ায়; স্বপক্ষে - বিরুদ্ধে। সকাল থেকে উঠে সারাদিন, তারপর সারারাত... কে কি ভাবছে, বলছে -করছে ভেবে যাই সাতপাঁচ। পুঁজি জমছে ব্যাঙ্কে আর সুগার-প্রেসার ঘরে; লাগামহীন অ্যাড্রিনালীন সর্বত্র ছিটকে পরে। মনখুলে আজ হাসতে গেলে ভরসা লাফিং ক্লাব, নিজেকে হারিয়ে ফেলার খেলায় মেতেছি আমরা সব। গুপী গাইন – বাঘা বাইন সিনেমা দেখে নি, এমন কেউ আছে কি? সিনেমার একটা গানের লাইন ‘হেডিং’ দিলাম লেখায় আর, শুরু করার সময় অনুরোধ রাখছি, আরেকটা গান মনে করার... “এক যে ছিল রাজা, তার ভারি দুখ”। এই গানটায় তিনটে প্রশ্ন করা হয়েছে– দুঃখ কীসে হয়, দুঃখ যাবে কি আর দুঃখ কীসে যায়। এবং উত্তরও দেওয়া হয়েছে (গানটা মনে করুন, নতুবা শুনে ফেলুন আরেকবার)। তো, আমি কেনই বা আজ এই কাজ করাচ্ছি আপনাদের দিয়ে, জানতে চাইবেন নিশ্চয়ই।   আরেকটা সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে মুল কথায় আসার চেষ্টা করছি। কয়েকবছর আগে আমির খানের একটা ছবি এসেছিল, অ্যাডাল্ট ফিল্ম – ‘তারে জমীন পর’, হয়তো দেখে থাকবেন। অ্যাডাল্ট বললাম, কারণ, আমি সর্বতঃ ভাবে বিশ্বাস করি, সিনেমাটির মাধ্যমে যে ম্য...