মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগে , সকল পুজা পাঠে
শুভক্ষন – শুভদিন এসব যখন খাটে ….
তবে বাপু শুধু শিবের জন্য ‘রাত্রি’ কেন হল?
একবারও কি ভেবেছ সেটা, চিন্তা করে বোলো।
মাথায় যখন জাঁকিয়ে বসল এই খেয়াল-ছানা,
ঠিক করলাম জানতেই হবে আসল ব্যাপারখানা।
মহোৎসাহে জিজ্ঞাসিলাম যারা পালন করে
এমন কিছু পেলাম না, যাতে এ মন ভরে।
একটা জিনিষ প্রমান হল, ‘শিবরাত্রি’ র মানে,
“শিবের মতন স্বামী” পাওয়াই বেশির ভাগই জানে।
এবার গেলাম বই-এর কাছে, বই-পত্তর খুঁজে
শিবদিন নয়, রাত্রি কেন, দিব্যি গেলাম বুঝে।
“শিব” হল যে পরমাত্মা, জগৎ সৃষ্টিকর
এক নয় কো মোটেই জেনো শিব ও শঙ্কর।
শিব হল গিয়ে নীলকণ্ঠ, অমৃত মন্থনে
উত্থিত সব গরলরাজি আকণ্ঠ পানে
বিশ্ব করেছেন বিষ মুক্ত ; বসবাসের যোগ্য
বাঘছাল পড়া শঙ্কর ; নটরাজ দ্রষ্টব্য ।
“রাত্রি” হেথায় ‘রজনী’ নয়, মানব মনের আঁধার।
রাগ – অভিমান –হিংসে- দুঃখ – হতাশা – অহংকার।
এই দিনে আদতে উচিৎ হল সকল মনের কালো
বিশ্বপিতাকে কে দান করে আবার হব ভালো।
নীলকণ্ঠ শিবঠাকুর আমার সকল কালো ধুয়ে
ভরিয়ে দেবে আলোয় জীবন , যাবে মাথা নুয়ে
অসীম শক্তির পদতলে , পাবো অপার সুখ
জীবন আয়নায় প্রতিচ্ছবি নিপাট হাসিমুখ।
হায় রে মোদের অবুঝ মনন, আসল কথা ভুলে,
শঙ্করকে ডাকতে থাকি ধুতুরা – কাঁটা ফলে।
গ্যালন গ্যালন দুধগুলো সব পাথর’পরে ঢেলে,
রাত জাগা উপোষী পেট পুণ্যি পেতে চলে।
ভালো থাকা যে এত সহজ , ছিল না এই জ্ঞান।
পণ করে শুধু নিজের কালো করতে হবে দান।
দানের জিনিষ ফেরত নেওয়া যায় না জেনো আর।
কালো দানে ভরবে আলোয় সোনার সংসার।
শিবরাত্রির সঠিক পালন করতে পারলে তবে,
আক্ষরিক সুখশান্তি পুণ্যে জীবন সফল হবে।

Comments
Post a Comment