Skip to main content

একদিন এক ভিড় ট্রেনের কামরায়

সবাই ঠেসাঠেসি করে দাঁড়িয়ে , একটা বাচ্চা ছেলে গান ধরেছে।
“একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি…”
যাত্রী ১ – উফ! থাম তো! একে গরমে প্রান বাঁচানো দায়, তার উপর কানের কাছে পরিত্রাহি চিৎকার।
যাত্রী ২ – ওগো পুঁটির বাবা, কোথায় গেলে গো, দেখতে পাচ্ছি না…. কই তুমি?
যাত্রী ৩ – আরে আছি আছি। তুমি নিশ্চিন্তে বসো।
বাচ্চা ছেলে গান গাইছে – “শনিবার বেলা ১০ টার পরে….”
যাত্রী ৪- আরে আরে দাদা, একটু সামলে… করছেন কি…. ঠিক মতন দাঁড়ান না।
যাত্রী ৩ –  অদ্ভুত তো! সেই সমানে আপনি আপনি ধাক্কা দিয়ে চলছেন, আর আমায় বলছেন?
যাত্রী ১ – অফিস টাইমে কেউ এত ব্যাগ পত্তর নিয়ে ওঠে না কী? বুদ্দি-শুদ্দি কিছুই নেই….
যাত্রী ২ – পুঁটির বাবা , কে তোমায় কি বলছে গা ? আসব না কি?
যাত্রী ৩ – আরে তুমি বসো তো; জীবন টা একেবারে শেষ হয়ে গেল। এটা পাব্লিক প্রপার্টি দাদা, আপনি বলে দেবেন না কি আমি কি কি নিয়ে উঠবো?
বাচ্চা ছেলে গান ধরেছে – “ ১২ লক্ষ ৩৩ কোটি, রইল মা তোর ব্যাটা-বেটি , মা গো”
যাত্রী ৪ – যা বলেছিস রে, মানুষ production এর তো আর কমতি নেই, সরকার একটু ট্রেন production  বাড়ালে ভালো করত। আরে আরে … পা টা কে তো দেখবেন।
যাত্রী ১ – ওহ ! সরি। লাগলো বুঝি? 
যাত্রী ৪ – না না দাদা, পায়ে আমি অ্যানাস্হেসিয়া দিয়ে রেখেছি। আপনি বরং আমার পায়ের উপরেই দাঁড়ান।
যাত্রী ২ – ও পুঁটির বাবা, তোমার আওয়াজ পাচ্ছি না তো…. নেমে গেলে না কি?
যাত্রী ১ – বৌদি, দাদা নেমে গেলে আর উত্তর দেবে কি করে?
বাচ্চা ছেলের গান – “একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি”
যাত্রী ২ – ওগো পুঁটির বাবা গো, কি বলছে দেখো এরা…. ভ্যা………
যাত্রী ৩ – কি হচ্চেটা কি? ট্রেনটাকে কি তুমি বাড়ী পেয়েছ? এখনও কোন স্টেশনে কি গাড়ী থেমেছে? আছি তো আমি। কি জ্বালা….. 
যাত্রী ১ – দাদা, আপনি একটা কাজ করুন, একটু কষ্ট করে বউদির কাছে চলে আসুন।
যাত্রী ৩ – দাদা, দয়া করে আর কষ্ট বাড়াবেন না।
বাচ্চা ছেলের গান – “ হাসি হাসি পড়বে ফাঁসি দেখবে ভারতবাসী”
যাত্রী ৪ – সামনের স্টেশনে নামবো দাদা, একটু এগোতে  দিন। আরে ভাই, একটু সরে দাঁড়ান না।
যাত্রী ৩ – দেখেছেন, আপনি কতটা জায়গা নিয়ে রেখেছিলেন; আপনি বেরচ্ছেন, আর জায়গা বেরোচ্ছে।
যাত্রী ৪ – মুখ সামলে কথা বলবেন। আপনি নিজে তো বিশ্ব হাড়গিলে। দেখেই মনে হচ্ছে অভাবের সংসার, খেতে পারেন না।
যাত্রী ১ – ঠিকই বলেছেন, আপনার মতন লোকেরাই বেশী বেশী খেয়ে দেশের অর্ধেক লোক কে না খাইয়ে রেখেছে। 
যাত্রী ৩ – পুঁটির মা, রেডী হয়ে নাও, পরের স্টেশনেই নামবো।
বাচ্চা ছেলে – কাকু, পয়সা দিন….
যাত্রী ২ – ওগো, ট্রেনে কিন্তু ব্যাগ ট্যাগ বের করো না, চারদিকে পকেটমার।
যাত্রী ৪ – বৌদি, ভাববেন না। সব পকেটমার এতক্ষনে বুঝে গেছে যে দাদার সাথে আপনি আছেন।
যাত্রী ৩ – আমার ব্যাগ তো তোমার কাছে। রাখতে দিয়েছ কি আমায়?
যাত্রী ২ – চিৎকার করছ তো আমার উপর !! চলো বাড়ী, দেখাচ্ছি।
যাত্রী ১ – যান দাদা যান। বুঝেছি আমরা। আপনার সমস্যাটাই সবথেকে বেশী। অ্যাই ভাইলোগ, দাদা-বউদিকে যাবার রাস্তা করে দাও।
বাচ্চা –  কাকু পয়সা –
যাত্রী ৪ – নে ভাই, একবার পুরো গানটা গেয়ে দে দেখি….. গলাটা তোর বেশ খাসা।
বাচ্চা গান ধরে ….. “একবার বিদায় দে মা, ঘুরে আসি….”

Comments

Popular posts from this blog

‘হো’ওপনোপনো’

কথায় আছে লেটস ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট। আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো? ক্ষমা কি করা যায়, যদিও বা যায়... সেটা কি ভোলা সম্ভব? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সময় একটা বড় ভুমিকা নেয়, দিন যেতে যেতে ঘটনার অনুভুতির তীক্ষতা কমতে থাকে, আমরা মনে করি ‘ভুলে গেছি’; কিন্তু দেখা যায়, সামান্য অনুরূপ কিছু হলে বা মনে পড়লেই দগদগে ভাব নির্লজ্জের মতন বেরিয়ে পরে।  হ্যাঁ, আমিও বলছি, ভালো থাকতে গেলে এই –“ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট” যাদুর মতন কাজ করে। একটা সত্যি ঘটনা বলি আজকে, আমার জীবনের। আমার বাড়ির পাশেই একটা কোচিং সেন্টারে আমার ছেলে পড়ত। ঘটনাক্রমে, সেন্টারহেডের ছেলেও আমার ছেলেরই ক্লাসের বন্ধু। প্রচলিত আছে, সেই সেন্টারহেড (নাম ধরে নিই ‘ক’বাবু) ভালো ছাত্রছাত্রী ছাড়া সেই সেন্টারে পড়ান না। তাই, আমার ছেলে যখন ক্লাস সেভেন (ছেলে আমার বরাবরই ৬০% পাওয়া – ছোটবেলায় লারনিং ডিসঅর্ডার ছিল) তখন তিনি তাকে যোগ্য মনে করেন নি সেই সেন্টারের। ক্লাস নাইনের সময়, আমি দেখলাম, ওর ক্লাসের অনেকজন ওই সেন্টারেই পড়ে আর বাড়ির পাশে বলে, আমারও সুবিধে হবে, অনেকগুলো পথ খরচ বেঁচে যাবে... এইসব ভেবে আবার গেলাম ‘ক’ বাবুর কাছে, অনুরোধ করলাম আমার ছেলেকে ভর্তির জন্য; বদলে ...

শিক্ষা

  একবার হয়েছে কি, ভীষণ উত্তেজনাবশতঃ বেশ কড়া দামে টিকিট কেটে দেখতে গিয়েছিলাম একটা সিনেমার ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো। তারপর…. একঘণ্টা যেতে না যেতেই প্রান হাঁসফাঁস, হাত কামড়ানো। মনে যুদ্ধ চলছে – ‘এত খাজা ছবি কি করে হতে পারে’র সাথে ‘ঈশ, কত খরচ হয়ে গেল’র। ভাবতে ভাবতে, পকেট আরও খসিয়ে পপকর্ণ আর কোল্ড্রিঙ্কও খাওয়া হয়ে গেল। হল থেকে বেড়িয়ে কান মুলেছিলাম, এমন বোকামি আর হবে না, শপথ টপথও নিয়েছিলাম খানিক। বলুন তো, আসল বোকামিটা কোনটা ছিল? দামী টিকিট কেটে বাজে সিনেমা দেখা না কি সিনেমাটা বাজে বুঝেও, বেশি খরচ হয়ে গেছে এই ভেবে, হলে বসে নিজের সময় বরবাদ করে পুরো সিনেমাটা হজম করা? নিজেদের জীবনের দিকে একবার ভালো করে তাকাই তো; আমাদের সম্পর্কগুলোও অনেকটা এইরকম নয় কি? কাজ করছে না জেনেও, লেগে থাকি, সম্পর্কের ভার বয়ে চলি অনেক ইনভেস্টমেন্ট হয়ে গেছে, লোকে কি বলবে… এইসব ভেবে। কিন্তু আস্তে আস্তে যে সবচেয়ে দামী ইনভেস্টমেন্টটা পাঁকে চলে যাচ্ছে…মানে “সময়”…যেটা আর ফিরে আসবে না, তার কথা ভাবা হয়ে ওঠে না।   কিছুই কিন্তু অপূরণীয় নয়। আপনি না থাকলে, বা আমি না থাকলে সব কি থমকে যাবে? কিছুদিন আগে ইন্সটাগ্রামে একটা পোস্ট দেখে...

নিশিদিন আলোক শিখা জ্বলুক প্রাণে

  জীবনের সবকিছু আমাদের শেখায়। যাদের সাথে দেখা হয়, যাদের সাথে থাকা হয়, যাদের কথা ভাবা হয়, যা যা ঘটে  … সবার থেকে কিছু না কিছু শিখতে পারা যায়। বা, বলা ভালো- শিখতে পারতে হয়, শিখতে জানতে হয়। কারণ, শিখতে পারলে এইসবই আমাদের কাছে “অভিজ্ঞতা” যা জীবন চলতে সাহায্য করে। নতুবা, এগুলোই আমাদের যাবতীয় অ-সুখের কারণ।    তাই, আমাদের প্রতিটা মুহূর্তের ঘটে যাওয়া, ঘটতে থাকা ঘটনাগুলো, ঘটনার কুশীলব সকলেই আমাদের শিক্ষক।   এইসব শিক্ষকদের অবহেলা করবেন না। যখন আপনি মনের মতন চাকরি পাচ্ছেন না, বা যখন কোনও সম্পর্ক প্রশ্নচিহ্নের সামনে, অথবা যখন আপনার বিরুদ্ধে সব ঘটছে, আপনি সমস্যার সম্মুখীন, সেই মুহূর্তে এই শেখার পাঠ আরও বেশি করে মনে করুন। কবি তো বলেই গেছেন কতভাবে – “আরও বেদনা, আরও বেদনা, প্রভু দাও মোরে আরও চেতনা”… “চির পিপাসিত বাসনা-বেদনা, বাঁচাও তাহারে মারিয়া…” “আমি বহু বাসনাই প্রাণপণে চাই, বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে”….. গানগুলো শোনা হয়, গাওয়া হয়, কিন্তু অর্থটাই বোধগম্য হতে পারে না। সমস্যার সময়ে নিজের জীবনের শিক্ষাগুলোকে মনে করে ফেলতে পারলেই কিন্তু সেই পরীক্ষাটা সহজে পাশ করা হয়ে যাবে। যে সব অবস...