Skip to main content

28th April, 2017

 

তারিখে কি সত্যি কিছু আসে যায়?
আজ পাঁচ বছর.... বাবা তুমি আমার চোখের সামনে নেই। কিন্তু, তুমি তো আছ, ভীষণ ভাবেই আছ। আমরা তো তোমার কথা সবসময়েই বলি, তাতান তো তোমার সাথেও কথা বলে। তা হলেও, এই দিনটা তে কেন বলতো তোমায় এত মিস করি বেশী করে?

সক্কাল থেকে মায়ের কাছে, আমার কাছে ফোন আসে, সবাই তোমাকে মনে করে...তোমার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করে। ভালো লাগে, ভারি ভালো লাগে..... কত বড় মনের এক মানুষের মেয়ে আমি।
মালিনীটা তো বদ্ধ পাগল... খুব ভালবাসে তোমায়; শুধু তাই নয়, তোমার “মাতু” তো তার ‘গুরু-মা’।
তুমি নিশ্চিন্ত থাকো, তোমার মাতু কে খুব ভালো রাখছি আমরা।আমি এখন মায়ের ‘মা’ হয়ে গেছি।
গাক্কাই এর সব্বাই তোমায় মনে করে....আমার বন্ধুরাও গল্প করার সময়, তোমার কথা বলে। ভালো লাগে।
সেদিন আলমারি গোছাতে গোছাতে একটা ডাইরি পেলাম; আমার বিয়ের পর তুমি লেখা শুরু করেছিলে, কই কোনোদিন বোলো নি তো? নিজেও বোধহয় ভুলে গিয়েছিলে...... তোমার প্রতিটা দিনেই শুধু লেখা...আমায় তুমি কি ভাবে মিস করছ।সেদিন, তোমার উপর খুব রাগ হচ্ছিল, কি ভালো লিখতে গো তুমি, আজ জানো, আমার একটা ম্যাগাজিন আছে, তুমি থাকলে, তোমাকে দিয়ে লেখাতাম।
বুয়াও বেশ ভালো কাজ করে, সব্বাই ওর কাজের প্রশংশা করে। সব কিছু তোমার মন মতন হচ্ছে। খুব মনে হয়, সব তুমি জানো, সব বুঝতে পারছ ... হয়তো, সব কিছু তুমিই করাচ্ছ।
কতোগুলো তোমার প্রিয় মুহূর্তের ছবি আজ সঙ্গে দিলাম, তুমি চলে যাবার পর সমুদ্র দা যখন গনশক্তি তে ছাপবার জন্য তোমার ছবি চাইছিল, এগুলো তখন খুঁজে পাই নি...
আজ খুব মনে হচ্ছে সেই আনন্দ ছবির ডায়লগ-“বাবুমশাই, জিন্দেগি বড়ি হনি চাহিয়ে, লম্বি নেহি”; তোমায় বলি, কমরেড- তোমার জীবন সত্যি বড় ছিল গো।
প্রিয় মানুষদের স্মৃতি তর্পণে কাছের মানুষদের ভালো লাগা; মৃত্যুদিন পালনের সার্থকতা বোধহয় এটাই।
আমাদের মাঝে তুমি আছ বাবা , প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে.... সব তারিখ ব্যতিরেকে।

Comments

Popular posts from this blog

‘হো’ওপনোপনো’

কথায় আছে লেটস ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট। আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো? ক্ষমা কি করা যায়, যদিও বা যায়... সেটা কি ভোলা সম্ভব? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সময় একটা বড় ভুমিকা নেয়, দিন যেতে যেতে ঘটনার অনুভুতির তীক্ষতা কমতে থাকে, আমরা মনে করি ‘ভুলে গেছি’; কিন্তু দেখা যায়, সামান্য অনুরূপ কিছু হলে বা মনে পড়লেই দগদগে ভাব নির্লজ্জের মতন বেরিয়ে পরে।  হ্যাঁ, আমিও বলছি, ভালো থাকতে গেলে এই –“ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট” যাদুর মতন কাজ করে। একটা সত্যি ঘটনা বলি আজকে, আমার জীবনের। আমার বাড়ির পাশেই একটা কোচিং সেন্টারে আমার ছেলে পড়ত। ঘটনাক্রমে, সেন্টারহেডের ছেলেও আমার ছেলেরই ক্লাসের বন্ধু। প্রচলিত আছে, সেই সেন্টারহেড (নাম ধরে নিই ‘ক’বাবু) ভালো ছাত্রছাত্রী ছাড়া সেই সেন্টারে পড়ান না। তাই, আমার ছেলে যখন ক্লাস সেভেন (ছেলে আমার বরাবরই ৬০% পাওয়া – ছোটবেলায় লারনিং ডিসঅর্ডার ছিল) তখন তিনি তাকে যোগ্য মনে করেন নি সেই সেন্টারের। ক্লাস নাইনের সময়, আমি দেখলাম, ওর ক্লাসের অনেকজন ওই সেন্টারেই পড়ে আর বাড়ির পাশে বলে, আমারও সুবিধে হবে, অনেকগুলো পথ খরচ বেঁচে যাবে... এইসব ভেবে আবার গেলাম ‘ক’ বাবুর কাছে, অনুরোধ করলাম আমার ছেলেকে ভর্তির জন্য; বদলে ...

শিক্ষা

  একবার হয়েছে কি, ভীষণ উত্তেজনাবশতঃ বেশ কড়া দামে টিকিট কেটে দেখতে গিয়েছিলাম একটা সিনেমার ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো। তারপর…. একঘণ্টা যেতে না যেতেই প্রান হাঁসফাঁস, হাত কামড়ানো। মনে যুদ্ধ চলছে – ‘এত খাজা ছবি কি করে হতে পারে’র সাথে ‘ঈশ, কত খরচ হয়ে গেল’র। ভাবতে ভাবতে, পকেট আরও খসিয়ে পপকর্ণ আর কোল্ড্রিঙ্কও খাওয়া হয়ে গেল। হল থেকে বেড়িয়ে কান মুলেছিলাম, এমন বোকামি আর হবে না, শপথ টপথও নিয়েছিলাম খানিক। বলুন তো, আসল বোকামিটা কোনটা ছিল? দামী টিকিট কেটে বাজে সিনেমা দেখা না কি সিনেমাটা বাজে বুঝেও, বেশি খরচ হয়ে গেছে এই ভেবে, হলে বসে নিজের সময় বরবাদ করে পুরো সিনেমাটা হজম করা? নিজেদের জীবনের দিকে একবার ভালো করে তাকাই তো; আমাদের সম্পর্কগুলোও অনেকটা এইরকম নয় কি? কাজ করছে না জেনেও, লেগে থাকি, সম্পর্কের ভার বয়ে চলি অনেক ইনভেস্টমেন্ট হয়ে গেছে, লোকে কি বলবে… এইসব ভেবে। কিন্তু আস্তে আস্তে যে সবচেয়ে দামী ইনভেস্টমেন্টটা পাঁকে চলে যাচ্ছে…মানে “সময়”…যেটা আর ফিরে আসবে না, তার কথা ভাবা হয়ে ওঠে না।   কিছুই কিন্তু অপূরণীয় নয়। আপনি না থাকলে, বা আমি না থাকলে সব কি থমকে যাবে? কিছুদিন আগে ইন্সটাগ্রামে একটা পোস্ট দেখে...

হাল্লা চলেছে যুদ্ধে!!

  শুন্ডির রাজা আজও অচেতন, হাল্লা চলেছে যুদ্ধে, আর আমরা ঘুমাই প্রতিক্রিয়ায়; স্বপক্ষে - বিরুদ্ধে। সকাল থেকে উঠে সারাদিন, তারপর সারারাত... কে কি ভাবছে, বলছে -করছে ভেবে যাই সাতপাঁচ। পুঁজি জমছে ব্যাঙ্কে আর সুগার-প্রেসার ঘরে; লাগামহীন অ্যাড্রিনালীন সর্বত্র ছিটকে পরে। মনখুলে আজ হাসতে গেলে ভরসা লাফিং ক্লাব, নিজেকে হারিয়ে ফেলার খেলায় মেতেছি আমরা সব। গুপী গাইন – বাঘা বাইন সিনেমা দেখে নি, এমন কেউ আছে কি? সিনেমার একটা গানের লাইন ‘হেডিং’ দিলাম লেখায় আর, শুরু করার সময় অনুরোধ রাখছি, আরেকটা গান মনে করার... “এক যে ছিল রাজা, তার ভারি দুখ”। এই গানটায় তিনটে প্রশ্ন করা হয়েছে– দুঃখ কীসে হয়, দুঃখ যাবে কি আর দুঃখ কীসে যায়। এবং উত্তরও দেওয়া হয়েছে (গানটা মনে করুন, নতুবা শুনে ফেলুন আরেকবার)। তো, আমি কেনই বা আজ এই কাজ করাচ্ছি আপনাদের দিয়ে, জানতে চাইবেন নিশ্চয়ই।   আরেকটা সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে মুল কথায় আসার চেষ্টা করছি। কয়েকবছর আগে আমির খানের একটা ছবি এসেছিল, অ্যাডাল্ট ফিল্ম – ‘তারে জমীন পর’, হয়তো দেখে থাকবেন। অ্যাডাল্ট বললাম, কারণ, আমি সর্বতঃ ভাবে বিশ্বাস করি, সিনেমাটির মাধ্যমে যে ম্য...