তারিখে কি সত্যি কিছু আসে যায়?
আজ পাঁচ বছর.... বাবা তুমি আমার চোখের সামনে নেই। কিন্তু, তুমি তো আছ, ভীষণ ভাবেই আছ। আমরা তো তোমার কথা সবসময়েই বলি, তাতান তো তোমার সাথেও কথা বলে। তা হলেও, এই দিনটা তে কেন বলতো তোমায় এত মিস করি বেশী করে?
সক্কাল থেকে মায়ের কাছে, আমার কাছে ফোন আসে, সবাই তোমাকে মনে করে...তোমার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করে। ভালো লাগে, ভারি ভালো লাগে..... কত বড় মনের এক মানুষের মেয়ে আমি।
মালিনীটা তো বদ্ধ পাগল... খুব ভালবাসে তোমায়; শুধু তাই নয়, তোমার “মাতু” তো তার ‘গুরু-মা’।
তুমি নিশ্চিন্ত থাকো, তোমার মাতু কে খুব ভালো রাখছি আমরা।আমি এখন মায়ের ‘মা’ হয়ে গেছি।
গাক্কাই এর সব্বাই তোমায় মনে করে....আমার বন্ধুরাও গল্প করার সময়, তোমার কথা বলে। ভালো লাগে।
সেদিন আলমারি গোছাতে গোছাতে একটা ডাইরি পেলাম; আমার বিয়ের পর তুমি লেখা শুরু করেছিলে, কই কোনোদিন বোলো নি তো? নিজেও বোধহয় ভুলে গিয়েছিলে...... তোমার প্রতিটা দিনেই শুধু লেখা...আমায় তুমি কি ভাবে মিস করছ।সেদিন, তোমার উপর খুব রাগ হচ্ছিল, কি ভালো লিখতে গো তুমি, আজ জানো, আমার একটা ম্যাগাজিন আছে, তুমি থাকলে, তোমাকে দিয়ে লেখাতাম।
বুয়াও বেশ ভালো কাজ করে, সব্বাই ওর কাজের প্রশংশা করে। সব কিছু তোমার মন মতন হচ্ছে। খুব মনে হয়, সব তুমি জানো, সব বুঝতে পারছ ... হয়তো, সব কিছু তুমিই করাচ্ছ।
কতোগুলো তোমার প্রিয় মুহূর্তের ছবি আজ সঙ্গে দিলাম, তুমি চলে যাবার পর সমুদ্র দা যখন গনশক্তি তে ছাপবার জন্য তোমার ছবি চাইছিল, এগুলো তখন খুঁজে পাই নি...
আজ খুব মনে হচ্ছে সেই আনন্দ ছবির ডায়লগ-“বাবুমশাই, জিন্দেগি বড়ি হনি চাহিয়ে, লম্বি নেহি”; তোমায় বলি, কমরেড- তোমার জীবন সত্যি বড় ছিল গো।
প্রিয় মানুষদের স্মৃতি তর্পণে কাছের মানুষদের ভালো লাগা; মৃত্যুদিন পালনের সার্থকতা বোধহয় এটাই।
আমাদের মাঝে তুমি আছ বাবা , প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে.... সব তারিখ ব্যতিরেকে।

Comments
Post a Comment