এইবার না একটা ভয়ঙ্কর কাজ করে ফেলেছি, আর সাকসেসফুলও হয়েছি !!
শোনাই তবে গল্পটা ।
আমার মা-সুন্দরী মানুষটি যারপরনাই কষ্টসহিষ্ণু হলেও এক্কেবারেই অ্যাডভেঞ্চার বিমুখ। ভাইবোন , আত্মীয়-স্বজন ছাড়া অন্য কোনও কারনে বাড়ি থেকে বেরোতেই হাজারো বাহানা। তারপরে তো তার বাথরুমপ্রীতি রীতিমত সর্বজনবিদিত। এ হেন অবস্থায়, মা কে একরকম ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করে নিয়ে গিয়েছিলাম বকখালি।
দশমীর দিন ভোর সাড়ে পাঁচটায় বাড়ি থেকে বেড়িয়ে ৭ টার নামখানা লোকাল। তিনঘণ্টা ট্রেনে যেতে হবে - নো বাথরুম ; এই ভয়টা কাটাবো কি ভাবে ভাবতে ভাবতে ট্রেনে চেপে পড়লাম এবং নামখানা তে নেমেও গেলাম। (তবে খুব মনে হচ্ছে, লোকাল ট্রেনগুলোতে বাথরুম থাকাটা বেশ জরুরি, বিশেষ করে যেখানে এই রকম ২ বা ৩ ঘণ্টা জার্নি করতে হয়। হয়তঃ একদিন হয়েও যাবে)
এটা গেল প্রথম ধাপ। এর পর, নামখানা স্টেশনে নেমে চড়তে হল সাইকেল ভ্যান। মহিলার মুখটা দেখে সত্যি মায়া হচ্ছিল। গলা জড়িয়ে একটা চুমু খেয়ে বললাম, 'মা, তুমি পারবে'। উত্তর - 'পারব রে বাবা'। উঠে পড়লেন ভ্যানের পেছনে, আমার পাশে।
এরপর নৌকা। মা কে বলিনি আগে। নড়বর করে তিনি উঠে পড়লেন নৌকায়, ধারের কাঠে বসিয়েও দেওয়া হল। কেস হল নামার সময়। নৌকাটি ঘাটে যেখানে থামল, সেখানে একটু লাফিয়ে নামতে হবে; সবার শেষে, প্রায় ১০ মিনিট খরচ করে- অনেক হিসেব নিকেশের পর মা ঠিক করল, বসে নামবে। কিন্তু, হল যেটা, বসতে গিয়ে মায়ের পায়ে টান পড়ল। পটাং করে নিজেকে ভীষণ অপরাধী মনে হল, তারপরেই ভাবলাম , নাহঃ এমন ভাবা চলবে না। দৌড়ে গিয়ে মা কে মনে করিয়ে দিলাম, 'ক'দিন আগে যখন বীভৎস ভাবে হাত ভেঙ্গে গিয়েছিল, গলগল করে রক্ত পড়ছিল, তখন কিন্তু তোমার চোখ থেকে এক ফোঁটাও জল পড়ে নি, তোমার শরীরের প্রত্যেকটা কোষ অত্যন্ত পারদর্শী। ব্লেস ইওর বডি।" মা র মুখে হাসি, আমারও।
এরপর একটা কুট্টি ভ্যানযাত্রা ছিল, এইবার কিন্তু মা অনেক কনফিডেন্ট! ভ্যান চালকের পাশের জায়গায় বেশ কায়দা করে উঠে পড়ল। দেখেই মুখ থেকে বেড়িয়ে গেল -"আরে বাহ!
পরের ধাপে মারুতি গাড়ি ভাড়া করে সোজা হোটেল। (মারুতি যাত্রার ছবি তোলা হয়েছে, কিন্তু বাকিগুলোর সময় ছবি তোলার কথা খেয়ালই ছিল না)
এরপর সাইড সিইং এর সময় টোটো ভাড়া করে ঘুরলাম। মা বসেছিল ড্রাইভারের পাশে। মজা পেয়েছে খুব।
ফেরার সময় সবটাই ঠিক ছিল এবং নৌকা থেকে নেমেছিল দেবাশিসের কোলে চড়ে, এই যা
মা কে নিয়ে অনেকদিন পর এই রকম বেরানো, সাথে এইরকম ভাবে প্রথম বার বেরোনো - মায়ের কতোটা জানি না, আমার কাছে তো বিশাল একটা অ্যাডভেঞ্চারই বটে !
আমার অনবদ্য অঘটনপটীয়সী মা এই সুযোগটিও হাতছাড়া করেন নি ... কেমন ভাবে, এবার বলি।
নবমীর দিন অতি আদিখ্যেতায় বানিয়েছিলাম ক্যারামেল পুডিং, ভ্যানিলা এসেন্স লেগেছিল, ব্যাবহারের পরে ফ্রিজের সামনের দিকেই রেখেছিলাম। মা একটা ওষুধ খায় রোজ – K Cor ; ছোট্ট একটা বোতলে সাদা সাদা ওষুধ থাকে এবং বোতলটা ফ্রিজে রাখতে হয়। দশমীর সকালে অতি সাবধানে অত্যন্ত মনে রেখে (সবাইকে বলে রেখেছিল মনে করিয়ে দেবার জন্য, যাতে ওষুধটা নিতে ভুল না হয়)মহিলা ফ্রিজ থেকে বের করে বোতল ভরলেন হাতব্যাগে। নামখানা স্টেশনে নেমে চা-বিস্কুট খাওয়ার পর ওষুধ খেতে হবে; মহিলা ব্যাগ থেকে বের করলেন ভ্যানিলা এসেন্স। K Cor এর শিশি ফ্রিজেই র’য়ে গেছে। হো হো করে হেসে মা বলল – “আমি আছি, এমন এক-দুটো ঘটনা ঘটা তো স্বাভাবিক”।
- Get link
- X
- Other Apps
- Get link
- X
- Other Apps


Comments
Post a Comment