গ৩ ১৫ই আগস্ট, বাগুইআটির রাস্তায় , স্পিডব্রেকার খেয়াল না করায়, মা আমার, হুমড়ি খেয়ে পড়ে যান। গত বছরে বাড়িতে এক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আঘাত পেয়ে তার ম্যাজিকাল রিকভরির ঘোরে আমরা সবাই তখনও আচ্ছন্ন....সেই তখনই, আবার।
যা হোক, রাস্তা থেকে মা'কে তোলা হল। মুখ পুরো লাল - অসম্ভব ব্লীডিং হচ্ছিল। টোটোয় করে কাছের বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হল। ছুটির দিনের রাত, ইমার্জেন্সীর তরুণ ডাক্তার সময় নিয়ে পরীক্ষা করে জানালেন, মাল্টিপল ইনজুরি, নাক ভেঙে গেছে, অপারেশন করতে হবে আর এখুনি অ্যাডমিট করতে হবে।
সিদ্ধান্ত নিলাম, এন.আর.এস নিয়ে যাব। রাত দুটো নাগাদ মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরলাম, দুজন ডাক্তার দেখিয়ে, পাঁচটা এক্স-রে করিয়ে.... আর খরচ!! যেতে আসতে ক্যাব ফেয়ার যা হয়!!
নাউ, পয়েন্ট ইস দ্যাট, আই অলওয়েজ বিলিভ, আই অ্যাম সারাউন্ডেড বাই ওয়ান্ডারফুল পার্সনস +আই অ্যাম সেফ-প্রোটেক্টেড অ্যান্ড গাইডেড।
(পাগলামো নয়, বিস্তারে বলছি)
১.ছোটমাসীর বাড়ির সামনে মা পড়ে যাবার সাথে সাথেই ফ্ল্যাটের লোকজন চলে আসেন। সাথে ছিল মাসী-মেশো-বোন-বোনের বর; আইস প্যাডও নিয়ে আসে কেউ....
২. আমার এক বন্ধু, জানা মাত্র, টাকা ট্রান্সফার করে দেয় অ্যাকাউন্টে। (যদিও সেদিন সাথে কোনো কার্ড ক্যারি করছিলাম না, আসলে অল্প সময়ের জন্য মাসীর বাড়ি যাওয়া-তাই রোজকার ব্যাগ বাড়িতে রেখেই গিয়েছিলাম। - ঠেক খেয়ে শিখলাম!!)
৩. Priti কে ফোন করি। ইমারজেন্সির ডাক্তার অ্যাডমিশনের কথা বলাতেই বুঝি, ঝুঁকি নিতে হবে। অল ইস ওয়েল- সেদিন প্রীতির নাইট ডিউটি ছিল। মা'কে মেয়েটা ভি আই পি ট্রিটমেন্ট দিল- ( না খেয়ে)। ওর জন্য, স্পেশালি, এন আর এস এ এই প্রথম যাওয়া অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
৪. অ্যাডমিশন না করানো সত্বেও - ঠোঁটে তিনটে সেলাই আর দুটো ইঞ্জেকশন যে দেওয়া হয়েছিল (অনুরোধ করার পর) , সেটাও মোক্ষম ছিল।
৫. মাত্র তিনটে ওষুধ, ১৪ দিনের। মা ফিট!!
৬. ভেবেছিলাম, এন আর এস যদি মা'কে ভর্তি করে নেয়, তাহলে তো মায়ের রেগুলারের ওষুধ, প্রেসক্রিপশন লাগবে। ঠিক করলাম, গব্বর (মামা আমার) আর তাতানকে মায়ের কাছে রেখে, কেষ্টপুর থেকে সব নিয়ে যাব। ফোন করলাম Atanu কে -এক কথায় রাজি, পরক্ষণে সে প্ল্যান করে ফেলে ল্যাপটপের ডাটা ট্রান্সফার ম্যানেজ করে সে কি ভাবে আমার সাথে থাকতে পারবে।
৭. হুমড়ি খেয়ে পড়ে গিয়েও, চশমার কাঁচ শুধু ঘষা খেয়েছে!! ভাঙা হাতটায় কালশিটে পড়লেও, ভেতরের প্লেট ডিসপ্লেস্ড হয় নি। নাকে চিড় আছে, মা ও তাই নিয়ে ভালই আছে।
৮. Rajesh এর সাথে হঠাৎ করেই গত বছর দেখা। শরীর বেগোরবাই এ ওই আমার অন্ধের যষ্ঠি। মায়ের শারীরিক অবস্থা ওর সাথে ডিসকাস করি, ওর কথাতেই সাহস পাই মাকে সেই বেসরকারি নার্সিংহোমে অ্যাডমিট না করার।
৯. আরেকজনের কথা না বললেই নয়। বুয়াকে ফোনে পাচ্ছিলাম না- ও কে না জানিয়ে, মা কে এন আর এস এ নিয়ে যেতে চাইছিলাম না। যখন ফোনে পেলাম, আই লস্ট মাই কুল। কত কত কড়া কথা বলে ফেলেছিলাম ছোট্ট ভাইটাকে। Shaoni ফোন নিয়ে, সময় নিয়ে কথা বলে তখন আমার সাথে- অনেক অনেক হাল্কা হই, গিল্ট ফ্রি হই।
১০. ক্যাব ড্রাইভার- অদ্ভুত!! কি ভালো মানুষ। মা'কে নিয়ে বাড়ি যখন ফিরছি, প্রায় রাত দুটো। কি ধৈর্য্য, কি বিনয় মানুষটার, অত রাতেও!!!!
এই জন্যই বাঁচতে ভালো লাগে।
ও হো!! একটা কথা বলা খুব দরকার, মা কে নিয়ে এন আর এস এ যাবার সময় ক্যাবে ওঠার আগে, নাগের বাজারের সেই নার্সিংহোমের উল্টো দিক থেকে একটা জলের বোতল কিনছিলাম। বিশ্বাস করবেন না, বোতলটা খুলতেই বোম পড়ার মতন বার্স্ট করল!!!! ছবি তোলার কথা আর তখন মনেও আসে নি।
হ্যাপি বার্থডে মা,
খুব ভালো থাকো।
শুধু প্লিস, প্রতি বছর এই দুমদাম পড়ে যাওয়াটা বন্ধ কর।
Comments
Post a Comment