Skip to main content

১৪ই নভেম্বর, 2019

 

আজকাল দিনগুলো হুস করে কেটে যায়, সকালে উঠে ব্রাশ করার পরেই আবার বেসিনের কাছে এসে পেস্ট হাতে নেওয়ার মাঝের সময়টা অনেক কমে গেছে। "ব্যস্ততা" শব্দটি ভারি বিরক্তিকর। না, আমি ব্যস্ত থাকি না, কোনও চাপেও থাকি না – কাজের মধ্যে থাকি, যা করতে ভালোবাসি; তাই নিয়েই থাকি; এইজন্য ইদানিং দিনের শুরুতেই প্ল্যান অফ অ্যাকশনে সময়কে ভাগ করে ফেলি; তারপর থেকে চেষ্টা চালাই সেটাকেই মেনে চলতে; হ্যাঁ, এইটা বলা যায়, এদ্দিনে একটু নিয়ম মেনে চলছি (নিয়মটাও যে নিজেরই বানানো 😃 ), তবে কোনোভাবেই রোবট হয়ে যাই নি!!
এরমধ্যেও পরে, দীর্ঘশ্বাস পরে। ব্যাকলগও আসে। তবে,ঘুমোবার আগে সবকিছু ঝেড়ে ফেলে নিজেকে হাল্কা করে বালিশে মাথা রাখাটা শিখে ফেলেছি। এক্কেবারে – ‘রাত গ্যেয়ি, বাত গ্যেয়ি’ ফর্মুলা। আদতে জট ছাড়াচ্ছি,আলগা হচ্ছি; প্রসেসটা খুউব স্লো, কিন্তু মারাত্মক উপকারী।
বাবা চলে যাবার পরে – কারণে অকারণে চোখে জল আসত। "পিতৃহীন বোধ" ভীষণ করুনা-আগ্রাসী। আশিস আঙ্কেল একদিন খুব দামী একটা উপদেশ দিয়েছিলেন; বলেছিলেন, “বাবা কি তোমায় কাঁদতে দেখে খুশি হতেন? ভালো থাকতেন? না, তো? আর যদি সত্যি বাবাকে ভালোবাসো, তাহলে, বাবা যেভাবে তোমায় দেখতে চাইতেন, সেভাবে থাকো”। সেদিন কথাটা খুব শক্ত ঠেকেছিল; আজ বুঝি এর মর্মার্থ। বাবার ‘বুড়ি’ তো সত্যি সত্যি নিরুপা রয় নয়!! এখন বাবাকে মনে পড়লেই, ভালো লাগে – সব স্মৃতি ভালোই লাগায়। মাঝে মাঝে যদিও সকালবেলা চা খেতে বসে মা-মেয়ে মিলে চোখের জল ফেলি, শুধু এইটা ভেবে যে, আজ আমাদের এরকম হাসিখুশি দেখলে বাবা কত আনন্দ পেত; বুয়াকে নিয়ে বাবার যে উচ্চাভিলাষ – সেটা আজ সত্যি, কিন্তু মানুষটা দেখতে পেল না। আদরের বুতান আজ কত্ত বুঝদার, সংসারের বাজারহাট, খুচরো পয়সার যোগান থেকে, মায়ের পায়ের নখও কেটে দেয়.....বাবা কত নিশ্চিন্ত হত... আজও হয়ত দেখছে বাবা – খুশি হচ্ছে, নিশ্চিন্ত হচ্ছে।এরকম ভাবলে যদি ভালো লাগে, তবে ভাবতে দোষ কি?
সত্যি,এখন সবকিছু কি সুন্দর ম্যানেজ করা যাচ্ছে, গুছিয়ে নিয়ে চলা যাচ্ছে। তখন সময়টা কিরকম যেন ........ নাহ। জীবন শেখায়, আমরা শিখেছি “worry brings more worries” ; তাই এখন আমাদের worry বা tension দুটোই অনেক কম।
কিছু পেতে গেলে, কিছু দিতে হয়; আর আগে দিলেই, পরে সেটা পাওয়া যায়। তাই এখন ‘ভালো আছি’ ভাবতে ভাবতেই ‘ভালো থাকা’ হয়ে যায়। তাইজন্য, আজকে এই প্রথমবার, বাবার কথা লিখতে গিয়ে আর মন খারাপ হচ্ছে না। মনে হচ্ছে, বাবা দেখছে আমার এই টাইপ করা, বাবা খুশি হচ্ছে, আজ তার ‘বুড়ি’ আর আবেগসর্বস্য নয়।
বাবার সাথে কাটানো সময়গুলো মনে করে, বাবার জীবনবোধটা বোঝার চেষ্টা করি। এত মানুষের এত প্রিয় ছিল লোকটা – সে চলে যাবার পরেও তার জন্মদিনে মায়ের কাছে ফোন আসে। তাকে মনে রেখেছে কত্তজন! তাকে এখনও লোকজন মিস করে। সত্যি, মানুষ কর্মের মধ্যে দিয়েই বাঁচে। আর আমার পাওনা, আমি এই মানুষের মেয়ে।
বাবা খুব হুল্লোড়ে টাইপের ছিল। যেখানেই যেত, মাতিয়ে রাখত – আর দ্যাখো, হয়তঃ এই কারণেই বুয়া বাবার সাথে জন্মদিন শেয়ার করছে; তাই এইদিনে বুয়ার সাথেই বাবার থাকাকেও আমরা সেলিব্রেট করতে পারি। ম্যাজিকে বিশ্বাস রাখি – আমার কাছে এটাও একটা দুর্দান্ত ম্যাজিকই বটে।
শুনেছিলাম, বাবার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘আনন্দ’; তারপর কে যেন, ১৪ই নভেম্বর জন্ম বলে নাম দিয়ে দেয় ‘জহর লাল’।
ভাইটা আমার উইনার ইন ট্রু সেন্স। বাবার মতন ওরও বন্ধুভাগ্য জবর। শতদ্রু – শাওনি তো এখন আমাদেরও ফ্যামিলি যেন। কি সুন্দর সবাই মিলে হৈ হৈ করে থাকে। জীবনকে কত সহজ করে দেখে। সব্বার কাছ থেকে শেখার আছে।
কাল রাত বারোটায় বুয়াকে ভিডিও কলে উইশ করেছি আর দিনের শেষে আজ বলছি – হ্যাপি বার্থডে বাবা!
কাকা, তোমার ফোনটা না পেলে হয়তো আজ এই লেখাটা হত না গো।
বাবা যাদের ভালবাসত, বাবাকে যারা ভালবাসত – সবার জন্য শুভেচ্ছা!!


Comments

Popular posts from this blog

‘হো’ওপনোপনো’

কথায় আছে লেটস ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট। আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো? ক্ষমা কি করা যায়, যদিও বা যায়... সেটা কি ভোলা সম্ভব? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সময় একটা বড় ভুমিকা নেয়, দিন যেতে যেতে ঘটনার অনুভুতির তীক্ষতা কমতে থাকে, আমরা মনে করি ‘ভুলে গেছি’; কিন্তু দেখা যায়, সামান্য অনুরূপ কিছু হলে বা মনে পড়লেই দগদগে ভাব নির্লজ্জের মতন বেরিয়ে পরে।  হ্যাঁ, আমিও বলছি, ভালো থাকতে গেলে এই –“ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট” যাদুর মতন কাজ করে। একটা সত্যি ঘটনা বলি আজকে, আমার জীবনের। আমার বাড়ির পাশেই একটা কোচিং সেন্টারে আমার ছেলে পড়ত। ঘটনাক্রমে, সেন্টারহেডের ছেলেও আমার ছেলেরই ক্লাসের বন্ধু। প্রচলিত আছে, সেই সেন্টারহেড (নাম ধরে নিই ‘ক’বাবু) ভালো ছাত্রছাত্রী ছাড়া সেই সেন্টারে পড়ান না। তাই, আমার ছেলে যখন ক্লাস সেভেন (ছেলে আমার বরাবরই ৬০% পাওয়া – ছোটবেলায় লারনিং ডিসঅর্ডার ছিল) তখন তিনি তাকে যোগ্য মনে করেন নি সেই সেন্টারের। ক্লাস নাইনের সময়, আমি দেখলাম, ওর ক্লাসের অনেকজন ওই সেন্টারেই পড়ে আর বাড়ির পাশে বলে, আমারও সুবিধে হবে, অনেকগুলো পথ খরচ বেঁচে যাবে... এইসব ভেবে আবার গেলাম ‘ক’ বাবুর কাছে, অনুরোধ করলাম আমার ছেলেকে ভর্তির জন্য; বদলে ...

শিক্ষা

  একবার হয়েছে কি, ভীষণ উত্তেজনাবশতঃ বেশ কড়া দামে টিকিট কেটে দেখতে গিয়েছিলাম একটা সিনেমার ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো। তারপর…. একঘণ্টা যেতে না যেতেই প্রান হাঁসফাঁস, হাত কামড়ানো। মনে যুদ্ধ চলছে – ‘এত খাজা ছবি কি করে হতে পারে’র সাথে ‘ঈশ, কত খরচ হয়ে গেল’র। ভাবতে ভাবতে, পকেট আরও খসিয়ে পপকর্ণ আর কোল্ড্রিঙ্কও খাওয়া হয়ে গেল। হল থেকে বেড়িয়ে কান মুলেছিলাম, এমন বোকামি আর হবে না, শপথ টপথও নিয়েছিলাম খানিক। বলুন তো, আসল বোকামিটা কোনটা ছিল? দামী টিকিট কেটে বাজে সিনেমা দেখা না কি সিনেমাটা বাজে বুঝেও, বেশি খরচ হয়ে গেছে এই ভেবে, হলে বসে নিজের সময় বরবাদ করে পুরো সিনেমাটা হজম করা? নিজেদের জীবনের দিকে একবার ভালো করে তাকাই তো; আমাদের সম্পর্কগুলোও অনেকটা এইরকম নয় কি? কাজ করছে না জেনেও, লেগে থাকি, সম্পর্কের ভার বয়ে চলি অনেক ইনভেস্টমেন্ট হয়ে গেছে, লোকে কি বলবে… এইসব ভেবে। কিন্তু আস্তে আস্তে যে সবচেয়ে দামী ইনভেস্টমেন্টটা পাঁকে চলে যাচ্ছে…মানে “সময়”…যেটা আর ফিরে আসবে না, তার কথা ভাবা হয়ে ওঠে না।   কিছুই কিন্তু অপূরণীয় নয়। আপনি না থাকলে, বা আমি না থাকলে সব কি থমকে যাবে? কিছুদিন আগে ইন্সটাগ্রামে একটা পোস্ট দেখে...

নিশিদিন আলোক শিখা জ্বলুক প্রাণে

  জীবনের সবকিছু আমাদের শেখায়। যাদের সাথে দেখা হয়, যাদের সাথে থাকা হয়, যাদের কথা ভাবা হয়, যা যা ঘটে  … সবার থেকে কিছু না কিছু শিখতে পারা যায়। বা, বলা ভালো- শিখতে পারতে হয়, শিখতে জানতে হয়। কারণ, শিখতে পারলে এইসবই আমাদের কাছে “অভিজ্ঞতা” যা জীবন চলতে সাহায্য করে। নতুবা, এগুলোই আমাদের যাবতীয় অ-সুখের কারণ।    তাই, আমাদের প্রতিটা মুহূর্তের ঘটে যাওয়া, ঘটতে থাকা ঘটনাগুলো, ঘটনার কুশীলব সকলেই আমাদের শিক্ষক।   এইসব শিক্ষকদের অবহেলা করবেন না। যখন আপনি মনের মতন চাকরি পাচ্ছেন না, বা যখন কোনও সম্পর্ক প্রশ্নচিহ্নের সামনে, অথবা যখন আপনার বিরুদ্ধে সব ঘটছে, আপনি সমস্যার সম্মুখীন, সেই মুহূর্তে এই শেখার পাঠ আরও বেশি করে মনে করুন। কবি তো বলেই গেছেন কতভাবে – “আরও বেদনা, আরও বেদনা, প্রভু দাও মোরে আরও চেতনা”… “চির পিপাসিত বাসনা-বেদনা, বাঁচাও তাহারে মারিয়া…” “আমি বহু বাসনাই প্রাণপণে চাই, বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে”….. গানগুলো শোনা হয়, গাওয়া হয়, কিন্তু অর্থটাই বোধগম্য হতে পারে না। সমস্যার সময়ে নিজের জীবনের শিক্ষাগুলোকে মনে করে ফেলতে পারলেই কিন্তু সেই পরীক্ষাটা সহজে পাশ করা হয়ে যাবে। যে সব অবস...