আজকাল দিনগুলো হুস করে কেটে যায়, সকালে উঠে ব্রাশ করার পরেই আবার বেসিনের কাছে এসে পেস্ট হাতে নেওয়ার মাঝের সময়টা অনেক কমে গেছে। "ব্যস্ততা" শব্দটি ভারি বিরক্তিকর। না, আমি ব্যস্ত থাকি না, কোনও চাপেও থাকি না – কাজের মধ্যে থাকি, যা করতে ভালোবাসি; তাই নিয়েই থাকি; এইজন্য ইদানিং দিনের শুরুতেই প্ল্যান অফ অ্যাকশনে সময়কে ভাগ করে ফেলি; তারপর থেকে চেষ্টা চালাই সেটাকেই মেনে চলতে; হ্যাঁ, এইটা বলা যায়, এদ্দিনে একটু নিয়ম মেনে চলছি (নিয়মটাও যে নিজেরই বানানো
), তবে কোনোভাবেই রোবট হয়ে যাই নি!!
এরমধ্যেও পরে, দীর্ঘশ্বাস পরে। ব্যাকলগও আসে। তবে,ঘুমোবার আগে সবকিছু ঝেড়ে ফেলে নিজেকে হাল্কা করে বালিশে মাথা রাখাটা শিখে ফেলেছি। এক্কেবারে – ‘রাত গ্যেয়ি, বাত গ্যেয়ি’ ফর্মুলা। আদতে জট ছাড়াচ্ছি,আলগা হচ্ছি; প্রসেসটা খুউব স্লো, কিন্তু মারাত্মক উপকারী।
বাবা চলে যাবার পরে – কারণে অকারণে চোখে জল আসত। "পিতৃহীন বোধ" ভীষণ করুনা-আগ্রাসী। আশিস আঙ্কেল একদিন খুব দামী একটা উপদেশ দিয়েছিলেন; বলেছিলেন, “বাবা কি তোমায় কাঁদতে দেখে খুশি হতেন? ভালো থাকতেন? না, তো? আর যদি সত্যি বাবাকে ভালোবাসো, তাহলে, বাবা যেভাবে তোমায় দেখতে চাইতেন, সেভাবে থাকো”। সেদিন কথাটা খুব শক্ত ঠেকেছিল; আজ বুঝি এর মর্মার্থ। বাবার ‘বুড়ি’ তো সত্যি সত্যি নিরুপা রয় নয়!! এখন বাবাকে মনে পড়লেই, ভালো লাগে – সব স্মৃতি ভালোই লাগায়। মাঝে মাঝে যদিও সকালবেলা চা খেতে বসে মা-মেয়ে মিলে চোখের জল ফেলি, শুধু এইটা ভেবে যে, আজ আমাদের এরকম হাসিখুশি দেখলে বাবা কত আনন্দ পেত; বুয়াকে নিয়ে বাবার যে উচ্চাভিলাষ – সেটা আজ সত্যি, কিন্তু মানুষটা দেখতে পেল না। আদরের বুতান আজ কত্ত বুঝদার, সংসারের বাজারহাট, খুচরো পয়সার যোগান থেকে, মায়ের পায়ের নখও কেটে দেয়.....বাবা কত নিশ্চিন্ত হত... আজও হয়ত দেখছে বাবা – খুশি হচ্ছে, নিশ্চিন্ত হচ্ছে।এরকম ভাবলে যদি ভালো লাগে, তবে ভাবতে দোষ কি?
সত্যি,এখন সবকিছু কি সুন্দর ম্যানেজ করা যাচ্ছে, গুছিয়ে নিয়ে চলা যাচ্ছে। তখন সময়টা কিরকম যেন ........ নাহ। জীবন শেখায়, আমরা শিখেছি “worry brings more worries” ; তাই এখন আমাদের worry বা tension দুটোই অনেক কম।
কিছু পেতে গেলে, কিছু দিতে হয়; আর আগে দিলেই, পরে সেটা পাওয়া যায়। তাই এখন ‘ভালো আছি’ ভাবতে ভাবতেই ‘ভালো থাকা’ হয়ে যায়। তাইজন্য, আজকে এই প্রথমবার, বাবার কথা লিখতে গিয়ে আর মন খারাপ হচ্ছে না। মনে হচ্ছে, বাবা দেখছে আমার এই টাইপ করা, বাবা খুশি হচ্ছে, আজ তার ‘বুড়ি’ আর আবেগসর্বস্য নয়।
বাবার সাথে কাটানো সময়গুলো মনে করে, বাবার জীবনবোধটা বোঝার চেষ্টা করি। এত মানুষের এত প্রিয় ছিল লোকটা – সে চলে যাবার পরেও তার জন্মদিনে মায়ের কাছে ফোন আসে। তাকে মনে রেখেছে কত্তজন! তাকে এখনও লোকজন মিস করে। সত্যি, মানুষ কর্মের মধ্যে দিয়েই বাঁচে। আর আমার পাওনা, আমি এই মানুষের মেয়ে।
বাবা খুব হুল্লোড়ে টাইপের ছিল। যেখানেই যেত, মাতিয়ে রাখত – আর দ্যাখো, হয়তঃ এই কারণেই বুয়া বাবার সাথে জন্মদিন শেয়ার করছে; তাই এইদিনে বুয়ার সাথেই বাবার থাকাকেও আমরা সেলিব্রেট করতে পারি। ম্যাজিকে বিশ্বাস রাখি – আমার কাছে এটাও একটা দুর্দান্ত ম্যাজিকই বটে।
শুনেছিলাম, বাবার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘আনন্দ’; তারপর কে যেন, ১৪ই নভেম্বর জন্ম বলে নাম দিয়ে দেয় ‘জহর লাল’।
ভাইটা আমার উইনার ইন ট্রু সেন্স। বাবার মতন ওরও বন্ধুভাগ্য জবর। শতদ্রু – শাওনি তো এখন আমাদেরও ফ্যামিলি যেন। কি সুন্দর সবাই মিলে হৈ হৈ করে থাকে। জীবনকে কত সহজ করে দেখে। সব্বার কাছ থেকে শেখার আছে।
কাল রাত বারোটায় বুয়াকে ভিডিও কলে উইশ করেছি আর দিনের শেষে আজ বলছি – হ্যাপি বার্থডে বাবা!
কাকা, তোমার ফোনটা না পেলে হয়তো আজ এই লেখাটা হত না গো।
বাবা যাদের ভালবাসত, বাবাকে যারা ভালবাসত – সবার জন্য শুভেচ্ছা!!
- Get link
- X
- Other Apps
Labels
Baba Jayati Mukherjee
Labels:
Baba
Jayati Mukherjee
- Get link
- X
- Other Apps


Comments
Post a Comment