Skip to main content

টাইম হীলস। ওয়েটিং ওনলি।

 

আজ সেই একটা ৮ তারিখ, সেই শনিবার। দেখতে দেখতে ছ'টা মাস.... অর্ধেক বছর পার।
দিন, তারিখ, ঘন্টা, মিনিট....সবই তো ম্যানমেড। তাতে আর কি আসে যায়। ৮ই ফেব্রুয়ারি, সন্ধে ৬.২৫শে তুমি তো মুক্ত হলে। সেই যে ছোট্ট মেয়েটা, ছোটবেলায় বাবা হারিয়ে হঠাৎ করে বড় হয়ে গেল.... প্রার্থনা করি, এইবারের ছোটবেলা যেন ঠিক ছোটবেলার মতনই হয়।
আগে সময় কেটে যেত, এখন সময় কাটাই। তাড়াহুড়ো বেড়েছে, দায়িত্ব বেড়েছে... শুধু ব্রাশ করে মুখ মোছার তোমার সময় আঁচলটাকে খুব মিস করি। এখনও রোজ বাড়ি থেকে বেরোনোর পর ঘাড়টা অটোমেটিক ঘুরে বারান্দায় তোমায় দেখতে চায়। রোজ তোমার মুখ দেখতে পেতাম না, বারান্দার গাছের আড়াল থেকে তোমার হাত নাড়ানো আজও দেখি, সাবকনশাস মনে ইমেজটা জমে গেছে যে। রান্নাঘর ভর্তি কত কৌটো, সব বেছে সরিয়ে রেখেছি। তুমি নেই, লোকজনের আসাও কম, এখন তো আবার লকডাউন পর্ব; অনেকে তো বলেই দিয়েছে, এই বাড়িতে আর আসবে না....তুমি নেই তাই; এজন্য বাসনপত্রও সব উঠিয়ে রেখেছি। দুজন মানুষের আর কত লাগবে, তাই না। তোমার শাড়ি-ব্লাউজ সঅঅব গুছিয়ে তুলে রেখেছি। বাড়িটাকে আরও খালি করে ফেললাম ........
সকালে টেবিলে বসে একা একা চা খেতে খেতে ভাবি, সকলের ডায়রি লেখা উচিৎ, অনেক কথা তোমার সাথে বলা হয় নি, তুমিও বলো নি, হয়তো বলতে পারো নি, লেখা থাকলে তো আফশোষ কম হয়। বাংলা কাগজ, কেবল কানেকশন এখন বাড়তি, তাই বাদের খাতায়।
কষ্ট নয়, খুউব রাগ হয় তোমার উপর। তুমি চলে গেছ বলে নয়, অনেক কিছু না বলে চলে গেলে, না জানা রয়ে গেল অনেক কিছুই, তাই।
টাইম হীলস। ওয়েটিং ওনলি।

Comments

Popular posts from this blog

‘হো’ওপনোপনো’

কথায় আছে লেটস ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট। আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো? ক্ষমা কি করা যায়, যদিও বা যায়... সেটা কি ভোলা সম্ভব? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সময় একটা বড় ভুমিকা নেয়, দিন যেতে যেতে ঘটনার অনুভুতির তীক্ষতা কমতে থাকে, আমরা মনে করি ‘ভুলে গেছি’; কিন্তু দেখা যায়, সামান্য অনুরূপ কিছু হলে বা মনে পড়লেই দগদগে ভাব নির্লজ্জের মতন বেরিয়ে পরে।  হ্যাঁ, আমিও বলছি, ভালো থাকতে গেলে এই –“ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট” যাদুর মতন কাজ করে। একটা সত্যি ঘটনা বলি আজকে, আমার জীবনের। আমার বাড়ির পাশেই একটা কোচিং সেন্টারে আমার ছেলে পড়ত। ঘটনাক্রমে, সেন্টারহেডের ছেলেও আমার ছেলেরই ক্লাসের বন্ধু। প্রচলিত আছে, সেই সেন্টারহেড (নাম ধরে নিই ‘ক’বাবু) ভালো ছাত্রছাত্রী ছাড়া সেই সেন্টারে পড়ান না। তাই, আমার ছেলে যখন ক্লাস সেভেন (ছেলে আমার বরাবরই ৬০% পাওয়া – ছোটবেলায় লারনিং ডিসঅর্ডার ছিল) তখন তিনি তাকে যোগ্য মনে করেন নি সেই সেন্টারের। ক্লাস নাইনের সময়, আমি দেখলাম, ওর ক্লাসের অনেকজন ওই সেন্টারেই পড়ে আর বাড়ির পাশে বলে, আমারও সুবিধে হবে, অনেকগুলো পথ খরচ বেঁচে যাবে... এইসব ভেবে আবার গেলাম ‘ক’ বাবুর কাছে, অনুরোধ করলাম আমার ছেলেকে ভর্তির জন্য; বদলে ...

শিক্ষা

  একবার হয়েছে কি, ভীষণ উত্তেজনাবশতঃ বেশ কড়া দামে টিকিট কেটে দেখতে গিয়েছিলাম একটা সিনেমার ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো। তারপর…. একঘণ্টা যেতে না যেতেই প্রান হাঁসফাঁস, হাত কামড়ানো। মনে যুদ্ধ চলছে – ‘এত খাজা ছবি কি করে হতে পারে’র সাথে ‘ঈশ, কত খরচ হয়ে গেল’র। ভাবতে ভাবতে, পকেট আরও খসিয়ে পপকর্ণ আর কোল্ড্রিঙ্কও খাওয়া হয়ে গেল। হল থেকে বেড়িয়ে কান মুলেছিলাম, এমন বোকামি আর হবে না, শপথ টপথও নিয়েছিলাম খানিক। বলুন তো, আসল বোকামিটা কোনটা ছিল? দামী টিকিট কেটে বাজে সিনেমা দেখা না কি সিনেমাটা বাজে বুঝেও, বেশি খরচ হয়ে গেছে এই ভেবে, হলে বসে নিজের সময় বরবাদ করে পুরো সিনেমাটা হজম করা? নিজেদের জীবনের দিকে একবার ভালো করে তাকাই তো; আমাদের সম্পর্কগুলোও অনেকটা এইরকম নয় কি? কাজ করছে না জেনেও, লেগে থাকি, সম্পর্কের ভার বয়ে চলি অনেক ইনভেস্টমেন্ট হয়ে গেছে, লোকে কি বলবে… এইসব ভেবে। কিন্তু আস্তে আস্তে যে সবচেয়ে দামী ইনভেস্টমেন্টটা পাঁকে চলে যাচ্ছে…মানে “সময়”…যেটা আর ফিরে আসবে না, তার কথা ভাবা হয়ে ওঠে না।   কিছুই কিন্তু অপূরণীয় নয়। আপনি না থাকলে, বা আমি না থাকলে সব কি থমকে যাবে? কিছুদিন আগে ইন্সটাগ্রামে একটা পোস্ট দেখে...

নিশিদিন আলোক শিখা জ্বলুক প্রাণে

  জীবনের সবকিছু আমাদের শেখায়। যাদের সাথে দেখা হয়, যাদের সাথে থাকা হয়, যাদের কথা ভাবা হয়, যা যা ঘটে  … সবার থেকে কিছু না কিছু শিখতে পারা যায়। বা, বলা ভালো- শিখতে পারতে হয়, শিখতে জানতে হয়। কারণ, শিখতে পারলে এইসবই আমাদের কাছে “অভিজ্ঞতা” যা জীবন চলতে সাহায্য করে। নতুবা, এগুলোই আমাদের যাবতীয় অ-সুখের কারণ।    তাই, আমাদের প্রতিটা মুহূর্তের ঘটে যাওয়া, ঘটতে থাকা ঘটনাগুলো, ঘটনার কুশীলব সকলেই আমাদের শিক্ষক।   এইসব শিক্ষকদের অবহেলা করবেন না। যখন আপনি মনের মতন চাকরি পাচ্ছেন না, বা যখন কোনও সম্পর্ক প্রশ্নচিহ্নের সামনে, অথবা যখন আপনার বিরুদ্ধে সব ঘটছে, আপনি সমস্যার সম্মুখীন, সেই মুহূর্তে এই শেখার পাঠ আরও বেশি করে মনে করুন। কবি তো বলেই গেছেন কতভাবে – “আরও বেদনা, আরও বেদনা, প্রভু দাও মোরে আরও চেতনা”… “চির পিপাসিত বাসনা-বেদনা, বাঁচাও তাহারে মারিয়া…” “আমি বহু বাসনাই প্রাণপণে চাই, বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে”….. গানগুলো শোনা হয়, গাওয়া হয়, কিন্তু অর্থটাই বোধগম্য হতে পারে না। সমস্যার সময়ে নিজের জীবনের শিক্ষাগুলোকে মনে করে ফেলতে পারলেই কিন্তু সেই পরীক্ষাটা সহজে পাশ করা হয়ে যাবে। যে সব অবস...