১লা আশ্বিন – এইবার প্রথম এত বেশি করে বলছি, নতুবা তো ১৮ই সেপ্টেম্বরটাই মানি।
শুনেছি, তোমার ছোটবেলায় এক ভীষণ অসুখ করেছিল। তুমি না কি অচেতন হয়ে ১৪দিন মতন ছিলে, বোধহয় তারপর থেকেই তোমার সহ্যশক্তি এতটা বেড়ে গিয়েছিল। তুমি বলেছিলে, দাদু মারা যাওয়ার পর তোমাকে কেউ কাঁদতে দেখে নি। কে যেন বলেছিল (নামটা মনে পরছে না, তুমি বলেছিলে...) তোমায় কাঁদাতে, নতুবা .... তাই বোধহয় তুমি এত চাপা ছিলে। কাউকে নিজের ভেতরটার ছোঁয়াচ পেতে দাও নি।
আমি ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি আমাদের বাড়িতে বাসনকোসন থেকে শুরু করে টমেটো স্যসের বোতলটাও সবথেকে বড়। আমাদের বাড়িতে সবসময় প্রায় দুজনের মতন বেশি রান্না হত/থাকত। বেহিসেবি, খরুচে – কতকিছু বলেছি তোমায়; নিজে তো বলেইছি, অন্যদের বলতেও শুনেছি। এখন খুব মনে হয় – বড় মন ছিল বলে তুমি সবকিছুতেই ব্যপকতা ছাড়া কিছু ভাবতে পারতে না। বাবাও এমন ছিল – বড় মনের। তোমাদের দুজনের জুটিটা না – সত্যিই রাজযোটকের মতন। সেই, তোমার গায়ের শাল দিয়ে দিয়েছিলে , জ্যেঠিমার ভালো লেগেছিল বলে। তোমার জন্য ব্যাঙ্গালোর থেকে আনা পারফিউম, পাঞ্জাব থেকে আনা চিকন শাড়ি বাবা যখন অন্যদের গিফট করেছিল – আমার ভারি রাগ হয়েছিল, তুমি কিচ্ছু বল নি, তুমিই বাবাকে আস্কারা দিতে। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে –‘পার্থিব জিনিষের জন্য কষ্ট পেও না’। আজ বুঝি, তুমি এই কষ্ট পাও নি কখনো ; কিন্তু সবাইকে ভালো রাখতে গিয়ে নিজেকে যে কষ্ট দিয়েছিলে, তার জন্য শেষটা এত কষ্টের হল – এত সুন্দর মুখটা শেষমেশ......
আমি না আজ সারাদিন ভাবছিলাম – তুমি কখনো কাউকে খারাপ বল নি সে ভাবে। এক একটা পরিস্থিতিতে মানুষ এক এক রকমের ব্যবহার করে, এটা বলতে। তোমারও খারাপ লাগত; বুঝতে দিতে না। আমি দেখেছি, কি ভাবে অনেকে ফিরে এসেছে তোমার কাছে, যারা একদা তোমাকে পাপোশ করে ফেলেছিল। ইয়েস, কর্মা ইস এ মিরর।
তোমার ‘ব্যাড অ্যাস’ কীর্তিকলাপ দৃষ্টান্ত বই কি। কব্জির হাড় ভেঙ্গে তিন বাটি রক্ত বের করেও সকলকে চমকে দিয়ে এক ফোঁটা চোখের জল না ফেলে অপারেশান করে বাড়ি চলে এলে। তারপর রাস্তায় দুড়ুম করে পরে গিয়ে, নাক মুখ ফাটিয়েও – ম্যাডাম ফিট। চোখ অপারেশান করে পরের দিন সকালেই নিজে চা বানিয়েছ।
শেষবারটাতেই হার মেনে নিলে সুন্দরী। একজন অসম্ভব ইন্ডিপেন্ডেন্ট মেজাজের মানুষকে নিজের সবকিছুর জন্য অন্য কাউকে অবলম্বন করতে হচ্ছিল – জীবনের এই পরিহাসটা মানতে পারলে না – উইথড্র করে নিলে তো? বুঝি, বুঝতে পারি।
এনি ওয়ে, বুয়া রাত বারোটায় পোস্ট করেছিল – হ্যাপি বার্থ ডে মা, নো গিফট দিস ইয়ার দো। কি আর বলি, সত্যি, গিফটটা না মিস করলেই পারতে। অ্যাটলিস্ট আমরা তো তোমাকে মিস করতাম না।
"ফুরায় বেলা, ফুরায় খেলা, সন্ধ্যা হয়ে আসে–
কাঁদে তখন আকুল-মন, কাঁপে তরাসে।।"

Comments
Post a Comment