বরাবর বলে আসছি, মেনে আসছি (আর পেয়েও আসছি) আই অ্যাম সারাউন্ডেড বাই ওয়ান্ডারফুল পার্সন্স আর লাইফ ইস বিউটিফুল। তাই সক্কাল সক্কাল চোখ খুলেই মনে মনে লিস্টি ধরে থ্যাঙ্কিউ বলতে বলতেই দেখি রাতে শোবার সময় এসে গেল। সত্যি বলছি গো। এই থ্যাঙ্কিউ এর মধ্যে আমার হাত-পা-চোখ-কান-নাক থেকে শুরু করে ভোরবেলায় ময়লা নিতে আসা শ্যাম দা, কাগজ দিতে আসা অশোক দা, আমার ঘরবাড়ি ঝকঝকে করে রাখা ললিতা সহ একতলায় ঠাকুমার আয়ামাসী বা দূশো টাকার খুচরো দেওয়া রিক্সাওয়ালা......সবাই থাকে। এছাড়া, আমার কাছের মানুষের তো কমতি নেই, আমার বন্ধুরা, আমার অফিসের সবাই..... রোজ চেষ্টা করি লিস্ট বাড়াতে!!!
থ্যাঙ্কিউ বলতে বলতে যে ম্যাজিকটা হয়েছে আমার সঙ্গে, তা হল; একটা বিশ্বাস মগজে ঘাঁটি গেঁড়ে বসেছে - আল ইস ওয়েল; যা হয় তা ভালোর জন্যই হয়।
মা কে হারিয়েছি এই বছর - এর মধ্যে ভালো কি আছে যখন ভাবি, মনে হয় ; মা এই প্যান্ডামিক ফেস করল না। শেষ অব্দি মায়ের কাছে থাকতে পেরেছি। হয়তো এই ভাবনা অবান্তর, কিন্তু ভাবলে তো ভালো থাকা যায়।
মা'র চলে যাওয়ায়, আরেকটা ভালো ব্যাপার হয়েছে আমার সাথে- জীবনের 'বাড়তি' গুলো চিনতে শিখছি। যাকিছু আগলে রাখতাম, বাদ দিতে পেরে যাচ্ছি অনায়াসে। বদলে, অদ্ভুত হালকা বোধ হয়, সারপ্রাইজের বন্যা বয়ে যায়।
কিছু প্রাপ্তি স্বীকার করি;
এই বছর, ইচ্ছাকৃত ফেসবুক থেকে নিজের বার্থ ডে নোটিফিকেশন অফ করে দিই। প্রতিদিন এত নতুন নতুন 'পাওয়া' হচ্ছে যখন; আলাদা করে একটা দিন সেলিব্রেট করে লাভ নেই! তো, এবার বলি, সেই দিন কি হল আমার সাথে।
- রাত বারোটায় আমার ভাই আর পুত্র অ্যারেন্জ করে মামামিয়ার ব্ল্যাকবেরি চিজকেক কাটালো, জীবনে প্রথম চিজকেক খেলাম সেদিন। (শুধু কেক কাটার সময় তাতান আমায় জরিয়ে যখন হাউহাউ করে কেঁদে ফেলল; তখন খানিক বেসামাল হয়ে পড়েছিলাম)
- অফিস সেইদিন বাড়ি থেকেই করব, অনুমতি নিয়ে কাজ শুরু করতেই দেখলাম দশটা নাগাদ মালিনী চলে এল তিড়িং কে নিয়ে। আট মাস পর .... বাড়িটা যেন সেই আগের মতন মনে হচ্ছিল। নিজে যাবতীয় বাজার করে এনে আমার জন্য মাংস বানাল, পায়েস বানাল।
- রাত্রিবেলা তো বেজায় মজা। দু রকম চমক। ব্যাঙ্গালোর থেকে পৌলমী পাঠালো আর্সালানের বিরিয়ানি আর গুরগাঁও থেকে বুয়া পাঠালো একগাদা কি সব চাইনিজ খাবার দাবার (খাও স্যুই না কি ছাই নাম)
- শর্মিষ্ঠার প্রেজেন্ট ইলেক্ট্রিক কেটল।
- আমাকে নিয়ে লেখা পেলাম এক গুনী বন্ধুর।
- ফোন পেলাম তাদেরই, নোটিফিকেশন ছাড়া যারা মনে রেখেছিল..... (ছাঁকনি )
- পরের দিন, আরেক চমক! ঘুনাক্ষরে কিছু না বুঝতে দিয়ে, হারিয়ে খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত প্রিয় একজন, রীতিমত কেক কাটিয়ে, একটা বড় ক্যাডবেরি দিয়ে আমার বয়স কমিয়ে দিল।
এছাড়া, কিছু সঙ্গ, কিছু সম্পর্ক, কিছু মুহূর্ত..... বাঁচিয়ে রেখেছে, রাখছে।
আমি, ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, শ্রেষ্ঠ উপহার "অনুভূতি"! যে অনুভূতি জানান দেয়, 'আই অ্যাম সেলিব্রেটেড", সেই অনুভূতি জাস্ট লা-জবাব!!
এই রকম উপহার - প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ পেয়ে চলেছি, বিভিন্ন ভাবে। থ্যাঙ্কিউ না বললে ধম্মে সইবে?????
তাই তো মনে হয়, বয়স বাড়া-কমার কথা ভুলে গিয়ে, এনার্জি বাড়া-কমা নিয়ে ভাবলে হয় না?
আমি বাপু কমপ্ল্যান না খেয়েও হেব্বি এনার্জি পাই - এই থ্যাঙ্কিউগুলো থেকে।
তোমাদের সব্বাইকে থ্যাঙ্কিউ, আমার সাথে থাকার জন্য।
(Btw, today is not my birthday as per the certificate; I consider, every day is a brand new day and a new birth for all of us
So, every day is a Birthday. Isn't it?? )
Recap:
'৭৬ এর সেই দিনটা ছিল জগদ্ধাত্রী পূজো। ছোম্মা বলছিল, খান্নার কাছে রিলায়েন্স নার্সিংহোমে মা'কে নর্মাল ডেলিভারির জন্য ওয়েট করিয়ে নিরূপায় হয়ে নির্ভিকা দি ওটি তে নিয়ে যাবার আগে সবাইকে বলে একবার দেখা করে যেতে। তখন, কে যেন দৌড়ে সামনের প্যান্ডেলে গিয়ে পূজো দিয়ে এসেছিল।
এই দশাশই জগদম্বামার্কা চেহারা কি ..... 





Comments
Post a Comment