Skip to main content

প্রাপ্তি স্বীকার _ ইন্দ্রানীদি

 

Todd Henry তার “Die Empty” বইতে লিখেছিলেন যে, একটি বিশেষ বিজনেস মিটিঙে গিয়ে তিনি তার বইটি লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। মিটিঙে একজন ডিরেক্টর সমস্ত শ্রোতাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন – "Where is the richest land in the world?" কেউ কেউ বলেছিল - "Oil-rich Gulf states." আবার কেউ কেউ উত্তর দিয়েছিল - "Diamond mines in Africa." কিন্তু নাহ! উত্তরে ডাইরেক্টর যা বলেছিলেন, সেইটাই ছিল হেনরি সাহেবের বই লেখার অনুপ্রেরণা। উত্তরটা ছিল – “"No it is the cemetery. Yes, it is the richest land globally, because millions of people have departed/died and carried many valuable ideas that did not come to light nor benefit others. It is all in the cemetery where they are buried."
ইন্দ্রাণীদি – আমার কাছে এক আইডিয়ার ভাণ্ডার। দিদিকে কাছে পেয়েছি বইবন্ধুর সাথে কাজ করতে গিয়ে। ছন্দকের আমন্ত্রণে বইবন্ধুর প্রথম মিটিঙে (সল্টলেক, কথোপকথন) গিয়ে নিজেকে খুব ঋদ্ধ মনে হচ্ছিল। এত গুণীজন সমাবেশে ভাগ নেওয়ার সুযোগ তো চট করে হয় না। সেদিনের পর Chhandak এর সুত্র ধরেই আলাপ Pijush এর সাথে, Atanu র সাথে, Souvik দার সাথে। তারপর, অতনুর সাথে কনকলে প্রথম কথা হয় দিদির সাথে। অতনু- সৌভিকদার বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে গিয়ে (নিউটাউন লাইব্রেরী)আলাপ-আড্ডা শুরু হল। তারপর দিদির স্বপ্নের বইবন্ধুর চলার পথে আমিও পথিক হলাম।
দিদির জন্যই কত যায়গা ঘুরে ঘুরে আমরা কাজ করলাম, কতজনের সাথে আলাপ হল। জীবনে প্রথম মঞ্চে দাঁড়িয়ে উত্তরীয় উপহার পেলাম দিদির জন্যই। দিদির জন্যই বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা মানুষদের সাথে পরিচয়। দিদির জন্যই সুযোগ পেলাম TATA Metaliks এর প্রোজেক্টে কাজ করার।দিদির জন্যই আইআইটির রাজলক্ষ্মী ম্যাম, পার্থ স্যার এর সাথে আলাপ – Mindfulness Based Cognitive Therapy নিয়ে আলোচনা। দিদির সাথে, বইবন্ধু নিয়ে প্রথম যাওয়া ক্যালকাটা ক্লাব এ – অনেক অনেক অনেক কিছু আছে ইন্দ্রাণীদির সাথে, অনেক কিছু পেয়েছি দিদির জন্য।কৃতজ্ঞ আমি।
বইবন্ধু আমার জীবনের একটা মাইলস্টোন। বইবন্ধু ক্যাম্প করতে যাওয়া, যাওয়ার আগে প্ল্যান, যাওয়ার পর মিনিটস লেখা...... সে সব ছিল এক দারুণ ভালোলাগার সময় কাটানো। দূর দূর প্রান্তে গাড়ি করে যেতে যেতে দিদি বলত তার স্বপ্নের কথা – বইএর হাসপাতাল করবে, বইপড়াকে নেশা বানাবে, লড়াই করবে মোবাইলের নেশার ছোবলের সাথে।ছোটদের জন্য নতুন ধরণের পড়ানোর প্রথা সমৃদ্ধ স্কুল বানাবে...... কতকিছু স্বপ্ন.... দিদির ফেসবুক লাইভে উপস্থিত থাকলে বোঝা যেত, জানা যেত দিদির স্বপ্নগুলোকে। বইমেলাকে দুয়ারে দুয়ারে এনে দিয়েছিল এই ইন্দ্রানীদিই।
দিদির মুখে শুনেছিলাম দিদির লড়াই এর কথা, সাংবাদিক জীবনের গল্প, সোশ্যাল ওয়ার্কিং এর অভিজ্ঞতা। অত্যন্ত অকপট ভাবে বলে দিত নুরদার সাথে প্রেমের গল্প। লাজুক হাসি নিয়ে শুনতে ভারি ভালো লাগত।
সম্বোধন আসত – ‘সোনা’/‘বাবু’। মন ভরে যেত।
ফেসবুকের ওয়ালে দিদির ওয়ান লাইনারসগুলো মারকাটারি ছিল।
বেশীরভাগই বুঝতে পারতাম না যদিও (বরাবরই একটু ‘বুঝি কম’ টাইপ তো)।
’১৯ এর ৩রা এপ্রিল, দিদির সাথে গিয়েছিলাম পাঠভবনে-বইবন্ধু অনুষ্ঠানে; সেদিন অসম্ভব খারাপ শরীর নিয়ে দিদি এসেছিলেন। মনের জোর সাংঘাতিক ছিল। পাশে থেকে দেখেছিলাম কিভাবে কোল্যাপ্স করলেন আবার প্রবল এনার্জি নিয়ে পুরোদমে স্বমহিমায় ফিরে এলেন। ভেবেছিলাম, এবারেও পারবে........
দুরত্ব একটা তৈরি হয়েছিল, যোগাযোগের। ক্ষুন্নিবৃত্তির ব্যস্ততা মনের খোরাক যোগাড়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।দিদির অভিমান ছিল। মাঝে মাঝে ফোনে আর বাকি সময় হোয়াটসঅ্যাপে। শেষ কথা হয় ১৬ই জানুয়ারি। কারোর এমারজেন্সি রক্তবদলের দরকার ছিল, সেই সুত্রে। তিন্নির জন্মদিনে(২২শে ফেব্রুয়ারি)ফোন করে না পেয়ে, তার আগে ফেসবুকে দিদির একটা পোস্ট দেখে ফোন করি সৌভিকদাকে। শুনি সব। এই পয়লা মার্চ থেকে বালিগঞ্জএ অফিস করতে যাই, রোজই ভাবছি, একদিন গিয়ে দেখা করে আসব, ছুটির পর। আর হল না।
মা চলে যাবার পর দিদি ম্যাসেজ করেছিলেন – “সাবধানে থাকিস, স্থির থাকিস”। Noor দা, তিন্নিকে এটাই বলছি; “স্থির থেক”। ভানু জ্যেঠুকে কিছু বলার মতন ক্ষমতা বা সাহস নেই।
মানুষ চলে যায় না। সকলের মধ্যে একটু করে থেকে যায়। আমার মধ্যেও ইন্দ্রানীদি আছে, থাকবে। She was not only a dreamer, SHE IS A DOER। হ্যাঁ, was নয়, is
বইবন্ধু জিন্দাবাদ!! হিপ হিপ হুররে !!



Comments

Popular posts from this blog

‘হো’ওপনোপনো’

কথায় আছে লেটস ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট। আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো? ক্ষমা কি করা যায়, যদিও বা যায়... সেটা কি ভোলা সম্ভব? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সময় একটা বড় ভুমিকা নেয়, দিন যেতে যেতে ঘটনার অনুভুতির তীক্ষতা কমতে থাকে, আমরা মনে করি ‘ভুলে গেছি’; কিন্তু দেখা যায়, সামান্য অনুরূপ কিছু হলে বা মনে পড়লেই দগদগে ভাব নির্লজ্জের মতন বেরিয়ে পরে।  হ্যাঁ, আমিও বলছি, ভালো থাকতে গেলে এই –“ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট” যাদুর মতন কাজ করে। একটা সত্যি ঘটনা বলি আজকে, আমার জীবনের। আমার বাড়ির পাশেই একটা কোচিং সেন্টারে আমার ছেলে পড়ত। ঘটনাক্রমে, সেন্টারহেডের ছেলেও আমার ছেলেরই ক্লাসের বন্ধু। প্রচলিত আছে, সেই সেন্টারহেড (নাম ধরে নিই ‘ক’বাবু) ভালো ছাত্রছাত্রী ছাড়া সেই সেন্টারে পড়ান না। তাই, আমার ছেলে যখন ক্লাস সেভেন (ছেলে আমার বরাবরই ৬০% পাওয়া – ছোটবেলায় লারনিং ডিসঅর্ডার ছিল) তখন তিনি তাকে যোগ্য মনে করেন নি সেই সেন্টারের। ক্লাস নাইনের সময়, আমি দেখলাম, ওর ক্লাসের অনেকজন ওই সেন্টারেই পড়ে আর বাড়ির পাশে বলে, আমারও সুবিধে হবে, অনেকগুলো পথ খরচ বেঁচে যাবে... এইসব ভেবে আবার গেলাম ‘ক’ বাবুর কাছে, অনুরোধ করলাম আমার ছেলেকে ভর্তির জন্য; বদলে ...

শিক্ষা

  একবার হয়েছে কি, ভীষণ উত্তেজনাবশতঃ বেশ কড়া দামে টিকিট কেটে দেখতে গিয়েছিলাম একটা সিনেমার ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো। তারপর…. একঘণ্টা যেতে না যেতেই প্রান হাঁসফাঁস, হাত কামড়ানো। মনে যুদ্ধ চলছে – ‘এত খাজা ছবি কি করে হতে পারে’র সাথে ‘ঈশ, কত খরচ হয়ে গেল’র। ভাবতে ভাবতে, পকেট আরও খসিয়ে পপকর্ণ আর কোল্ড্রিঙ্কও খাওয়া হয়ে গেল। হল থেকে বেড়িয়ে কান মুলেছিলাম, এমন বোকামি আর হবে না, শপথ টপথও নিয়েছিলাম খানিক। বলুন তো, আসল বোকামিটা কোনটা ছিল? দামী টিকিট কেটে বাজে সিনেমা দেখা না কি সিনেমাটা বাজে বুঝেও, বেশি খরচ হয়ে গেছে এই ভেবে, হলে বসে নিজের সময় বরবাদ করে পুরো সিনেমাটা হজম করা? নিজেদের জীবনের দিকে একবার ভালো করে তাকাই তো; আমাদের সম্পর্কগুলোও অনেকটা এইরকম নয় কি? কাজ করছে না জেনেও, লেগে থাকি, সম্পর্কের ভার বয়ে চলি অনেক ইনভেস্টমেন্ট হয়ে গেছে, লোকে কি বলবে… এইসব ভেবে। কিন্তু আস্তে আস্তে যে সবচেয়ে দামী ইনভেস্টমেন্টটা পাঁকে চলে যাচ্ছে…মানে “সময়”…যেটা আর ফিরে আসবে না, তার কথা ভাবা হয়ে ওঠে না।   কিছুই কিন্তু অপূরণীয় নয়। আপনি না থাকলে, বা আমি না থাকলে সব কি থমকে যাবে? কিছুদিন আগে ইন্সটাগ্রামে একটা পোস্ট দেখে...

নিশিদিন আলোক শিখা জ্বলুক প্রাণে

  জীবনের সবকিছু আমাদের শেখায়। যাদের সাথে দেখা হয়, যাদের সাথে থাকা হয়, যাদের কথা ভাবা হয়, যা যা ঘটে  … সবার থেকে কিছু না কিছু শিখতে পারা যায়। বা, বলা ভালো- শিখতে পারতে হয়, শিখতে জানতে হয়। কারণ, শিখতে পারলে এইসবই আমাদের কাছে “অভিজ্ঞতা” যা জীবন চলতে সাহায্য করে। নতুবা, এগুলোই আমাদের যাবতীয় অ-সুখের কারণ।    তাই, আমাদের প্রতিটা মুহূর্তের ঘটে যাওয়া, ঘটতে থাকা ঘটনাগুলো, ঘটনার কুশীলব সকলেই আমাদের শিক্ষক।   এইসব শিক্ষকদের অবহেলা করবেন না। যখন আপনি মনের মতন চাকরি পাচ্ছেন না, বা যখন কোনও সম্পর্ক প্রশ্নচিহ্নের সামনে, অথবা যখন আপনার বিরুদ্ধে সব ঘটছে, আপনি সমস্যার সম্মুখীন, সেই মুহূর্তে এই শেখার পাঠ আরও বেশি করে মনে করুন। কবি তো বলেই গেছেন কতভাবে – “আরও বেদনা, আরও বেদনা, প্রভু দাও মোরে আরও চেতনা”… “চির পিপাসিত বাসনা-বেদনা, বাঁচাও তাহারে মারিয়া…” “আমি বহু বাসনাই প্রাণপণে চাই, বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে”….. গানগুলো শোনা হয়, গাওয়া হয়, কিন্তু অর্থটাই বোধগম্য হতে পারে না। সমস্যার সময়ে নিজের জীবনের শিক্ষাগুলোকে মনে করে ফেলতে পারলেই কিন্তু সেই পরীক্ষাটা সহজে পাশ করা হয়ে যাবে। যে সব অবস...