আবার বছর ঘুরে সেইদিন, ২৮শে এপ্রিল। সকাল থেকে ভেবে যাচ্ছি, কি লিখি..... ভাবতে ভাবতে সন্ধ্যেতে কাকার ফোন এলো “বুড়িয়া, আজ কিছু লিখবি না?”
ভারি আজব এই তারিখ, বছর, দিনের হিসেব। এগুলো আছে বলেই যেন আজ মনে হচ্ছে, একজন এবার ইংরেজি বছরের শুরুতে চলে গেল আর আরেকজন তো আট বছর আগেই বাংলা বছরের শুরুতে ড্যাং ড্যাং করে চলে গেছে। আমি শুধু দুটো চশমা, দুটো ঘড়ি, দুটো ডেথ সার্টিফিকেট গুছিয়ে রেখে যাচ্ছি (সাথে বাকি সবকিছুর লিস্ট এখনও বেশ বড়)। দায়িত্ব কি কমছে না বাড়ছে .... জানি না।
মৃত্যু অমোঘ, শাশ্বত। মানি, মৃত্যু মুক্তি দেয়। চোখে জল এলে, এগুলোই ভাবি; তবু এইবার চিবুক বেশি ভিজছে ; লকডাউন বলেই কি ..... জানি না।
বাবা চলে যাবার পর, অনেক কিছু বদল ঘটেছিল, কিছু আমি বদলেছিলাম, কিছু আমায় বদলেছিল; এই বদলগুলো নিয়ে আমাকে সামলেছিল মা; এখন যখন মা-ও নেই, দেখছি বদলের ডাক হুড়মুড় করে আসছে, বেসামাল হয়ে যাচ্ছি বারেবার। জীবন শেখায়; হয়তো শিখতে হবে আরও শক্ত হতে ..... ঠিক জানি না।
কিছু নতুন ধরণের অভিজ্ঞতা হচ্ছে; দেখছি আলগা রাগ-অভিমান-অভিযোগ-নালিশের যায়গাগুলোও চলে গেছে। একমাত্র বাবা-মার কাছেই তো আমরা কখনো বড় হই না; জড়িয়ে ধরে আদর, কপালে চুমু ....... মা-বাবার পরিপূরক কেউ কি হতে পারে? মা-বাবা বলে ডেকে কি অন্য কাউকে সত্যি ঠিক সেইরকম অনুভব করা যায়? ..... জানি না।
ক্যলেন্ডারে ৮ লাল রঙের, ২৮ লাল রঙের ...বাকি রইল ১৮। ভেতরের হু হু ভাবটা মাঝে মাঝেই বলে, ওটা কি ..... জানি না।
জ্যামাইকা ফেয়ারওলের গানটা আজ বারবার শুনছি, ভাবছি, বাবা গাইছে, আমার জন্য ..... হয়তো, জানি না।
……. I'm on my way
Won't be back for many a day
My heart is down, my head is turning around
I had to leave a little girl in ……..

Comments
Post a Comment