Skip to main content

28th April, 2020

 


আবার বছর ঘুরে সেইদিন, ২৮শে এপ্রিল। সকাল থেকে ভেবে যাচ্ছি, কি লিখি..... ভাবতে ভাবতে সন্ধ্যেতে কাকার ফোন এলো “বুড়িয়া, আজ কিছু লিখবি না?”
ভারি আজব এই তারিখ, বছর, দিনের হিসেব। এগুলো আছে বলেই যেন আজ মনে হচ্ছে, একজন এবার ইংরেজি বছরের শুরুতে চলে গেল আর আরেকজন তো আট বছর আগেই বাংলা বছরের শুরুতে ড্যাং ড্যাং করে চলে গেছে। আমি শুধু দুটো চশমা, দুটো ঘড়ি, দুটো ডেথ সার্টিফিকেট গুছিয়ে রেখে যাচ্ছি (সাথে বাকি সবকিছুর লিস্ট এখনও বেশ বড়)। দায়িত্ব কি কমছে না বাড়ছে .... জানি না।
মৃত্যু অমোঘ, শাশ্বত। মানি, মৃত্যু মুক্তি দেয়। চোখে জল এলে, এগুলোই ভাবি; তবু এইবার চিবুক বেশি ভিজছে ; লকডাউন বলেই কি ..... জানি না।
বাবা চলে যাবার পর, অনেক কিছু বদল ঘটেছিল, কিছু আমি বদলেছিলাম, কিছু আমায় বদলেছিল; এই বদলগুলো নিয়ে আমাকে সামলেছিল মা; এখন যখন মা-ও নেই, দেখছি বদলের ডাক হুড়মুড় করে আসছে, বেসামাল হয়ে যাচ্ছি বারেবার। জীবন শেখায়; হয়তো শিখতে হবে আরও শক্ত হতে ..... ঠিক জানি না।
কিছু নতুন ধরণের অভিজ্ঞতা হচ্ছে; দেখছি আলগা রাগ-অভিমান-অভিযোগ-নালিশের যায়গাগুলোও চলে গেছে। একমাত্র বাবা-মার কাছেই তো আমরা কখনো বড় হই না; জড়িয়ে ধরে আদর, কপালে চুমু ....... মা-বাবার পরিপূরক কেউ কি হতে পারে? মা-বাবা বলে ডেকে কি অন্য কাউকে সত্যি ঠিক সেইরকম অনুভব করা যায়? ..... জানি না।
ক্যলেন্ডারে ৮ লাল রঙের, ২৮ লাল রঙের ...বাকি রইল ১৮। ভেতরের হু হু ভাবটা মাঝে মাঝেই বলে, ওটা কি ..... জানি না।
জ্যামাইকা ফেয়ারওলের গানটা আজ বারবার শুনছি, ভাবছি, বাবা গাইছে, আমার জন্য ..... হয়তো, জানি না।
……. I'm on my way
Won't be back for many a day
My heart is down, my head is turning around
I had to leave a little girl in ……..

Comments

Popular posts from this blog

‘হো’ওপনোপনো’

কথায় আছে লেটস ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট। আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো? ক্ষমা কি করা যায়, যদিও বা যায়... সেটা কি ভোলা সম্ভব? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সময় একটা বড় ভুমিকা নেয়, দিন যেতে যেতে ঘটনার অনুভুতির তীক্ষতা কমতে থাকে, আমরা মনে করি ‘ভুলে গেছি’; কিন্তু দেখা যায়, সামান্য অনুরূপ কিছু হলে বা মনে পড়লেই দগদগে ভাব নির্লজ্জের মতন বেরিয়ে পরে।  হ্যাঁ, আমিও বলছি, ভালো থাকতে গেলে এই –“ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট” যাদুর মতন কাজ করে। একটা সত্যি ঘটনা বলি আজকে, আমার জীবনের। আমার বাড়ির পাশেই একটা কোচিং সেন্টারে আমার ছেলে পড়ত। ঘটনাক্রমে, সেন্টারহেডের ছেলেও আমার ছেলেরই ক্লাসের বন্ধু। প্রচলিত আছে, সেই সেন্টারহেড (নাম ধরে নিই ‘ক’বাবু) ভালো ছাত্রছাত্রী ছাড়া সেই সেন্টারে পড়ান না। তাই, আমার ছেলে যখন ক্লাস সেভেন (ছেলে আমার বরাবরই ৬০% পাওয়া – ছোটবেলায় লারনিং ডিসঅর্ডার ছিল) তখন তিনি তাকে যোগ্য মনে করেন নি সেই সেন্টারের। ক্লাস নাইনের সময়, আমি দেখলাম, ওর ক্লাসের অনেকজন ওই সেন্টারেই পড়ে আর বাড়ির পাশে বলে, আমারও সুবিধে হবে, অনেকগুলো পথ খরচ বেঁচে যাবে... এইসব ভেবে আবার গেলাম ‘ক’ বাবুর কাছে, অনুরোধ করলাম আমার ছেলেকে ভর্তির জন্য; বদলে ...

শিক্ষা

  একবার হয়েছে কি, ভীষণ উত্তেজনাবশতঃ বেশ কড়া দামে টিকিট কেটে দেখতে গিয়েছিলাম একটা সিনেমার ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো। তারপর…. একঘণ্টা যেতে না যেতেই প্রান হাঁসফাঁস, হাত কামড়ানো। মনে যুদ্ধ চলছে – ‘এত খাজা ছবি কি করে হতে পারে’র সাথে ‘ঈশ, কত খরচ হয়ে গেল’র। ভাবতে ভাবতে, পকেট আরও খসিয়ে পপকর্ণ আর কোল্ড্রিঙ্কও খাওয়া হয়ে গেল। হল থেকে বেড়িয়ে কান মুলেছিলাম, এমন বোকামি আর হবে না, শপথ টপথও নিয়েছিলাম খানিক। বলুন তো, আসল বোকামিটা কোনটা ছিল? দামী টিকিট কেটে বাজে সিনেমা দেখা না কি সিনেমাটা বাজে বুঝেও, বেশি খরচ হয়ে গেছে এই ভেবে, হলে বসে নিজের সময় বরবাদ করে পুরো সিনেমাটা হজম করা? নিজেদের জীবনের দিকে একবার ভালো করে তাকাই তো; আমাদের সম্পর্কগুলোও অনেকটা এইরকম নয় কি? কাজ করছে না জেনেও, লেগে থাকি, সম্পর্কের ভার বয়ে চলি অনেক ইনভেস্টমেন্ট হয়ে গেছে, লোকে কি বলবে… এইসব ভেবে। কিন্তু আস্তে আস্তে যে সবচেয়ে দামী ইনভেস্টমেন্টটা পাঁকে চলে যাচ্ছে…মানে “সময়”…যেটা আর ফিরে আসবে না, তার কথা ভাবা হয়ে ওঠে না।   কিছুই কিন্তু অপূরণীয় নয়। আপনি না থাকলে, বা আমি না থাকলে সব কি থমকে যাবে? কিছুদিন আগে ইন্সটাগ্রামে একটা পোস্ট দেখে...

নিশিদিন আলোক শিখা জ্বলুক প্রাণে

  জীবনের সবকিছু আমাদের শেখায়। যাদের সাথে দেখা হয়, যাদের সাথে থাকা হয়, যাদের কথা ভাবা হয়, যা যা ঘটে  … সবার থেকে কিছু না কিছু শিখতে পারা যায়। বা, বলা ভালো- শিখতে পারতে হয়, শিখতে জানতে হয়। কারণ, শিখতে পারলে এইসবই আমাদের কাছে “অভিজ্ঞতা” যা জীবন চলতে সাহায্য করে। নতুবা, এগুলোই আমাদের যাবতীয় অ-সুখের কারণ।    তাই, আমাদের প্রতিটা মুহূর্তের ঘটে যাওয়া, ঘটতে থাকা ঘটনাগুলো, ঘটনার কুশীলব সকলেই আমাদের শিক্ষক।   এইসব শিক্ষকদের অবহেলা করবেন না। যখন আপনি মনের মতন চাকরি পাচ্ছেন না, বা যখন কোনও সম্পর্ক প্রশ্নচিহ্নের সামনে, অথবা যখন আপনার বিরুদ্ধে সব ঘটছে, আপনি সমস্যার সম্মুখীন, সেই মুহূর্তে এই শেখার পাঠ আরও বেশি করে মনে করুন। কবি তো বলেই গেছেন কতভাবে – “আরও বেদনা, আরও বেদনা, প্রভু দাও মোরে আরও চেতনা”… “চির পিপাসিত বাসনা-বেদনা, বাঁচাও তাহারে মারিয়া…” “আমি বহু বাসনাই প্রাণপণে চাই, বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে”….. গানগুলো শোনা হয়, গাওয়া হয়, কিন্তু অর্থটাই বোধগম্য হতে পারে না। সমস্যার সময়ে নিজের জীবনের শিক্ষাগুলোকে মনে করে ফেলতে পারলেই কিন্তু সেই পরীক্ষাটা সহজে পাশ করা হয়ে যাবে। যে সব অবস...