ইদানীং সব কিছুতেই একটু লেট করছি। খানিকটা ইচ্ছাকৃত। সময়ের বাঁধনটা তো নিজের মতন করে হাল্কা বা কষা করা যায়, সেই আহ্লাদ আর কি। তাই গতকাল বিশ্ব চা-দিবসের জন্য যা ভেবেছিলাম, সেটা আজ লিখছি।
অ্যাকচুয়ালি, ঘটনাটা ঘটেছিল এই বছরের ২৯শে জানুয়ারি। কাজের সুত্রে হঠাত আলাপ চন্দনের সাথে। বুঝলাম, যোগাযোগটা আকস্মিক নয়, প্রিডেসটাইন্ড। লাইক মাইন্ডেড কানেকশান আর কি। জানলাম বিখ্যাত গ্রুপ ক্যালকাটা ফুডিস ক্লাবকে। বুঝলাম, গ্রুপটা আসলে কিছু এমন মানুষের সমষ্টি যারা সত্যি কাজ করছেন এবং আরও কাজ করতে চান সমাজ নিয়ে, সাহায্যের হাত বাড়াতে চান, যেখানে সত্যি দরকার। আমন্ত্রন পেলাম, কেস্টপুরের ভেতরের দিকে একটা স্পেশাল চাইল্ড হোমে যাওয়ার, যেখানে ক্যালকাটা ফুডিস ক্লাব সেই হোমের সদস্যদের সাথে কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করবে, এবং কি কি কাজ করতে পারা যায়, দেখা হবে। সেদিন যেতে পারি নি, পদস্খলনের শিকার হয়েছিলাম। তারপর, গ্রুপের কোর মেম্বারদের সাথে একদিন লম্বা কনকলের পর ঠিক হল সামনাসামনি কথা বলা হবে। সেই সুত্রেই সবাই জরো হয়েছিলাম, বৈশাখী ফুটব্রিজের কাছে সিল্কস্ট্রিম এক্সলুসিভ টি আউটলেটে।
চা যে এত ধরনের হয়, আমরা যে ভাবে চা খাই, সেটা যে একদম শরীরের পক্ষে যা তা রকমের অনুপকারী, চা তৈরির সঠিক পদ্ধতি, ফার্স্ট ফ্লাশ চা, হোয়াইট টী কি আর এর উপকারিতা, চা এর আসল দাম – কত্তকিছু জানলাম। শুনলাম, জ্যোতিবাবুও রোজ এক কাপ হোয়াইট টী খেতেন।
এক প্যাকেট কমপ্লিমেন্টারি গ্রিন টী ও পেয়ে গেলাম - হে হে।
ফেসবুকে ক্যালকাটা ফুডিস ক্লাবের মেম্বার ছিলাম অনেকদিনই।তবে, স্বীকার করতে ক্ষতি নেই, গ্রুপের আসল উদ্দেশ্য সম্বন্ধে সত্যি আগে ওয়াকিবহাল ছিলাম না।
সেদিন আমাদের জোট বাঁধার প্রধান কারণ ছিল, কিছু সোশ্যাল প্রোজেক্ট প্ল্যান করা।আড্ডার শুরুতেই জানতে পারলাম, এক বস্তির মহিলাদের ক্লাউড কিচেন চালানোর ট্রেনিং দেবার ব্যাবস্থা অলরেডি হয়ে গেছে।একটা অদ্ভুত ভালোলাগা তৈরি হয়েছিল সেদিন।
সাগরদা, আশিক, প্রজ্ঞাপারমিতা, অসিতদা, চন্দন – এদের সাথে দেখা হয়ে মনে হল, যদি সত্যি ইচ্ছা থাকে ভালো কিছু করার, ঠিক সময় বের করা যায়, (কোথায় আছে না, ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়) নতুবা, এই অধমের সাথে আলাপের জন্য শীতের সন্ধ্যেতে অফিস ফেরত সল্টলেক আসা – আজকালকার দিনে, দেখি তো, রেয়ার বটেই।
সবসময় মনে করি, আই অ্যাম ব্লেসড এন্ড সারাউন্ডেড বাই ওয়ান্ডারফুল পিউপল। লিস্টটা বাড়ছে!! লাইফ ইস সত্যি বিউটিফুল।
চা এ চুমুকের সাথে এইরকম দামী মানুষদের সাথে আড্ডা, আমার ডাইরির পাতায় লাল কালি দিয়ে লিখে রেখেছি।



Comments
Post a Comment