এই দুনিয়ায় আমরা
সবাই এসেছি একা, চলেও যাব একাই – এইটা তো আমরা সব্বাই জানি। অথচ; মজার কথা হল যে – একদিন না একদিন চলে যেতে হবে জেনেও
কিন্তু আমরা মন খুলে বাঁচতে পারি না; মরার আগেই শতবার মরি, বাঁচতে ভুলে যাই। তাই না?
আজ আপনাদের একটা
অদ্ভুত গেস্ট হাউসের গল্প শোনাব – নামঃ “কাশীলাভ মুক্তি ভবন”
হিন্দু শাস্ত্রে
বলা আছে, জীবনের শেষ নিঃশ্বাস কাশী(বারানসী)তে ত্যাগ করলে নাকি মোক্ষ লাভ হয়। অনেকেই
তাই জীবনের শেষ প্রান্তে মোক্ষলাভের মোহে এই কাশীতে এসে থাকেন। এদের জন্যই বিখ্যাত
তিনটে গেস্ট হাউসের একটা হল - “কাশীলাভ মুক্তি ভবন। আর দুটোর নাম যথাক্রমে মুমুক্ষু
ভবন ও গঙ্গালাভ ভবন।
এই “কাশীলাভ মুক্তি
ভবন” এ ৪৪ বছর ধরে ম্যানেজার হয়ে আছেন শ্রী ভৈরব নাথ শুক্লা। তার কথায় – এখানে ধনি-দরিদ্র
সকল শ্রেণীর মানুষ আসেন শেষ বয়সে শান্তি লাভের আশায়। গেস্ট হাউসে থাকতে থাকতে তারা
মৃত্যুর দিন গোনে। শুক্লাজী এখানে থেকে উনি এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার মৃত্যু দেখেছেন
এবং এর মধ্যে দিয়ে তিনি শিখেছেন জীবন যাপনের ১২টি মূলমন্ত্র। তার কথা অনুযায়ী সেইগুলিকে
বর্ণনা করার চেষ্টা করছি।
১) দেহত্যাগের
আগে সব রকমের মতবিরোধ থেকে নিজেকে মুক্ত করা আবশ্যক!
রাম সাগর মিশ্র,
একজন সংস্কৃত পণ্ডিত, থাকতে এসেছিলেন এই কাশীলাভ মুক্তি ভবনে। আগে থেকেই ৩ নম্বর ঘরটা
তিনি বুক করে রেখেছিলেন। এখানে থাকতে এসেছিলেন শুধু তার পানের কৌটোটা নিয়ে। ছয় ভাইয়ের
মধ্যে তিনিই ছিলেন জ্যেষ্ঠ। সর্বকনিষ্ঠ ভাইটি তার সবথেকে প্রিয় ছিল। কিন্তু বহু বছর
আগে এক সাংসারিক বচসার কারনে দুই ভাইয়ের মধ্যে কোনও সম্পর্ক আর নেই। মিশ্রজী বুঝতে
পেরেছিলেন, ১৬ দিনের মাথায় তিনি চলে যাবেন।
১৪ দিনের দিন, তিনি শুক্লাজীকে অনুরোধ করেন তার ছোটভাইকে খবর দিতে, তার সঙ্গে যেন দেখা
করতে আসে। তিনি জানান, এই বিদ্বেষের বোঝা তিনি আর টানতে পারছেন না। ১৬ দিনের দিন সেই
ছোট ভাই আসে, দুই ভাই হাত ধরে কাঁদতে থাকে। কেউ কোনও কথা বলে না। হঠাত দেখা যায়, মিশ্রজী
স্থির, মুখে শান্তির হাসি।
শুক্লাজী জানিয়েছেন,
এইরকম ঘটনা এখানে প্রায়শই ঘটে থাকে। মানুষ সারা জীবন ধরে অনেক বোঝা বয়ে চলে, অনর্থক।
এই বয়ে যাওয়াতে কোনও লাভ নেই, ফেলে দিয়ে হাল্কা হলেই মুক্তি। এটাই সত্য।
২) সাধারণ
হয়ে থাকাই আসলে অসাধারণ!
সারাজীবন ধরে মানুষ
রকমারি উপায়ে জীবন চালনা করে। কিন্তু শেষ বয়সে এসে দেখা যায় – এই জীবনই বাধ্য করে সাধারণ
যাপনকে আলিঙ্গন করতে। সারা জীবনের রকমারি খাবার বাদ পরে যায়, ঘরের চার দেওয়ালেই বিশ্ব
খুঁজতে হয়, সম্পর্ক নিয়ে উদাসীনতা তো সবথেকে একা করে দেয়। সময় থাকতে যেগুলো বা যাদের
সবচেয়ে বেশি দাম দিতে হত, তা, হয় না বলেই, শেষ সময়টা হিসেব বুঝিয়ে দেয়।
৩) “মন্দ-বাসা”
মারাত্মক – ত্যাগ করা বাঞ্ছনীয়!
ভালো-খারাপ নিয়েই
আমরা, প্রতিটা মানুষ তৈরি। আমরা সাধারণত সর্বদা অতীব তৎপর হয়ে থাকি অন্যের ভুল শোধরানর
জন্য। এই তৎপরতাই সকলের মন্দগুলোকেই চোখের সামনে এনে দেয় অবিরত। কিছু মানুষের প্রতি
মনের মধ্যে জমে থাকা ঘৃণা, বিদ্বেষ, রাগ আসলে সেই মন্দগুলো দেখার কারনেই ঘটে থাকে।
কিন্তু, আমরা যদি সেইসব মানুষগুলোর ভালো দিকটাকেও নজর করতে পারতাম – তাহলে হয়তো তাদের
আরও ভালো করে চিনতে পারতাম – ভালোবাসাও যেত।
শেষ বয়সে তাই দেখা যায় মানুষ অগ্রাহ্য করতে বেশি পারে, খারাপ লাগাকে কম করতে
পারে। এতদিনের পর বোঝা যায় আসলে কত রকমের বোঝা টেনে টেনে নিজেকে দুরবল করে ফেলা হয়েছে।
৪) অপরের থেকে
সাহায্য চাওয়ার মানসিকতা ইতিবাচক, দুর্বলতা নয়।
নিজে সবকিছু করা
বা করতে পারাটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু এটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্যদের থেকে দূরে
সরিয়ে দেয়, অন্যরা কি করছে বা শিখছে…সেইখানটা অধরা রয়ে যায়। শুক্লাজী জানালেন, আমাদের
নিশ্চয়ই অপরকে সাহায্য করা উচিৎ সবসময়, কিন্তু নিজের প্রয়োজনে অপরের কাছে সাহায্যের
হাত পাতলে, কখনোই ছোটো হয়ে যায় না কেউই।
এই নিয়ে শুক্লাজী
একটা গল্প শুনিয়েছেন।
‘৮০র দশকে এক বৃষ্টির
রাতে একজন বৃদ্ধাকে তার বাড়ির লোকজন এই গেস্ট হাউসে রেখে যায়। দেখা যায়, তার অ্যাডমিশান
ফর্মটি ফিলাপ করা হয় নি। কিছুক্ষন পরে পুলিশ আসে সেই গেস্ট হাউসে। জানা যায়, বৃদ্ধার
আত্মীয়রা নকশাল এবং ফেরার আসামী। শুক্লাজী চুপ থাকেন, কিছু বলেন না পুলিশদের। সকালে
যখন সেই বৃদ্ধার আত্মীয়রা আবার আসে, তখন শুক্লাজী তাদের জিজ্ঞেস করে – তারা তো অনায়াসে
মানুষ মারতে পারে, তাহলে নিজের দিদিমাকে এখানে কেন মরার জন্য ফেলে রেখে গেছে, তাকেও
তো তারা গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। তারা হাঁটু মুড়ে আর্তি জানায়, তারা কেউই সক্ষম নয়
তাদের দিদিমার শেষ ইচ্ছা পুরনের জন্য। দিদিমা শান্তিতে মরতে চেয়েছে তাদের কাছে, তাই
তারা এইখানে দিদিমাকে রাখতে চায়।
৫) সহজ ভাবে
বাঁচুন, সাধারনের মধ্যে সৌন্দর্য খুঁজে নিন।
দিনে ৩বার নিয়ম করে
মুক্তিভবনে ভক্তিগীতি হয়ে থাকে। দেখা যায়, অনেকে যেমন উপভোগ করে, তেমনি, অনেকে ভুলত্রুটি
খুঁজে বেড়ায়। কেউ কেউ গায়ককে একটা অংশ বার বার গাইতে বলে, আবার কেউ কেউ আনন্দ করতে
ভুলে যায় সব কিছুকে নিখুঁত বানাতে গিয়ে।
প্রশংশা করতে পারা
একটা ভীষণ দামী গুণ। সকলে স্বীকৃতি দিতে পারে না।
৬) গ্রহন করার
ক্ষমতাই মুক্তির পথপ্রদর্শক!
অনুযোগ – অভিযোগ
এখন রোজকারের অঙ্গ। আমাদের সঙ্গে যা হচ্ছে, কিছুতেই আমাদের তৃপ্তি নেই। একটা অলীক ভালো
কিছুর পেছনে আমরা দৌড়ে চলেছি। নিজেদের কাছেই স্পষ্ট নয় আমরা সত্যিই কি চাই জীবনে। প্রতিনিয়তঃ
যে আক্ষেপ নিয়ে আমরা বসবাস করছি, সেটাই যে আমাদের যাবতীয় ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়াচ্ছে,
আমাদের শরীর ও মনের উপর অযথা চাপের সৃষ্টি করে চলেছে – সেটা যদি একটু বুঝতে পারতাম
তবেই বোধ হত যে গ্রহণযোগ্যতা জীবনে কি যাদুকরী প্রভাব ফেলে। সত্যর প্রতি উদাসীনতা,
তাকে অস্বীকার করা, বা পরিহার করা, আমাদের
জীবনে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। বদলে, যা ঘটছে, তাকে গ্রহন করলেই কিন্তু অবস্থাকে আয়ত্তে
আনা যায় সহজেই। গ্রহণযোগ্যতা মুক্ত করে, শক্তিশালী করে।
৭) সকলকে সমান
চোখে দেখার ক্ষমতা সবকিছুর সরলীকরণ ঘটায়!
শুক্লাজী জানালেন,
এই কাশীলাভ মুক্তি ভবনে কেউই স্পেশাল নয় যেমন, তেমনি, ধনী দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে
সকলেই স্পেশাল। সকলের জন্যই এক রকমের ব্যবস্থা। শেষ জীবনে মানুষ বুঝতে পারে, ভেদাভেদ
শুধু সমস্যা বাড়ায়। সবাইকে সমান ভাবে দেখলে, দুশ্চিন্তা কমে; বিশ্বাস করা সহজ হয়। বেঁচে
থাকা যায় শান্তিতে।
৮) যদি জীবনের
উদ্দেশ্য বোঝা যায়, সেই পথেই অগ্রসর হতে হয়।
আমরা প্রায় সকলেই
জানি, কি করতে হয়, কি করা উচিৎ। কিন্তু দেখা যায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই – আজ করব, কাল
করব ভেবে ভেবে সময় পেরিয়ে যায় অথবা কি হবে করে- এই ঊদাসীন্য শেষ জীবনে এক্রাশ অনুশোচনার
পাহাড় তৈরি করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, আমরা সময়ের কাজ সময় থাকতে করি না। সময় চলে গেলে,
কপাল চাপড়ানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। তাই, জীবনে সত্যি কি প্রয়োজন, সেটা উপলব্ধি
করা খুব জরুরি এবং সাথে, প্রয়োজনকে পাওয়ার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া ও সফল হওয়াটাও
অর্থবহ। সৎ প্রচেষ্টা সর্বদা ফলপ্রসূ হয়ে থাকে।
৯) অভ্যাসই মূল্য
পায়!
সু-অভ্যাস জীবন বদলে
দিতে পারে। সু-অভ্যাস গঠন যেমন এক দিনে হয় না, অনুশীলন লাগে, তেমনি অভ্যেস বদলও সম্ভব
ওই একইরকম ভাবে ; অনুশীলনের মাধ্যমে। জীবন শেখায়। আমাদের জীবনে সেরকম সমস্যাই আসে,
যেগুলো আমরাই সমাধান করতে পারি। এই অভিযোগ বিহীন সমাধান সন্ধানী মানসিকতাও একটা সু-অভ্যাসই
বটে।কৃতজ্ঞতা বোধ, দয়াশীল হওয়া বা সততা - সু-অভ্যাসের উদাহরন।
১০) নিজে যা
চাও – সেটাই চয়ন কর!
সারা বিশ্ব জুরে
রাশি রাশি জ্ঞান আহরণের অসীম সুযোগ সবার। আজকার তো হাতের মুঠোয় দুনিয়া। আর তাই জন্যই
এই বিশাল জ্ঞানসাগরে আমরা হারিয়ে যাই, বিভ্রান্ত হয়ে পরি। এই থেকে পরিত্রানের চাবিকাঠি
হল – মুহূর্তে বাঁচা, প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকা, কি ভাবনা আসছে মনে, কি রকম বোধ করছি
আমি; এক কথায় “মাইন্ডফুল” হওয়া।
শুক্লাজী বলেছিলেন,
এইখানে মানুষ যখন আর কথা বলতে পারে না, চলতে পারে না, ভাবের আদান প্রদান করতে পারে
না – তখন তারা তাদের ভেতর হাতড়ায় – মনের কোনায় পরে থাকা পুরনো সব ভালো লাগার মুহূর্তগুলোকে
খুঁজে বেড়ায়। তখন তারা নিশ্চয়ই ভাবে, সময় থাকতে সেই মুহূর্তগুলোকে মর্যাদা দিলে কত
ভালই যে না হত!
১১) মানুষের
সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন নয় – বরং তাদের দ্বারা তৈরি হওয়া ভাবনাগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন
করুন।
যে মানুষগুলোর থেকে
আমরা দূরে চলে যেতে চাই, তাদের চিন্তা আমাদের পিছু করতেই থাকে। সামান্যতম অনুরুপ কোনও
ঘটনা সেই অনেকদিনের ভুলে যাওয়া ব্যক্তিকে সামনে এনে দেয় নিমেষে। এটা তো বাঞ্ছনীয় নয়।
আমরা কি সত্যি এটা চাই? এর থেকে মুক্তি পাওয়ার সবথেকে সহজ উপায়, সেইসব মানুষগুলোর জন্য
/ সেইসব মানুষগুলোর সঙ্গে তৈরি হওয়া ভাবনাগুলোকেই জলাঞ্জলি দেওয়া। হ্যা, কাজটা কঠিন
কিন্তু অসম্ভব নয়। এই প্রক্রিয়া আমাদের প্রতিশোধ স্পৃহাকে খর্ব করে, আমাদের হাল্কা
করে। নিজেদের ভালো রাখায়।
১২) সারাজীবনের
রোজগারের ১০ শতাংশ ধর্মের কাজে উৎসর্গ করা উচিৎ!
শুক্লাজী এখানে ধর্ম
বলতে কোনও আধাত্মিক বা ধর্মীয় কাজ বলেন নি। তিনি বলতে চেয়েছেন, মানুষের ভালো হয়, এমন
কোনও কাজের জন্য সারাজীবনের রোজগারের ১০ শতাংশ দান করা উচিৎ। অচেনা মানুষের আশীর্বাদের
শক্তি অনন্য।
শুক্লাজীর কথাগুলো
যে কতটা সত্যি, সেটা Stephen Covey তার লেখা “7 habits of highly effective
people” বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। উনি বলেছেন –
“Everything is created twice – one in your mind and then in reality”.
ভেবে দেখবেন, মাটির কুঁজো দেখে কেউ না
কেউ তো ভেবেছিল জল যদি যেখানে সেখানে খেতে হয়, কি ভাবে খাওয়া যাবে, তাই জন্যই জলের
বোতল আজ আমাদের হাতে, এরোপ্লেনের কথাই ভাবুন না….
যদি আমরা নিজেদের জন্য একটা অনন্যসাধারণ
জীবন create করতে চাই, তাহলে সবথেকে ভালো পদ্ধতি হল, সেই জীবন কেমন হবে, সেটাকে মনের
খাতায় এঁকে ফেলা।
Covey মনে মনে কল্পনা করতে বলেছেন
– ভাবুন, আপনি শ্মশানে আছে। দেখুন সেখানে আপনার চারপাশে কারা কারা রয়েছে, দেখার
চেষ্টা করুন চারদিকে কি ঘটে চলেছে, চেক করুন আপনার সাথের মানুষদের আবেগ ও এনার্জি around
the scene. হঠাত আপনি বুঝতে পারলেন, এইটা আপনারই শবদেহ, আপনাকেই দাহ করতে নিয়ে আসা
হয়েছে …..
বুম!!
তাহলে, কি হল ব্যাপারটা?
আপনার প্রিয়জনেরা, আপনার বন্ধুরা, সহকর্মীরা
– বা পাড়ার মুদির দোকানের লোকটা বা পাশের বাড়ির সবাই - কি বলছিল আপনার জন্য? মনে পরছে?
আচ্ছা, এরা সবাই কি বললে আপনার ভালো
লাগবে?
মানে ধরুন - you were very kind,
gentle, patient, loyal, generous, helpful, friendly and inspiring … এইসব আর কি।
দুরন্ত ব্যাপার, তাই না?
দেখছেন, কেউ কিন্তু বলবে না (বা আপনিও
শুনতে চাইবেন না) যে, আপনি কত বড় বাড়ির মালিক ছিলেন, কত দামী গাড়ি ছিল আপনার, আপনার
অনেক ব্যাঙ্কব্যালেন্স ইত্যাদি ইত্যাদি..
সুতরাং, জীবনই আমাদের শিখিয়ে দেয় জীবনের
আসল মুল্য, জীবন যাপনে কোথায় ফোকাস করলে সেই অনন্যসাধারণ জীবন বাঁচতে পারা যায়।
তাহলে, আজই শুরু করা হোক – শেষ থেকে।
কি মশাই, চান না কি এমন জীবন? নিশচই
চান।
তো, সিম্পল। চাইলেই হবে, তাই চাইতে হবে।

Comments
Post a Comment