Skip to main content

Posts

উপলব্ধি (প্রথম পর্ব)

  ট্রেনটা চলছে, জানলার ধারে বসে বসে দেখছি গাছ, মাঠ, গরু, পাখী, মানুষগুলো সব দৌড়চ্ছে, আমায় কেউ ধরতে পারছে না .... সব্বাইকে ছেড়ে আমি চললাম। সত্যি তো, সব ছেড়েই তো যাচ্ছি আমি.... এক নতুনের উদ্দেশ্যে! একদম আনকোরা এক জীবন; অনেক এনার্জি লাগবে.... যা হয় ভালোর জন্যই হয়! একটা চোরা দীর্ঘশ্বাস পড়ল কি? না না ... এই নিঃশ্বাসটা আত্মবিশ্বাসের। কোমর অব্দি লম্বা চুলকে কাটার সময় বুকটা হু হু করছিল; বদলে যাবার শুরুটা এভাবেই হয়েছিল। ইনভল্ভমেন্ট, অ্যাটাচমেন্ট – প্রায় একমাস লেগেছিল লিস্ট বানাতে। শেষে দেখা গেল, তালিকাটি বৃহদাকার; খাতা জোড়া । ঘরের মধ্যে গুমরে গুমরে অনেক সময় নষ্ট করে, সোশ্যাল মিডিয়ার সব অ্যাকাউন্টগুলোকে ডিলিট করে, ফোনের পুরনো সিমকে জলাহুতি দিয়ে-নতুন নম্বর নিয়ে (যে নম্বর শুধু খানকতক মানুষই জানে), পুরনো মেইল আইডি হত্যা করে, এক নতুন শুরুকে আহ্বান জানিয়েছি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সাথে দিনের পর দিন কথা বলেছি, ভালবাসতে পেরেছি নিজেকে, বিশ্বাস করতে পেরেছি নিজেকে, নিজের উপর আবার নতুন করে ভরসা করার ক্ষমতা ফিরে পেয়েছি; তাই তো এই নতুন শুরু! না,আমি পালিয়ে যাচ্ছি না। এতদিনে নিজেকে খুঁজে পেয়েছি; নিজের...

মা হওয়া কি মুখের কথা!

  একটা ঢাঊশ পেট সমেত ৯২ কেজি ওজনের (আওয়াজ আসত , ৮ হলেই ১০০) একজন নার্সিংহোমে ভর্তি হল; রোজ সে ভাবে পেট থেকে কিছু একটা বেরোবে, কিন্তু বেরোয় না। বৃদ্ধা ডাক্তারণী বড্ড কড়া, পেইন না উঠলে..... শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চলবে নরম্যাল ডেলিভারির। তারপর, পাঁচদিন পর সোমবার সকাল থেকে দেখা গেল, পেটের মধ্যে সব কেমন চুপচাপ। এবার ডাক্তারণী বললেন পেট কাটার কথা। প্যাঁক প্যাঁক করে ইঞ্জেকশান চলল; অনেক কিছু পরপর হল; বিকেল বেলা অপারেশান থিয়েটারে হাল্কা কথা কানে এলঃ “ছেলে হয়েছে”! তারপর কিছু মনে নেই। সন্ধ্যের দিকে ছেলের বাবা মাথায় হাত বুলিয়ে কানে কানে জানাল-‘আমাদের ছেলে হয়েছে, একমাথা চুল’। (এই একমাথা চুলের একটা কেস আছে, মা টি মোটেই শাক-সব্জি খেত না, শাশুড়ি বলতেন, শাক না খেলে বাচ্চার চুল হয় না ) সেদিন রাতে যখন তাকে আমার পাশে শোওয়ানো হল, ছোট্ট মুখে প্রথমেই একজোড়া পাতলা ঠোঁট দেখেছিলাম, খুব ভাললাগছিল ভাবতে যে এত্ত সুন্দর একটা মানুষ আমার পেটুর মধ্যে এতদিন ছিল! আরও একটা গর্বের বিষয়, যে ডাক্তারণী আমাকে আমার মায়ের পেট থেকে বের করেছিলেন, সেই ডাক্তারণী আমার পেট থেকে আমার ছেলেকেও বের করেছেন!!! মজাটা হল পরের দিন সকালে। ভি...

অবশেষ

  এখন 'মনে পড়ছে' কথাটা মানে হারিয়েছে। এখন, মন পুড়ছে; স্মৃতি জ্বলছে, বিদায় কি সতত বেদনার?

নেশা

শাওয়ারের জলে গা ভেজাতে ভেজাতে মনটা হঠাৎ চিন্তাটা আসে, মনটা ছ্যাঁত করে ওঠে ব্রতীনের; এমনটা কি হওয়া সম্ভব? মনে মনে ঠিক করে, আজ একবার পরীক্ষা করে দেখবে….. নিজের ভেতর অসম্ভব এক আত্মগ্লানি অনুভব করল, জলের মধ্যে থেকেও সেই অনুভুতি ভেসে গেল না….ব্রতীন, ডালহৌসির সরকারি অফিসের এক পদস্থ অফিসার; বাবা মারা যাবার পর তার চাকরিটাই পেয়েছে। কম বয়সে সংসারের ভার নেবার ফলে, বিয়েটা করা হয় নি। ছোট ভাই “অহি” কে সে নিজের ছেলের মতন মানুষ করেছে, সে নিজে যা যা করতে পারে নি…. সব ভাইএর জন্য করেছে; অহিকে কখনও কোনও অভাব বোধ হতে দেয় নি। অহি নিজেও দাদাকে ভগবানের মতন শ্রদ্ধা করে। পরমার বাবা-মার অব্রাহ্মণ অহির সাথে বিয়েতে আপত্তি ছিল, কিন্তু ব্রতীনের সাথে আলাপ হবার পর, নির্দ্বিধায় বিয়েটি মেনে নেন। পাড়া-প্রতিবেশির থেকেও তারা জেনেছিলেন দু ভাইএর রাম-ভরতের মতন সম্পর্কের কথা। পরমাও এই বাড়ি এসে ভাসুর নয়, এক দাদা পেয়েছে। তুতাম আসার পর ব্রতীনের সংসারটা যেন একটা পরিপূর্ণ রূপ পেয়েছে। অহি প্রথম যেদিন পরমার সাথে আলাপ করালো, পরমাকে দেখেই মায়ের মুখখানা মনে পরেছিল তার।মেয়েটা সত্যি দু ভাইএর বাড়িটাকে ‘ঘর’ বানিয়ে ফেলেছে। আর এখন তো ত...

28th April, 2018

  আজ আবার এক ২৮শে এপ্রিল , ৬ বছর হয়ে গেল ......... বাবা অফিস যেত ৫নং বা ১নং ট্রামে চড়ে, আমি আমাদের ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতাম, বাবাকে দেখতাম ট্রামে চড়া অব্দি। এরকম বহুদিন হয়েছে, টা টা করতে গিয়ে বাবাকে বলেছি, ‘তুমি অফিস যেও না’, আর বাবা ট্রামে না চড়ে বাড়ি ফিরে এসেছে। সারাদিন বিছানায় শুয়ে শুয়ে আমায় গল্পের বই থেকে গল্প শুনিয়েছে। বাবার হাতে শোয়া, বাবাকে জড়িয়ে শোয়া – বাবার আমার মাথার চুলে হাত বুলিয়ে দেওয়া, শিস দিতে দিতে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া, পা টিপে দেওয়া, আঙ্গুল টেনে দেওয়া....... এখন আবার সেই ছোট্ট হয়ে যেতে ইচ্ছে করে।টাইম মেশিন কি সত্যি বানানো যায় না? শ্যামবাজার বাড়ির ছাদে ঘুড়ি ওড়ান হত, বাবা, কাকুম, কাকা সব্বাই মিলে ওড়াত। সামনের বাড়ি, পাশের বাড়ি থেকে সব্বাই ওড়াত, কি মজা হত।আকাশ ভর্তি ঘুড়ি, নিজেদের ঘুড়িগুলো মাঝে মাঝেই নজরের বাইরে চলে যেত, বাবা দেখাত – ‘ওই তো, দ্যাখ’; দেখতে না পেলেও হ্যাঁ বলেছি; কারন বাবা বলেছে। ঝাড়গ্রামের সেবায়তন হস্টেলে বাবার দস্যিপনার গল্প শুনতাম দুপুর বেলায়, ঠাম্মার পাশে শুয়ে। রোজ রোজ প্রায় একই গল্প। কাকুম বলেছিল, বাবাকে কি ভাবে সিগারেট ধরিয়েছিল। আর কাকা তো নিজেই একজন ...

স্বীকৃতি

ফোনটা হাতে নিয়ে কন্ট্যাক্টলিস্টে শুধু একটা নামকে দেখেই সময় কাটে অমিতের। মানে যখন খুব একা লাগে, ও দেখেছে, নামটা দেখলেই ওর বেশ একটা ভাললাগতে শুরু করে। মাঝে মাঝে এরমটাও হয়েছে, নামটা দেখছে…আর ঐ নামটা থেকেই ফোন এসেছে। ফোনটা বেজে যায়…. হ্যাঁ, বেজে যায়, অমিত ফোনটা ধরে না …. চোখের সামনে বাজতে বাজতে ফোনটা থেমে যায়; অমিত বিধাতাকে ধন্যবাদ জানায়; ফোনটা আসে ….মাসে একবার, দুমাসে একবার, তিনমাসে একবার। আসে, বেজে যায়। কিন্তু আসবেই। সে এখনো মনে রাখে তাকে, ভোলে নি। অমিত জানে, ভুলবেও না। ************************************************ সবাই এসে গেছে, ঐ হতচ্ছাড়া গৌরবটার কোনও পাত্তা নেই। কি অসহ্য একটা রিংটোন রেখেছে … ফোন করলেই “ও টুনির মা” গানটা বাজে, উফ! বয়স যে বাড়ছে, তার কোনও বোধ আছে? ছেলে এদিকে উচ্চমাধ্যমিক দিতে চলল। ওকে ছাড়া ঠিক জমছেই না আড্ডাটা। কত চেষ্টার পর এই গেটটুগেদারটা অ্যারেন্জ করা গেছে, আর যে করল, তারই পাত্তা নেই। ডরথি আবার ফোন লাগাল গৌরবকে। রাত ন’টা, সবার পেটে অলরেডি দু পেগ পড়ে গেছে, এরপর তো সেই তাড়াহুড়ো লাগবে বাড়ি ফেরার জন্য। ডরথিকে বাড়ি পৌঁছে দেবার দায়িত্বটাও সেই নিয়েছে…. -কোথায় তুই...

ম্যাজিক

  গোল গোলচে আটখানা বল কক্ষপথে ঘোরে, মস্ত জ্বলন্ত বলটা আছে মাঝখানটা জুরে। সবার মধ্যে তিন নম্বর বলটা ভারি স্পেশাল, তিন ভাগ জল, এক ভাগ স্হল, সাবাশ ভবের খেয়াল। আগুনগোলার সাথে তার দুরত্বটাও খাসা, চমক! চারদিক ঘেরা বায়ুমন্ডলের বাসা। প্রাণধারণের উপকরণ মজুত রাখা আছে, অন্তহীন অক্সিজেন যোগায় সবুজ গাছে। অবাক করা ইন্জিনিয়ারিং ; জুরি মেলা ভার, এসব দেখে ভাবতে পারছ, কত সুখ তোমার! পাওয়া-না পাওয়ার হিসেবটা এবার শুরু করার আগে, এসব একবার ভেবে দেখো তো; গায়ে কাঁটা কি জাগে? আরো বলি, যতই পাত্তা না দাও, স্বীকার করতেই হবে, সব্বার উপর পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ রবে। নিঃশ্বাস নিতে পারছ, এবং তাইতো তুমি ধনী, এই আছে, এই প্রাণ চলে যায়, মুহুর্তের ছিনিমিনি। তাই চলো, এই ম্যাজিক গুলো মনে রেখে ভালো থাকি, কবিতা দিবসে সব্বার কাছে এই আর্জি রাখি।