Skip to main content

Posts

এক ছিঃস্যকর হাস্যকর মা এর কথা

  আজ্ঞে হ্যাঁ! এই আমার পরিচয়; আমার একমাত্র পুত্র এইভাবেই আমায় সম্বোধন করে থাকে। যখন বলেছি - ভুঁড়িটা বাড়ছে, এরপর বান্ধবীর সাথে টেকনিক্যালি অসুবিধা হবে, বা, যখন বলি, আমি রেগে গেছি – যা তা বলতে পারি, কিছু মনে করা চলবে না, কারণ আমার পিরিয়ড হয়েছে......বা ক্লাস নাইনে যখন বলেছিলাম রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেমটা আমিই তোকে পড়াব; “ছিঃস্যকর” তকমাটা এইসবের জন্য। আর, জন্ম থেকেই না কি সে একজন হাস্যকর বাচ্চা মা কে দেখে আসছে। গতকাল পেট ব্যথায় কাবু ছিলাম; বলে দিল – আমার বেরোবার সময় আসছে, এইটা নরম্যাল। জাস্ট সি!! সেভাবে, সকলের মতন, ‘মা’ হতে পারি নি – ঠিকমতন সময় করে পড়াতে বসাতে পারি নি, কোনও দিনই স্কুলের হোমওয়ার্ক নিয়ে চিন্তা করি নি। স্কুলের সব টিচারকেই চিনতাম না। মনে আছে, তাতান বোধয় তখন ক্লাস ফাইভ। টিচার ডেকে বলল, ও ক্লাসে কিছুই লেখে না, বাড়িতে আরও যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। আমি সে মহিলাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম –আমার ছেলের মতন কতজন ক্লাসে আছে? উত্তর ছিল। একজনও না। তাই ওনাকে বলেছিলাম – তাহলে, আমার ছেলের উপর স্কুলেই একটু বেশি যত্ন নেওয়া হোক। ফলস্বরুপ, এরপর আমাকে আর কখনও স্কুলে ডাকা হয় নি। আমি পারি নি – পারি না ছেলেকে সে...

28th April, 2019

  আজ পেরলো সাতটা বছর, সামনে তুমি নেই, খানিকটা বদলেছে,আর.... বাকি যে কে সেই। আজও রাতে ঘুমোই আমরা, সকাল হলে উঠি, চলন-বলন নিয়ম মতন, চলছে ছোটাছুটি। শুধু বদলে গেছে তোমার মাতু, তোমার বুয়া-বুড়ি, ছোট্ট বুতান আজ বারো-ক্লাস ছবিয়াল আহামরি। অনেকবার চুল কাটতে বলতে মা’কে তুমি। তোমার মাতুর আজ ছোট চুল, সবাই দেখে বলছে ‘ভেরি কুল’ শুধু দেখতে পেলে না তুমি। বুয়া এখন ডুইং ভেরি ওয়েল, নিজের যোগ্যতাতে, জানি, ভারি খুশি হতে তুমি যদি দেখতে পেতে.... বেরোবার সময় চশমা, ফোন, খুচরো পয়সার খবর... তোমার মতন এখন কে নেয় জানলে হাসবে জবর, তাতান আস্তে আস্তে যেন হচ্ছে তোমারই মতন, খুব বকুনি খাই আমি, ফিরতে রাত হয় যখন। এবার বলি আমার কথা, কেমন আছি আমি..... তোমায় হারিয়ে জানতে পেরেছি জীবন কত দামি। আঁকড়ে ধরা ছাড়ছি ক্রমে, সাথে অনেক কিছু, রাগ, অভিমান দুঃখগুলো যেসব টানে পিছু, নিজেকে চিনতে করেছি শুরু বাড়িয়ে ভরসা, হারাচ্ছি ভয়, গুমরে কান্না একদম নয়, ওয়ান্ডারফুল লাইফ এখন, সাথে হ্যাপিনেস ট্রু। তবু সবার হয়ে আমি বলছি তোমার বুড়ি, বাবা গো, আজও তোমাকে আমরা বড্ড মিস করি।

পাভলভে প্রাপ্তি

  ঋদ্ধ আমি, প্রানিত আমি পুরো ৩১শে অক্টোবর জুড়ে (এমনকি,পরের দিনেও) সবার কাছ থেকে যে পরিমান শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা পেয়েছি, মনে হচ্ছে আরও ১০০ জীবন কাটিয়ে দেওয়া যাবে। সত্যি, আমি যারপরনাই গর্বিত ।এই পরিমাণ প্রাপ্তির জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপনের যোগ্যতা অর্জন করতে অনেক অনেক অনেক সময় লাগবে। ভাবছি এখন, সবই তো নিয়েই যাচ্ছি, দিচ্ছি কি কিছু? দিতে পারছি কি কিছু? রমপমের সাথে সেদিন (৩১শে অক্টোবর) সকালে গিয়েছিলাম পাভলভ হাসপাতালে। আমি জানি না, আপনারা কেউ ওখানে কখনও গেছেন কি না..... ক্যাবে আমি আর রমপম কথা বলছিলাম, মানুষ নিয়ে, জীবন নিয়ে, আমাদের অজানা জগতের পরিমাণ নিয়ে, আমাদের কত কিছু করতে না পারা নিয়ে, কত কিছু করতে পারা যায় নিয়ে। এই যে স্কুলের ছেলে মেয়েরা গ্রামের ছবি আঁকে, মাছরাঙা আঁকে .....বেশির ভাগেরই জীবনে একবারও গ্রামে যাওয়া হয় না, মাছরাঙা দেখা হয় না। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই চলে আসছে। আমি নিজেও পাহাড় এঁকেছিলাম যখন, পাহাড় দেখি নি।আঁকা শিখতাম মাননীয় পূর্ণেন্দু পত্রীর কাছে, সিঙ্গারার মত তেকোনা পাহাড় এঁকে খয়েরী রঙ করাতে উনি বলেছিলেন, পাহাড়ের রঙ খয়েরী হয় না তো, পাহাড়ে হরেক রঙের মেলা বসে, নীল-লাল-সবুজ-...

নৌকো এবং ভ্যানিলা এসেন্স

  এইবার না একটা ভয়ঙ্কর কাজ করে ফেলেছি, আর সাকসেসফুলও হয়েছি !! শোনাই তবে গল্পটা । আমার মা-সুন্দরী মানুষটি যারপরনাই কষ্টসহিষ্ণু হলেও এক্কেবারেই অ্যাডভেঞ্চার বিমুখ। ভাইবোন , আত্মীয়-স্বজন ছাড়া অন্য কোনও কারনে বাড়ি থেকে বেরোতেই হাজারো বাহানা। তারপরে তো তার বাথরুমপ্রীতি রীতিমত সর্বজনবিদিত। এ হেন অবস্থায়, মা কে একরকম ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করে নিয়ে গিয়েছিলাম বকখালি। দশমীর দিন ভোর সাড়ে পাঁচটায় বাড়ি থেকে বেড়িয়ে ৭ টার নামখানা লোকাল। তিনঘণ্টা ট্রেনে যেতে হবে - নো বাথরুম ; এই ভয়টা কাটাবো কি ভাবে ভাবতে ভাবতে ট্রেনে চেপে পড়লাম এবং নামখানা তে নেমেও গেলাম। (তবে খুব মনে হচ্ছে, লোকাল ট্রেনগুলোতে বাথরুম থাকাটা বেশ জরুরি, বিশেষ করে যেখানে এই রকম ২ বা ৩ ঘণ্টা জার্নি করতে হয়। হয়তঃ একদিন হয়েও যাবে) এটা গেল প্রথম ধাপ। এর পর, নামখানা স্টেশনে নেমে চড়তে হল সাইকেল ভ্যান। মহিলার মুখটা দেখে সত্যি মায়া হচ্ছিল। গলা জড়িয়ে একটা চুমু খেয়ে বললাম, 'মা, তুমি পারবে'। উত্তর - 'পারব রে বাবা'। উঠে পড়লেন ভ্যানের পেছনে, আমার পাশে। এরপর নৌকা। মা কে বলিনি আগে। নড়বর করে তিনি উঠে পড়লেন নৌকায়, ধারের কাঠে বসিয়েও দেওয়া হল। ...

আমার বিশ্বকর্মা পুজো

  একটা কথা আছে না – “What you are seeking is seeking you” ... আজকের গপ্পোটা এই কথাটাকেই প্রমান করবে। সময়টা জুন মাস। নিজে সবসময় পজিটিভ থাকার চেষ্টা করি – এই সময়টায় আমার যে একটা গুরুতর পরীক্ষা চলছিল, সেটা এখন বুঝতে পারি। আপনারাই বিচার করবেন, পাশ করলাম কি না। তো যা বলছিলাম, সেই সময় এক বন্ধন থেকে মুক্তির চেষ্টা চলছিল, মনের ভেতর সারাক্ষণ উথাল-পাথাল। খালি নিজেকে বলতাম, - ‘All is well, I am safe , protected and guided”. নিজে যেটা চাইছি করতে, যেটা পারি করতে .... ঠিক করতে পারছিলাম না... এই সময়েই, একটা ফোন আসে হিতব্রতদার কাছ থেকে। একজন ভদ্রলোক দুঃস্থ ছাত্রীদের হেলথ- হাইজিন নিয়ে কাজ করতে চান, আমার সাথে কথা বলতে চান। যুক্ত হই ঋদ্ধির সাথে। প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, উত্তর কলকাতার মেয়েদের স্কুলগুলোয়, যেখানে দুঃস্থ ছাত্রীরা পড়তে আসে, তাদের হেলথ- হাইজিন রিলেটেড একটা সার্ভে সাথে মেধাবী ছাত্রী, যারা মাধ্যমিক পাশ করেছে, তাদের পড়াশুনার সাপোর্ট। কাজ শুরু করি। আমার টিমে আমি একাই সেপাই উত্তর কলকাতার মেয়েদের স্কুলের নাম যোগাড় করতেই বেশ বেগ পেলাম। তারপর জয় মা কেস। বেড়িয়ে পড়লাম হাতিবাগান চত্বরে। একটা স্কুল...

আমার গনেশ পুজো

  কেষ্টপুর – বৈশাখী ব্রিজের পাশে খালপাড় বরাবর শতরুপা পল্লী। ১২০ ঘর মানুষ আছে। সবথেকে বড় ব্যাপার, হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলেমিশে আছে।মহিলারা বেশির ভাগ বাড়ি বাড়ি কাজ করেন, পুরুষদের দোকান আছে, বা রিক্সা-গাড়ি চালায়। নিরক্ষর থেকে বি.এ পাশ সকলেই একসাথে আনন্দে থাকে। এই অঞ্চলের মহিলাদের তিনটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী আছে - বঙ্গশ্রী , জয়শ্রী আর লক্ষ্মীশ্রী । এদের সবাইকে নিয়ে আমরা বেরিয়েছিলাম ডেঙ্গু সচেতনতা প্রচারে।৫০কেজি ব্লিচিং পাউডার স্পন্সরের জন্য আবেদন করেছিলাম কাছের মানুষদের। মৌসুমিদি ( Mousumi Chakravorty ) দেবার জন্য একবারেই রাজি হয়ে যায়।অনেক ধন্যবাদ দিদি এভাবে পাশে থাকার জন্য। দুপুর ৩টে তে বালতি, গ্লাভস, ঝ্যাঁটা সহ জমায়েত হয় সকলে। তারপর শুরু হয় আমাদের অভিযান। নেতৃত্বে ছিলেন আমাদের সকলের প্রিয় ‘রাজা দা’ ( BandhuSundar Majhi )। সকলের অভিমত নিয়ে ঠিক হয়, এবার থেকে প্রতি মঙ্গলবার এই অঞ্চলে ব্লিচিং ছড়ানো হবে আর পল্লির মহিলাদের সাহায্য করবেন পল্লির পুরুষেরা। Sukhkarta Dukhharta Sukhkarta Dukhharta Varta Vighnachi || Nurvi Purvi Prem Krupa Jayachi || Sarvangi Sundar Uti Shendurachi || Kanti Jhalke Ma...

উপলব্ধি (প্রথম পর্ব)

  ট্রেনটা চলছে, জানলার ধারে বসে বসে দেখছি গাছ, মাঠ, গরু, পাখী, মানুষগুলো সব দৌড়চ্ছে, আমায় কেউ ধরতে পারছে না .... সব্বাইকে ছেড়ে আমি চললাম। সত্যি তো, সব ছেড়েই তো যাচ্ছি আমি.... এক নতুনের উদ্দেশ্যে! একদম আনকোরা এক জীবন; অনেক এনার্জি লাগবে.... যা হয় ভালোর জন্যই হয়! একটা চোরা দীর্ঘশ্বাস পড়ল কি? না না ... এই নিঃশ্বাসটা আত্মবিশ্বাসের। কোমর অব্দি লম্বা চুলকে কাটার সময় বুকটা হু হু করছিল; বদলে যাবার শুরুটা এভাবেই হয়েছিল। ইনভল্ভমেন্ট, অ্যাটাচমেন্ট – প্রায় একমাস লেগেছিল লিস্ট বানাতে। শেষে দেখা গেল, তালিকাটি বৃহদাকার; খাতা জোড়া । ঘরের মধ্যে গুমরে গুমরে অনেক সময় নষ্ট করে, সোশ্যাল মিডিয়ার সব অ্যাকাউন্টগুলোকে ডিলিট করে, ফোনের পুরনো সিমকে জলাহুতি দিয়ে-নতুন নম্বর নিয়ে (যে নম্বর শুধু খানকতক মানুষই জানে), পুরনো মেইল আইডি হত্যা করে, এক নতুন শুরুকে আহ্বান জানিয়েছি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সাথে দিনের পর দিন কথা বলেছি, ভালবাসতে পেরেছি নিজেকে, বিশ্বাস করতে পেরেছি নিজেকে, নিজের উপর আবার নতুন করে ভরসা করার ক্ষমতা ফিরে পেয়েছি; তাই তো এই নতুন শুরু! না,আমি পালিয়ে যাচ্ছি না। এতদিনে নিজেকে খুঁজে পেয়েছি; নিজের...