Skip to main content

Posts

International Tea Day 2021

  ইদানীং সব কিছুতেই একটু লেট করছি। খানিকটা ইচ্ছাকৃত। সময়ের বাঁধনটা তো নিজের মতন করে হাল্কা বা কষা করা যায়, সেই আহ্লাদ আর কি। তাই গতকাল বিশ্ব চা-দিবসের জন্য যা ভেবেছিলাম, সেটা আজ লিখছি। অ্যাকচুয়ালি, ঘটনাটা ঘটেছিল এই বছরের ২৯শে জানুয়ারি। কাজের সুত্রে হঠাত আলাপ চন্দনের সাথে। বুঝলাম, যোগাযোগটা আকস্মিক নয়, প্রিডেসটাইন্ড। লাইক মাইন্ডেড কানেকশান আর কি। জানলাম বিখ্যাত গ্রুপ ক্যালকাটা ফুডিস ক্লাবকে। বুঝলাম, গ্রুপটা আসলে কিছু এমন মানুষের সমষ্টি যারা সত্যি কাজ করছেন এবং আরও কাজ করতে চান সমাজ নিয়ে, সাহায্যের হাত বাড়াতে চান, যেখানে সত্যি দরকার। আমন্ত্রন পেলাম, কেস্টপুরের ভেতরের দিকে একটা স্পেশাল চাইল্ড হোমে যাওয়ার, যেখানে ক্যালকাটা ফুডিস ক্লাব সেই হোমের সদস্যদের সাথে কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করবে, এবং কি কি কাজ করতে পারা যায়, দেখা হবে। সেদিন যেতে পারি নি, পদস্খলনের শিকার হয়েছিলাম। তারপর, গ্রুপের কোর মেম্বারদের সাথে একদিন লম্বা কনকলের পর ঠিক হল সামনাসামনি কথা বলা হবে। সেই সুত্রেই সবাই জরো হয়েছিলাম, বৈশাখী ফুটব্রিজের কাছে সিল্কস্ট্রিম এক্সলুসিভ টি আউটলেটে। চা যে এত ধরনের হয়, আমরা যে ভাবে চা খাই, সে...

প্রাপ্তি স্বীকার _ ইন্দ্রানীদি

  Todd Henry তার “Die Empty” বইতে লিখেছিলেন যে, একটি বিশেষ বিজনেস মিটিঙে গিয়ে তিনি তার বইটি লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। মিটিঙে একজন ডিরেক্টর সমস্ত শ্রোতাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন – "Where is the richest land in the world?" কেউ কেউ বলেছিল - "Oil-rich Gulf states." আবার কেউ কেউ উত্তর দিয়েছিল - "Diamond mines in Africa." কিন্তু নাহ! উত্তরে ডাইরেক্টর যা বলেছিলেন, সেইটাই ছিল হেনরি সাহেবের বই লেখার অনুপ্রেরণা। উত্তরটা ছিল – “"No it is the cemetery. Yes, it is the richest land globally, because millions of people have departed/died and carried many valuable ideas that did not come to light nor benefit others. It is all in the cemetery where they are buried." ইন্দ্রাণীদি – আমার কাছে এক আইডিয়ার ভাণ্ডার। দিদিকে কাছে পেয়েছি বইবন্ধুর সাথে কাজ করতে গিয়ে। ছন্দকের আমন্ত্রণে বইবন্ধুর প্রথম মিটিঙে (সল্টলেক, কথোপকথন) গিয়ে নিজেকে খুব ঋদ্ধ মনে হচ্ছিল। এত গুণীজন সমাবেশে ভাগ নেওয়ার সুযোগ তো চট করে হয় না। সেদিনের পর Chhandak এর সুত্র ধরেই আলাপ Pijush এর সাথে, Atanu র...

অভিসার

  Image Courtesy: Ananya Mukherjee  সেই যে মেঘলা দিন বয়েছিল হিমেল হাওয়া, বহু প্রতীক্ষিত ক্ষণ গিয়েছিল হয়ে পাওয়া। এক ইথার তরঙ্গ জুড়ে দিয়েছিল দুই পথ ডাক পেয়েছিল সাড়া ছিল না কোনোও শপথ। তোমার হাতের তালু আমার কপাল চিবুক ঠোঁট ত্বক ভেদ করা পরশ জমিয়েছে বন্ধ চোখ। জানলা খোলা ভোর উদ্ধত ঝাউবন 'এ মুহুর্ত অমলিন হোক না' বলেছে মন। কাঠে আগুনের ধিকিধিকি ওড়ে অভিসারী এক ধোঁয়া দূরে থেকেও অনুভূত এক গভীর ওমের ছোঁয়া।

৮ই ফেব্রুয়ারি, 2021

  রোজ অফিস থেকে ফেরার পথে মাকে ফোন করতাম, কি কি আনতে হবে জানতাম; কোনও কোনোদিন মা মেসেজ করে দিত; সেদিন – ৩০শে ডিসেম্বর; সোমবার ছিল। মা বলেছিল বিস্কুট নিয়ে আসতে। অটো করে বৈশাখীতে নেমে হাঁটতে হাঁটতে কেষ্টপুর। এসেই মনে পরল, আজ তো সোমবার, বাড়ির পাশের দোকানটা বন্ধ। বাড়ি এলাম বিস্কুট না নিয়েই। এসেই তড়পাই – তাতানকে তো বলা যেত। সবসময় আমি কেন আনব। চিরকালের ম্যানেজ করা স্বভাব মায়ের। সকালে বিস্কুটটা নাতির চাইই চাই। নো প্রবলেম; চারতলার পুলকদা কে ফোন করে বলে দেওয়া হল, আসার সময় তার দোকান থেকে যেন এক প্যাকেট বিস্কুট নিয়ে আসে। আমি তো রাজরানী টাইপ। খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পরেছি। তখন প্রায় রাত সোয়া ১১টা; তাতানের চিৎকার – ‘বুয়া মা – কি হল?’; ধরমর করে উঠে দেখি, মা দরজার সামনে পরে আছে, হাতে বিস্কুটের প্যাকেট, দরজার পর্দা রডসহ খুলে পরে আছে। পুলকদা দাঁড়িয়ে। বেল বেজেছিল, তাতান আলস্যভরে দরজা খোলে নি। মা খুলতে গিয়ে, পায়ের স্টেপ গড়বর করে, পর্দা ধরে সাপোর্ট নিতে গিয়ে –ধপাস। হাত ভেঙ্গে গিয়েছিল বোঝা যাচ্ছিল। পরে এন আর এস-এ গিয়ে জানলাম, পায়ের ফিমার বোনও ফ্রাকচারড।অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এন আর এস থেকে ক্যালকাটা হার্ট ক্লি...

৪ঠা ফেব্রুয়ারি

  কাকা বলেছিল, শ্যামবাজারের মাঝের ঘরের জানলার পাশে বসে “শকুন্তলার পতিগৃহে যাত্রা” সামনে খুলে বসলেও দাদার চোখ থাকত কুলুঙ্গির পাশের দরজায়। মেম্মা জানিয়েছিল, কাকুম নাকি মেম্মাকে বলেছিল – ‘তোর দিদি আর আমার দাদা প্রেম করছে’; তারপর থেকে তো মেম্মা নাকি পত্রবাহিকার কাজ পেয়েছিল। তখনকার উত্তর কলকাতার বাড়িতে প্রতিঘরে ভাড়াটে থাকার সময় যখন ৯৭/১, বিধান সরণীর একঘরে যশোরের অমিয় মুখার্জী তার তিন ছেলে আর মেয়ে নিয়ে বসবাস করছিলেন, সেই সময় রাজশাহীর শ্যামাতোষ বাগচি এলেন তার তিন মেয়ে এবং এক ছেলে নিয়ে থাকতে। অমিয়বাবুর বিচ্ছু বড় ছেলের মনে ধরল শ্যামাতোষবাবুর নিরীহ, শান্ত বড় কন্যাকে। শুনেছি, পৈতের দিন সে ছেলে জেদ ধরেছিল, মাতুকে না দেখলে, সে পৈতেই নেবে না। তারপর তো, শ্যামাতোষবাবু, মৃত্যুশয্যায় নিজে তার অতি প্রিয় মাতুর হাত জহরের হাতে তুলে দিয়ে গিয়েছিলেন। ’৭৬ এর ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, সরস্বতী পুজো ছিল। মন্বন্তরের জন্য উৎসব পালনের বিধিনিষেধও ছিল হরেক রকম। হয়েছিল প্রবল বৃষ্টি আর মাতু-জহরের বিয়ে। একই বাড়িতে থাকার দরুন, মা বিয়ের বহুদিন আগে থেকেই মুখার্জী পরিবারের সকলের আপন হয়ে গিয়েছিল। তাইতো আমার পিসিরা কেউ আমার মা কে ব...

হাল্লা চলেছে যুদ্ধে!!

  শুন্ডির রাজা আজও অচেতন, হাল্লা চলেছে যুদ্ধে, আর আমরা ঘুমাই প্রতিক্রিয়ায়; স্বপক্ষে - বিরুদ্ধে। সকাল থেকে উঠে সারাদিন, তারপর সারারাত... কে কি ভাবছে, বলছে -করছে ভেবে যাই সাতপাঁচ। পুঁজি জমছে ব্যাঙ্কে আর সুগার-প্রেসার ঘরে; লাগামহীন অ্যাড্রিনালীন সর্বত্র ছিটকে পরে। মনখুলে আজ হাসতে গেলে ভরসা লাফিং ক্লাব, নিজেকে হারিয়ে ফেলার খেলায় মেতেছি আমরা সব। গুপী গাইন – বাঘা বাইন সিনেমা দেখে নি, এমন কেউ আছে কি? সিনেমার একটা গানের লাইন ‘হেডিং’ দিলাম লেখায় আর, শুরু করার সময় অনুরোধ রাখছি, আরেকটা গান মনে করার... “এক যে ছিল রাজা, তার ভারি দুখ”। এই গানটায় তিনটে প্রশ্ন করা হয়েছে– দুঃখ কীসে হয়, দুঃখ যাবে কি আর দুঃখ কীসে যায়। এবং উত্তরও দেওয়া হয়েছে (গানটা মনে করুন, নতুবা শুনে ফেলুন আরেকবার)। তো, আমি কেনই বা আজ এই কাজ করাচ্ছি আপনাদের দিয়ে, জানতে চাইবেন নিশ্চয়ই।   আরেকটা সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে মুল কথায় আসার চেষ্টা করছি। কয়েকবছর আগে আমির খানের একটা ছবি এসেছিল, অ্যাডাল্ট ফিল্ম – ‘তারে জমীন পর’, হয়তো দেখে থাকবেন। অ্যাডাল্ট বললাম, কারণ, আমি সর্বতঃ ভাবে বিশ্বাস করি, সিনেমাটির মাধ্যমে যে ম্য...

হ্যাপী থ্যাঙ্কস গিভিং ডে!!

  বরাবর বলে আসছি, মেনে আসছি (আর পেয়েও আসছি) আই অ্যাম সারাউন্ডেড বাই ওয়ান্ডারফুল পার্সন্স আর লাইফ ইস বিউটিফুল। তাই সক্কাল সক্কাল চোখ খুলেই মনে মনে লিস্টি ধরে থ্যাঙ্কিউ বলতে বলতেই দেখি রাতে শোবার সময় এসে গেল। সত্যি বলছি গো। এই থ্যাঙ্কিউ এর মধ্যে আমার হাত-পা-চোখ-কান-নাক থেকে শুরু করে ভোরবেলায় ময়লা নিতে আসা শ্যাম দা, কাগজ দিতে আসা অশোক দা, আমার ঘরবাড়ি ঝকঝকে করে রাখা ললিতা সহ একতলায় ঠাকুমার আয়ামাসী বা দূশো টাকার খুচরো দেওয়া রিক্সাওয়ালা......সবাই থাকে। এছাড়া, আমার কাছের মানুষের তো কমতি নেই, আমার বন্ধুরা, আমার অফিসের সবাই..... রোজ চেষ্টা করি লিস্ট বাড়াতে!!! থ্যাঙ্কিউ বলতে বলতে যে ম্যাজিকটা হয়েছে আমার সঙ্গে, তা হল; একটা বিশ্বাস মগজে ঘাঁটি গেঁড়ে বসেছে - আল ইস ওয়েল; যা হয় তা ভালোর জন্যই হয়। মা কে হারিয়েছি এই বছর - এর মধ্যে ভালো কি আছে যখন ভাবি, মনে হয় ; মা এই প্যান্ডামিক ফেস করল না। শেষ অব্দি মায়ের কাছে থাকতে পেরেছি। হয়তো এই ভাবনা অবান্তর, কিন্তু ভাবলে তো ভালো থাকা যায়। মা'র চলে যাওয়ায়, আরেকটা ভালো ব্যাপার হয়েছে আমার সাথে- জীবনের 'বাড়তি' গুলো চিনতে শিখছি। য...