Skip to main content

Posts

আপনার সময় না সময়ের আপনি?

  আপনার কাছে পূর্ণ স্বাধীনতার অর্থ কি? আপনি কি নিজেকে স্বাধীন মনে করেন? কতগুলি তথ্য দিই। মেডিক্যাল রিসার্চ অনুযায়ী ৩৫% থেকে ৫৫% রোগের আসল কারণ হল অ-সুখ, অর্থাৎ ভালো না থাকা, আনন্দে না থাকা। দুর্ভাগ্যবশতঃ আমরা সবাই ব্যস্ত নিজেদের জীবনে, ছুটে চলেছি- তাড়া করে যাচ্ছি এমন কিছু যার সঠিক হদিশ আমাদের নিজেদের কাছেই নেই। আমি আমার কাজের সুত্রে এমন অনেকজনকে পেয়েছি, যারা বলেছেন তাদের কাছে নিজেদের সময় দেওয়ার সময়ই নেই। আপনি কি এমন একজন? "Not having enough time" and "having little time left" mean two different things and give different feelings. আপনি যখন মনে করেন, আপনার হাতে যথেষ্ট সময় নেই, ছোটাছুটির বহর বেড়ে যায়। আপনি অনেককিছু একসাথে করে ফেলতে চান। কিন্তু যখন আপনি ভাবেন, আপনার সময় খুব কম, তখন? তখন কিন্তু সবথেকে জরুরি কাজগুলো করার কথা ভাবেন, তাই নয় কি? এবং তখন এই আপনিই এক সময়ে একটা কাজই ভালভাবে করতে চান। Your Time - Your Life! কাল কিসনে দেখা!! আমি মুহূর্তে বাঁচি, আমি বুঝি প্রতিটা মুহূর্তে আনন্দে থাকলে, আমি ভালো থাকি আর এই ভালো থাকতে পারাটাই তো স্বাধীনতা – তাই নয় কি? Time ...

এ ব্যথা কি যে ব্যথা

  আপনি কি জানেন আপনার স্ট্রেসের প্রধান কারণটা যা আপনার স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে অলরেডি? চলুন একটা পরীক্ষা করা যাক।  সামনে থাকা একটা খালি গ্লাস হাতে নিন। কি মনে হচ্ছে ? কত ওজন হবে গ্লাসটার?  আচ্ছা, এইবার গ্লাসটা রেখে দিন। ওজন কত, আমি কিন্তু গ্লাস না দেখেই বলে দিতে পারি। ম্যাজিক মনে হচ্ছে কি? আসলে, গ্লাসের ওজনটা ম্যাটার করে না; যেটা করে, সেটা হল আপনি কতক্ষন গ্লাসটা ধরে আছেন।  আপনি যদি গ্লাসটা এক বা দুই মিনিটের জন্য ধরে রাখেন, তবে এটাকে মোটামুটি হাল্কাই মনে হবে, কিন্তু যদি এক ঘণ্টা ধরে থাকেন… আস্তে আস্তে হাত ব্যাথা শুরু হবে। আর যদি বলা হয়, পুরো একদিন এই ফাঁকা গ্লাস ধরে থাকতে, তাহলে? ভাবতে পারছেন কি হবে? হাত প্রায় পক্ষাঘাতগ্রস্তর মতন অসাড় হয়ে যাবে, গ্লাস আপনেআপ হাত থেকে পরে যাবে।   ভাবছেন তো, স্ট্রেসের কথা বলতে গিয়ে কি সব হাবিজাবি বলে যাচ্ছি? দেখুন, যে পরীক্ষার কথা বলছিলাম, সেখানে প্রতিটা ক্ষেত্রে কিন্তু গ্লাসের ওজন একই ছিল, কিন্তু যত বেশি সময় ধরে রাখা হচ্ছিল, তত ভারি অনুভব করা যাচ্ছিল। তাই কি না? ঠিক একই রকম ভাবে আমাদের জীবনের স্ট্রেস মানে চাপ...

যাদু দাওয়াই

  বাজারে একটা নতুন যাদু ট্যাবলেট এসেছে- যেটা আপনার হ্যাপিনেস বাড়িয়ে দেবে – জানেন কি? আমি একটা নতুন ট্যাবলেটের খবর পেয়েছি যেটা আমাদের উদ্বেগ শুধু কমাবে তাই নয়, আমাদের মানসিক সুখ ও শান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এছাড়া ওষুধটার যে যে সাইড এফেক্টগুলো রয়েছে, তা হল – এটা আপনার মধ্যে আত্মসম্মানবোধ, সহানুভূতি, আত্মবিশ্বাস ও স্মৃতিশক্তিও বাড়িয়ে দেবে।  কিন্তু একটাই মুশকিল।  ট্যাবলেটের দামটা বেশ বেশি প্রায় ৬০০ আর দিনে একবার অন্ততপক্ষে নেওয়া খুব জরুরি।  হ্যাঁ, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এই ওষুধটার জন্য দোকানদার আপনার থেকে মাত্র ৬০০ সেকেন্ড দাবী করেন। আপনি আপনার কাছে দোকানগুলোতেও এই ওষুধটির খবর নিতে পারেন।  এটি একটি ব্লকবাসটার ড্রাগ। আর নাম হল – “মেডিটেশান”। হা হা হা 600 seconds = 10 mins a day, that’s all . তাহলে, আপনি কি এটা কিনছেন ? জলদি সিদ্ধান্ত নিন। স্টক কিন্তু লিমিটেড। আমি বলে দিচ্ছি, আমি কিভাবে এটা নিই। আমি একটা শান্ত জায়গায় বসি, চোখ বন্ধ করে, নিজের দুটি ভ্রুর মাঝে মনঃসংযোগ ঘটানোর চেষ্টা করি। মনের ভাবনাগুলোকে আটকাই না। তারা নিজেদের মতন যাওয়াআসা করে। আমি শুধু জয়তিকে বলতে থাকি, আমা...

International Tea Day 2021

  ইদানীং সব কিছুতেই একটু লেট করছি। খানিকটা ইচ্ছাকৃত। সময়ের বাঁধনটা তো নিজের মতন করে হাল্কা বা কষা করা যায়, সেই আহ্লাদ আর কি। তাই গতকাল বিশ্ব চা-দিবসের জন্য যা ভেবেছিলাম, সেটা আজ লিখছি। অ্যাকচুয়ালি, ঘটনাটা ঘটেছিল এই বছরের ২৯শে জানুয়ারি। কাজের সুত্রে হঠাত আলাপ চন্দনের সাথে। বুঝলাম, যোগাযোগটা আকস্মিক নয়, প্রিডেসটাইন্ড। লাইক মাইন্ডেড কানেকশান আর কি। জানলাম বিখ্যাত গ্রুপ ক্যালকাটা ফুডিস ক্লাবকে। বুঝলাম, গ্রুপটা আসলে কিছু এমন মানুষের সমষ্টি যারা সত্যি কাজ করছেন এবং আরও কাজ করতে চান সমাজ নিয়ে, সাহায্যের হাত বাড়াতে চান, যেখানে সত্যি দরকার। আমন্ত্রন পেলাম, কেস্টপুরের ভেতরের দিকে একটা স্পেশাল চাইল্ড হোমে যাওয়ার, যেখানে ক্যালকাটা ফুডিস ক্লাব সেই হোমের সদস্যদের সাথে কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করবে, এবং কি কি কাজ করতে পারা যায়, দেখা হবে। সেদিন যেতে পারি নি, পদস্খলনের শিকার হয়েছিলাম। তারপর, গ্রুপের কোর মেম্বারদের সাথে একদিন লম্বা কনকলের পর ঠিক হল সামনাসামনি কথা বলা হবে। সেই সুত্রেই সবাই জরো হয়েছিলাম, বৈশাখী ফুটব্রিজের কাছে সিল্কস্ট্রিম এক্সলুসিভ টি আউটলেটে। চা যে এত ধরনের হয়, আমরা যে ভাবে চা খাই, সে...

প্রাপ্তি স্বীকার _ ইন্দ্রানীদি

  Todd Henry তার “Die Empty” বইতে লিখেছিলেন যে, একটি বিশেষ বিজনেস মিটিঙে গিয়ে তিনি তার বইটি লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। মিটিঙে একজন ডিরেক্টর সমস্ত শ্রোতাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন – "Where is the richest land in the world?" কেউ কেউ বলেছিল - "Oil-rich Gulf states." আবার কেউ কেউ উত্তর দিয়েছিল - "Diamond mines in Africa." কিন্তু নাহ! উত্তরে ডাইরেক্টর যা বলেছিলেন, সেইটাই ছিল হেনরি সাহেবের বই লেখার অনুপ্রেরণা। উত্তরটা ছিল – “"No it is the cemetery. Yes, it is the richest land globally, because millions of people have departed/died and carried many valuable ideas that did not come to light nor benefit others. It is all in the cemetery where they are buried." ইন্দ্রাণীদি – আমার কাছে এক আইডিয়ার ভাণ্ডার। দিদিকে কাছে পেয়েছি বইবন্ধুর সাথে কাজ করতে গিয়ে। ছন্দকের আমন্ত্রণে বইবন্ধুর প্রথম মিটিঙে (সল্টলেক, কথোপকথন) গিয়ে নিজেকে খুব ঋদ্ধ মনে হচ্ছিল। এত গুণীজন সমাবেশে ভাগ নেওয়ার সুযোগ তো চট করে হয় না। সেদিনের পর Chhandak এর সুত্র ধরেই আলাপ Pijush এর সাথে, Atanu র...

অভিসার

  Image Courtesy: Ananya Mukherjee  সেই যে মেঘলা দিন বয়েছিল হিমেল হাওয়া, বহু প্রতীক্ষিত ক্ষণ গিয়েছিল হয়ে পাওয়া। এক ইথার তরঙ্গ জুড়ে দিয়েছিল দুই পথ ডাক পেয়েছিল সাড়া ছিল না কোনোও শপথ। তোমার হাতের তালু আমার কপাল চিবুক ঠোঁট ত্বক ভেদ করা পরশ জমিয়েছে বন্ধ চোখ। জানলা খোলা ভোর উদ্ধত ঝাউবন 'এ মুহুর্ত অমলিন হোক না' বলেছে মন। কাঠে আগুনের ধিকিধিকি ওড়ে অভিসারী এক ধোঁয়া দূরে থেকেও অনুভূত এক গভীর ওমের ছোঁয়া।

৮ই ফেব্রুয়ারি, 2021

  রোজ অফিস থেকে ফেরার পথে মাকে ফোন করতাম, কি কি আনতে হবে জানতাম; কোনও কোনোদিন মা মেসেজ করে দিত; সেদিন – ৩০শে ডিসেম্বর; সোমবার ছিল। মা বলেছিল বিস্কুট নিয়ে আসতে। অটো করে বৈশাখীতে নেমে হাঁটতে হাঁটতে কেষ্টপুর। এসেই মনে পরল, আজ তো সোমবার, বাড়ির পাশের দোকানটা বন্ধ। বাড়ি এলাম বিস্কুট না নিয়েই। এসেই তড়পাই – তাতানকে তো বলা যেত। সবসময় আমি কেন আনব। চিরকালের ম্যানেজ করা স্বভাব মায়ের। সকালে বিস্কুটটা নাতির চাইই চাই। নো প্রবলেম; চারতলার পুলকদা কে ফোন করে বলে দেওয়া হল, আসার সময় তার দোকান থেকে যেন এক প্যাকেট বিস্কুট নিয়ে আসে। আমি তো রাজরানী টাইপ। খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পরেছি। তখন প্রায় রাত সোয়া ১১টা; তাতানের চিৎকার – ‘বুয়া মা – কি হল?’; ধরমর করে উঠে দেখি, মা দরজার সামনে পরে আছে, হাতে বিস্কুটের প্যাকেট, দরজার পর্দা রডসহ খুলে পরে আছে। পুলকদা দাঁড়িয়ে। বেল বেজেছিল, তাতান আলস্যভরে দরজা খোলে নি। মা খুলতে গিয়ে, পায়ের স্টেপ গড়বর করে, পর্দা ধরে সাপোর্ট নিতে গিয়ে –ধপাস। হাত ভেঙ্গে গিয়েছিল বোঝা যাচ্ছিল। পরে এন আর এস-এ গিয়ে জানলাম, পায়ের ফিমার বোনও ফ্রাকচারড।অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এন আর এস থেকে ক্যালকাটা হার্ট ক্লি...